Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২৬ বুধবার, জুন ২০১৯ | ১১ আষাঢ় ১৪২৬ | ঢাকা, ২৫ °সে

এরদোগানের মৃত্যু চায় মসজিদের সেই হামলাকারী

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৫ মার্চ ২০১৯, ১০:৪৮ PM
আপডেট: ১৫ মার্চ ২০১৯, ১০:৪৮ PM

bdmorning Image Preview


নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ শহরে হ্যাগিল পার্ক এলাকায় দুই মসজিদে অস্ট্রেলীয় জঙ্গি ব্রেন্টন ট্যারান্টের হামলায় ৪৯ জন মুসল্লি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে তিন বাংলাদেশিও রয়েছেন। নিউজিল্যান্ডের স্থানীয় সময় শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজ শুরু হওয়ার কিছু পরেই কালো কাপড় ও হেলমেট পরা এক বন্দুকধারী আল নুর মসজিদে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি করে শুরু করে। তারপর জানা যায়, শহরের আরো একটি মসজিদে হামলার ঘটনা ঘটেছে।

সন্ত্রাসী অ্যান্ডার্স ব্রেইভিকের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে নিউজিল্যান্ডে হামলা চালিয়েছে ব্রেনটন টেরেন্ট নামের অস্ট্রেলিয়ান এক নাগরিক। একই সঙ্গে সে জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়্যিপ এরদোগান এবং লন্ডনের মেয়র সাদেক খানের মৃত্যু কামনা করেছে।

৮৭ পৃষ্ঠার ‘ম্যানিফেস্টো’তে এসব তথ্য প্রকাশ করেছে সে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডেইলি মেইল। এতে ক্রাইস্টচার্চের হামলায় কিভাবে সে উদ্বুদ্ধ হয়েছে, তার বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে। ওই ‘ম্যানিফেস্টো’র নাম দিয়েছে সে ‘দ্য গ্রেট রিপ্লেসমেন্ট’। হত্যাযজ্ঞ চালানোর আগে শুক্রবার সকালে এটি প্রকাশ করে সে। ক্রাইস্ট চার্চের মসজিদ সে কেন বাছাই করেছে এবং কিভাবে নরওয়ের ঘাতক অ্যান্ডার্স ব্রেইভিকের দ্বারা উদ্বুদ্ধ হয়েছে, তার বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে এতে।

প্রসঙ্গত, ২০১১ সালে সন্ত্রাসী হামলায় নরওয়েতে ৭৭ জনকে হত্যা করে অ্যান্ডার্স ব্রেইভিক। এছাড়া, ওই ডকুমেন্টে সে ফিন্সবারি পার্কে হামলা চালানো সন্ত্রাসী ড্যারেন অসবোর্নের কথাও উল্লেখ করেছে। ডকুমেন্টের বিষয়ে বৃটেনের সন্ত্রাস বিরোধী গ্রুপ হোপ নট হেইট-এর নিক লোওলেস বলেছেন, ক্রাইস্টচার্চের ওই হামলা চালিয়েছে উগ্র ডানপন্থি সন্ত্রাসী। যে একটি ম্যানিফেস্টোতে হামলা চালানোর কারণ ব্যাখ্যা করেছে।

এতে টেরেন্ট দাবি করেছে, সুইডেনে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত বালিকা এবা অকারল্যান্ডসহ অন্যদের হত্যার প্রতিবাদে সে এই হামলা চালিয়েছে। সে নিজেকে একজন সাধারণ শ্বেতাঙ্গ বলে দাবি করেছে। যে নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া পরিবারের সন্তান। শিক্ষার প্রতি তার আগ্রহ ছিল সামান্য। কোন বিশ্ববিদ্যালয়েও যোগ দেয়নি সে।

