Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২৫ বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২০১৯ | ১২ বৈশাখ ১৪২৬ | ঢাকা, ২৫ °সে

শিক্ষক যখন ধর্ষক

জামশেদুর রহমান
প্রকাশিত: ১০ এপ্রিল ২০১৯, ০৫:০৮ PM
আপডেট: ১০ এপ্রিল ২০১৯, ০৫:০৮ PM

bdmorning Image Preview
প্রতীকী


একজন শিক্ষক, যিনি একজন রক্ষক হয়েও ভক্ষকের ভূমিকায় কাঠগড়ায়। তখন কোথায় গিয়ে পৌঁছে যায় সেখানকার শিক্ষানীতি। এসকল ঘটনায় উদ্বিগ্ন সচেতন মহল। যেখানে গেলে শিক্ষার আলোয় আলোকিত হবে শিক্ষার্থীরা, যার কাছে গিয়ে শিক্ষা পাবে, অথচ তিনিই গায়ে লাগিয়ে দিচ্ছেন কলঙ্গের দাগ। জীবনকে ঢেলে দিচ্ছেন অন্ধকারের দিকে। শিক্ষার মূলনীতি যে শিক্ষকের ভেতরে নেই শিক্ষকতা তাদের হয়ে গেছে পেশাবৃত্তি। ওইসব শিক্ষকের দৃষ্টি ছাত্রীদের সু-মিষ্টি হাসি আর ওড়না উড়ানো বাতাসের গন্ধে! শিক্ষক তার শিক্ষকতার মূল আদর্শ ভুলে শিক্ষার্থীদেরকে ধর্ষণ করতে বসেছে।

একটা কথায় আছে যে, অর্থ সম্পদের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো চরিত্র। যে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের চরিত্র গঠন করার কথা আজ তাদের চরিত্র এখন অনেকটা বিচিত্র। শিক্ষক নিয়মানুবর্তিতার শিক্ষা দেন যে জীবন নিয়মের সুতায় বোনা। কিন্তু কিছু নামধারী লম্পট শিক্ষক আজ অনৈতিক কার্যকলাপে লিপ্ত হচ্ছে। এদের কারণে প্রকৃত শিক্ষকরা তাদের সামাজিক মর্যাদা হারাচ্ছে। এসব শিক্ষকদের মনোযোগ এখন আর শিক্ষাদানের দিকে নয় বরং কুরুচিপূর্ণ কার্যকলাপের দিকে।

স্কুল শিক্ষকের আর্দশে অনুপ্রাণিত হয়ে অনেকেই স্বপ্ন বুনে অভিভাবকরা তাদের ছেলে-মেয়েদের ভবিষৎ পরিকল্পনা ভাবে শিক্ষকতার দিকে। কিন্তু শিক্ষকের আর্দশ আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। নীতি আর নৈতিকতার মুখোশে মুখ ঢেকে কিছু কু-শিক্ষকের কীর্তিকলাপ যখন প্রতিদিনের খবরের শিরোনামে জলজল করছে তখন লজ্জায় বাকী শিক্ষকদেরও মাথা নিচু হয়ে যায়। স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা  থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত যৌন হয়রানি আজ নিত্য নৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি সময়ে দেশে বেশ কয়েকটি শিক্ষকের হাতে ছাত্রী যৌন হয়রানির ঘটনা ঘটেছে। এরই জেরে এখনও আন্দোলন হচ্ছে।

গত ২৭ মার্চ ফেনীর জেলার সোনাগাজী উপজেলার সোনাগাজী সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার আলিম ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাহর বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ছাত্রীর অভিভাবক জানার পর ছাত্রীর মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর অভিযুক্তকে পুলিশ গ্রেফতার করে জেলহাজতে প্রেরণ করে।

ঘটনাক্রমে ৬ এপ্রিল সকালে ছাত্রী পরীক্ষা দেওয়ার জন্য গেলে পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগ মূহর্তে মাদ্রাসার ছাত্রীকে কৌশলে ভবনের ছাদে নিয়ে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করে দৃর্বত্তরা। এ ঘটনায় দেশে ব্যাপক আলোচিত হয়। প্রধানমন্ত্রী নিজে আহত ছাত্রীর চিকিৎসার দায়িত্ব নেন এবং ঘটনার অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত গ্রেফতারের নির্দেশ দেন।

এ ছাড়া ও নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের উত্তর চরক্লার্ক সরকারি প্রাথমিক এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ঘটনায় ভুক্তভোগীরা বাবা বাদি হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

এদিকে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন একাডেমিতে নবম শ্রেণির দুই ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

এছাড়া ও আরো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিক যৌন হয়রানির অভিযোগের ঘটনা ঘটছে। তবে একটা সময় শিক্ষকতা সমাজের সর্বোপরি মর্যাদাপূর্ণ পেশা ছিল। সে মর্যদায় এখন পছন ধরেছে। আমাদের সমাজে এখনও অনেক সৎ নিষ্ঠাবান শিক্ষক আছেন। যারা প্রতিনিয়ত অপমান বোধ করছেন কু-শিক্ষকদের অনৈতিক কার্যকলাপে। এখনও সময় আছে এইসব শিক্ষকদের পরিবর্তন করার। শিক্ষকতা পেশাকে যেন কুলষিত করতে না পারে সেদিকে সচেতন নাগরিকের দৃষ্টি রাখা উচিত। শিক্ষক শুধু মানুষ গড়ার কারিগরই নয় সমাজ গড়ার কারিগরও।

Bootstrap Image Preview