Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২৫ বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২০১৯ | ১২ বৈশাখ ১৪২৬ | ঢাকা, ২৫ °সে

নৌকার কেউ এখানে থাকতে পারবে না ‘ঠ্যাং ভাইঙা দিমু’: নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৬ এপ্রিল ২০১৯, ০৭:১৮ PM
আপডেট: ০৬ এপ্রিল ২০১৯, ০৮:২৯ PM

bdmorning Image Preview
সংগৃহীত


ব্রাহ্মণবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ভোট কেন্দ্রে গাড়ি থেকে নেমেই তর্জনি উচিয়ে সামনের দিকে হেঁটে আসছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. কামরুজ্জামান বিজয়। উচ্চস্বরে তিনি বলছেন, যাও এখান থেকে, যাও। সঙ্গে সঙ্গেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা লাঠি নিয়ে নৌকার সমর্থক ও সাধারণ ভোটারদের ধাওয়া করে।

সামাজিক যোগযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে এমন দৃশ্যই দেখা যায়।

চতুর্থ ধাপের উপজেলা নির্বাচনে ভোট গ্রহণ চলাকালে সকাল ৯টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ভোট কেন্দ্রে এসে উপস্থিত হন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. কামরুজ্জামান বিজয়। এসেই হুমকি দেন আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকদের।

কেন্দ্রের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি ইশারায় মারের ভঙ্গি দেখিয়ে তিনি আরও বলছেন, ‘আরেকবার যদি এদিকে আসছ -ঠ্যাং ভাইঙা দিমু কিন্তু।’

এরপরই নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট কামরুজ্জামান কেন্দ্রের বাইরে ভোটার স্লিপ দেওয়ার টেবিলের দিকে স্লীপ কোন প্রার্থী, কোন প্রার্থী বলে এগিয়ে যান। বলেন- ‘এখানে নৌকার কেউ থাকতে পারবে না।’

তিনি টেবিলের সামনে গিয়ে বলতে শুরু করেন, ‘আনারস হলে ঠিক আছে।’ এ সময় ভয়ে আওয়ামী লীগের সমর্থকরা তাদের সাথে থাকা নৌকার ব্যাজ-লিফলেট লুকিয়ে ফেলে।

ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সুজন দত্ত। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘এমন করার কারণ জানতে চাইলে কামরুজ্জামান আমাকে বলেন এটা নাকি উপরের নির্দেশ। আমি বেশি কথা বললে আমাকে সে ৩ মাসের সাজা দিয়ে দেবে।’

সুজন জানান, ভোটের দিন শুধু কেন্দ্র বা এর আশপাশেই দায়িত্ব পালন করে ক্ষান্ত হননি কামরুজ্জামান। শহরের সর্বত্র যেখানে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পেয়েছেন তাদের ওপর চড়াও হয়েছেন। তার নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মারধর করেছে।

জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি রবিউল হোসেন রুবেল জানান, দুপুর ১২টা নাগাদ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি দল নিয়ে তার বাড়িতে চড়াও হন সহকারী কমিশনার মো. কামরুজ্জামান। এ সময় তিনি তার বৃদ্ধা মাকে ডেকে বলতে থাকেন, ‘এই নেতার মা,তর পুত কই,বাইর কর।’ তাকে না পেয়ে তার বাসার গেটে লাথি মারারও অভিযোগ তোলেন রুবেল।

Bootstrap Image Preview