Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৭ সোমবার, জুন ২০১৯ | ২ আষাঢ় ১৪২৬ | ঢাকা, ২৫ °সে

উপ-উপাচর্যের আশ্বাসে অনশন ভাঙলেন সাত শিক্ষার্থী

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৬ মার্চ ২০১৯, ১২:১১ PM
আপডেট: ১৬ মার্চ ২০১৯, ১২:৩৪ PM

bdmorning Image Preview


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগে রাজু ভাস্কর্যে আমরণ অনশনে বসা সাত শিক্ষার্থী অনশন ভেঙেছেন।

শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টায় অনশনের চতুর্থ দিনের মাথায় নির্বাচনে অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্তের উপ-উপাচার্যের আশ্বাসে অনশন ভাঙেন তারা।

অনশনে বসা শিক্ষার্থীরা হলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শোয়েব মাহমুদ, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের মীম আরাফাত মানব, একই বিভাগের চতুর্থ বর্ষের তাওহীদ তানজীম, পপুলেশন সায়েন্সের দ্বিতীয় বর্ষের মো. মাঈনউদ্দিন, দর্শন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের অনিন্দ্য মণ্ডল, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের রাফিয়া তামান্না এবং প্রাণিবিদ্যা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের আল মাহমুদ তাহা।

এর মধ্যে মীম আরাফাত মানব ডাকসুর কেন্দ্রীয় সংসদে প্রগতিশীল ছাত্র ঐক্য সমর্থিত প্যানেলে আন্তর্জাতিক সম্পাদক, তাওহীদ তানজীম স্বতন্ত্রভাবে ডাকসুতে ছাত্র পরিবহন সম্পাদক, শোয়েব মাহমুদ শহীদুল্লাহ হল সংসদে প্রগতিশীল ছাত্র ঐক্য মনোনীত সাহিত্য সম্পাদক, অনিন্দ্য মণ্ডল জগন্নাথ হলে প্রগতিশীল ছাত্র ঐক্য সমর্থিত সদস্য এবং মো. মাঈনউদ্দিন হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল সংসদে প্রগতিশীল ছাত্র।

জানা যায়, অনশন ভাঙাতে এসে সহউপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ আবদুস সামাদ অনশনকারীদের উদ্দেশে বলেন, তোমাদের যেসব অভিযোগ আছে সেগুলো সমাধানের চেষ্টা করা হবে। তোমরা কনভিন্সড হও। অনশন ভাঙো।এ সময় অনশনকারীদের সমর্থনে বসে থাকা শিক্ষার্থীরা নির্বাচনের বিভিন্ন কারচুপির কথা বলেন সহউপাচার্যকে। তখন সহউপাচার্য আবার শিক্ষার্থীদের এসব অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।

এরপর অনশনকারীদের পক্ষ থেকে বলা হয়, উপাচার্য স্যার তো সব জায়গায় সুষ্ঠু নির্বাচনের কথা বলছেন। তিনি আদৌ এগুলোর সমাধান করবেন কি না? তখন সহউপাচার্য অনশনকারীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করার প্রস্তাব দেন।

এরপর অনশনকারীদের পক্ষ থেকে সহউপাচার্যকে বলা হয়, নির্বাচনে এক প্রার্থীর দ্বারা অন্য প্রার্থীর ওপর হামলা করার ঘটনা ঘটেছে। সেটার বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে? তখন সামাদ বলেন,তোমারা প্রমাণ দেখাতে পারলে অবশ্যই একটা ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখন তোমারা শুধু অনশন ভাঙো।

শিক্ষক সমিতির সভাপতি মাকসুদ কামাল বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে যত ধরনের সহযোগিতা করা দরকার সেটা করা হবে। সে জন্য তোমাদের বসতে হবে। আমরা উপাচার্যকে এটাও বলব তিনি যেন আন্তরিকতার সঙ্গে তোমাদের কথা শোনেন। এই বিশ্ববিদ্যালয় তোমাদের যেমন তেমনি আমাদেরও। তাই এর সম্মান যাতে ক্ষুণ্ন না হয় সে জন্য সব সময় আমরা তোমাদের সঙ্গে আছি।

শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে ভিপি নুরুল হক বলেন, নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে বলেই মৈত্রী হলের প্রাধ্যক্ষকে অপসারণ করা হয়েছে। আমি আপনাদের সঙ্গে আছি, আপনাদের সঙ্গে থাকবো। আজ আকাশের অবস্থা ভালো না। আপনারা অনশন ভাঙুন।

উল্লেখ্য,ভোটে কারচুরি,ব্যালট বাক্স ছিনতাই, রাতের আধারে জালভোট,ভোটকেন্দ্র নিয়ন্ত্রণসহ ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন বাতিল চেয়ে অনশন শুরু করে সাত শিক্ষার্থী।

Bootstrap Image Preview