Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২১ সোমবার, অক্টোবার ২০১৯ | ৬ কার্তিক ১৪২৬ | ঢাকা, ২৫ °সে

লাখো মানুষের কাছে নুসরাতের জন্য ক্ষমা চাইলেন ভাই নোমান

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১ এপ্রিল ২০১৯, ০৯:৩২ PM
আপডেট: ১১ এপ্রিল ২০১৯, ০৯:৩৪ PM

bdmorning Image Preview


নুসরাত জাহান রাফির জানাজায় অংশ নিতে আত্মীয়-স্বজন বন্ধু পাড়া-প্রতিবেশি সহ সোনাগাজীর সর্বস্তরের মানুষের ঢল নেমেছে সোনাগাজীতে। এসময় স্বজনদের কান্না আর সর্বস্তরের মানুষের ক্ষোভ চোখে পড়েছে সর্বত্র। লাখো মানুষ অশ্রুসিক্ত নয়নে বিদায় দিয়েছেন ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসা কেন্দ্রে আগুনে পুড়ে নিহত আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে। নুসরাত জাহান রাফির জানাজায় বোনের জন্য ক্ষমা চাইলেন বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় সোনাগাজী সাবের পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে নুসরাতের মরদেহ দাফন করা হয়। জানাজায় ইমামতি করেছেন নুসরাতের বাবা মাওলানা একেএম মুসা।

চোখের পানিতে বুক ভিজিয়ে নুসরাতকে কবরে শায়িত করেন বাবা মাওলানা মুসা মানিক ও বড় ভাই নোমানসহ আত্মীয়-স্বজনরা। এ সময় কবরস্থান এলাকায় তৈরি হয় হৃদয়বিদারক পরিস্থিতি। নুসরাতের বাবা ও ভাইয়ের চোখের পানিতে ভিজে যায় কবরের মাটি।

এর আগে সকাল থেকে আত্মীয়-স্বজনসহ জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে দলে দলে নারী-পুরুষ তাদের বাড়িতে ভিড় জমান। বিকেল ৫টায় সোনাগাজী পৌরসভার উত্তর চর চান্দিয়া গ্রামের বাড়িতে নুসরাতের মরদেহ পৌঁছালে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, এত মানুষের ঢল শুধু নামাজের জানাজায় অংশ নেয়াই উদ্দেশ্য নয়। এটা এই জঘন্য ঘটনার প্রতিবাদও বটে। মাঠে উপস্থিত হয়েছেন, নুসরাতের বাবা-ভাইসহ স্বজনরা। নামাজের আগে বক্তব্য দেন স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দেন।

নুসরাতের বাবা একেএম মুসা, মা শিরিনা আক্তার, বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান, ছোট ভাই রাশেদুল হাসান রায়হান বার বার মূর্ছা যান। নুসরাতের মরদেহ একনজর দেখতে সকাল থেকে অপেক্ষা করা মানুষের চোখে ছিল পানি।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে নুসরাতের মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে মানুষের ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হয়েছে। পরে সেখানে উপস্থিত আত্মীয়-স্বজনসহ আগতদের মরদেহ না দেখিয়ে সোনাগাজী সাবের পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নিয়ে আসা হয়।

সেখানে লাখো মানুষের উপস্থিতিতে জানাজা-পূর্ব কার্যক্রম শুরু করেন সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র রফিকুল ইসলাম খোকন।

এ সময় বক্তব্য রাখেন ফেনী ইউনিভার্সিটি ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম, জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুজজামান, পুলিশ সুপার এসএম জাহাঙ্গীর আলম সরকার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) পিকেএম এনামুল করিম, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আবদুর রহমান বিকম, সোনাগাজী উপজেলার চেয়ারম্যান জেড এম কামরুল আনাম, চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন মাহমুদ লিফটন, সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহেল পারভেজ, নুসরাতের বাবা একেএম মুসা ও বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান।

এদিকে, নুসরাত জাহান রাফির জানাজায় বোনের জন্য ক্ষমা চাইলেন বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান। জানাজা-পূর্ব বক্তব্যে কান্নাজড়িত কণ্ঠে দেশবাসীর কাছে দোয়া ও ক্ষমা প্রার্থনা করেন হাসান নোমান।

তিনি বলেন, পাঁচদিন ধরে সারাদেশের মানুষ আমার বোনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। ঢাকা মেডিকেলের চিকিৎসকরা বোনকে সুস্থ করতে আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন। দেশবাসীর কাছে আমরা কৃতজ্ঞ। তবে আমার বোনের হত্যাকারীদের বিচার চাই।

এর আগে বুধবার রাত সাড়ে ৯টায় ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নুসরাত জাহান রাফি। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করেন চিকিৎসকরা। দুপুর ১২টায় মরদেহ নিয়ে রওনা হয়ে বিকেল ৫টায় বাড়িতে পৌঁছে নুসরাতের মরদেহ।

৬ এপ্রিল শনিবার সকালে আলিম পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসায় যান নুসরাত জাহান রাফি। ওই সময় তার বান্ধবী নিশাতকে ছাদের উপর কেউ মারধর করেছে এক ছাত্রীর এমন সংবাদে ভবনের চারতলায় যান তিনি। সেখানে মুখোশ পরা চার-পাঁচ ছাত্রী তাকে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে মামলা ও অভিযোগ তুলে নিতে চাপ দেয়। এতে অস্বীকৃতি জানালে তার গায়ে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায় তারা।

এ ঘটনায় অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা ও পৌর কাউন্সিলর মুকছুদ আলমসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন নুসরাত জাহান রাফির বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান।

Bootstrap Image Preview