এরপরেই পয়েন্ট আকারে হামলার বেশ কতগুলো কারণ উল্লেখ করা হয়। সেগুলো হলো-

১. ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ে ইউরোপীয় ভূ-খণ্ডে অনুপ্রবেশকারীদের ফলে হাজার হাজার মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে।

২. অনুপ্রবেশকারী মুসলমানদের ফলে লক্ষ লক্ষ ইউরোপবাসীর কাজ হারানোর প্রতিশোধ নিতে।

৩. ইউরোপীয় ভূ-খণ্ডে সন্ত্রাসী হামলায় হাজার হাজার মানুষের মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে।

৪. এবা আকেরলান্ডের মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে।

(২০১৭ সালের ৭ এপ্রিল উজবেক এক জঙ্গির হামলায় সুইডেনের স্টকহোম শহরে লড়ি চাপায় পাঁচজন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ছিল এবা আকেরলান্ড নামে এক শ্রবণপ্রতিবন্ধী মেয়ে। স্কুল থেকে ফেরার পথে মায়ের সঙ্গেই লড়ির নিচে চাপা পড়ে তাঁর মৃত্যু হয়)

৫. ভয় দেখিয়ে ও সশরীরে হটিয়ে দিয়ে ইউরোপীয় ভূ-খণ্ডে অনুপ্রবেশকারীদের অভিবাসন হার কমাতে

৬. শত্রুপক্ষকে উত্তেজিত করে প্রত্যক্ষ লড়াইয়ে নামানো, যাতে করে তারা অনিবার্য নেতিবাচক পরিণতির মুখোমুখি হয়।

৭. ভূমি দখলকারী অনুপ্রবেশকারী আর ইউরোপবাসীর মধ্যে সহিংসতা, প্রতিশোধস্পৃহা আর বিভাজনকে জাগিয়ে তুলতে।

৮. আমার মানুষকে প্রত্যক্ষ সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ করতে। যারা এ কাজ করতে চায় তাদের চলার পথ আলোকিত করতে। তাদের জন্য যারা পূর্ব-পুরুষের ভূখণ্ডকে অনুপ্রবেশকারীদের হাত থেকে রক্ষা করতে চায়। আর তাদের জন্য বাতিঘর হতে যারা একটা স্থিতিশীল সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বজায় রাখতে চায়, তাদের জানাতে যে, তারা একা নয়।

৯. আতঙ্ক আর পরিবর্তনের একটা পরিবেশ তৈরি করতে, যাতে বিধংসী, বিপ্লবী কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়।

১০. ইতিহাসের গতিতে বিশেষ আন্দোলন তৈরির মাধ্যমে পশ্চিমা বিশ্বকে অস্থিতিশীল করতে; নাস্তিবাদী, ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদী, ভোগবাদী, উন্মাদ চিন্তা যার দখল নিয়েছে।

১১. তুরস্ক বাদে ন্যাটোভুক্ত অন্য দেশগুলোর মাধ্যমে সম্মিলিত ইউরোপীয় সেনাবাহিনী গঠন করে তুরস্ককে আরো একবার বিদেশি শত্রুপক্ষ হিসেবে তার সত্যিকারের অবস্থান ফিরিয়ে দেওয়া।

এ ছাড়া ৭৩ পৃষ্ঠার ওই ইশতেহারে আরো নানামুখী আদর্শ ও কারণের কথা উল্লেখ করা হয়।

এ হামলা ও ইশতেহারের সঙ্গে সন্ত্রাসী সংগঠন ‘ব্ল্যাক সান’ জড়িত বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে। ব্রেন্টন টারান্ট কুখ্যাত ব্ল্যাক সানের সদস্য। তার প্রকাশিত ইশতেহারে ব্ল্যাক সানের লোগোও দেখা যায়। এ ঘটনার পর ‘ব্ল্যাক সান’ নিয়ে বিশ্বজুড়ে হৈচৈ শুরু হয়েছে।

সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ব্ল্যাক সান সংগঠনটিকে নব্য নাৎসিবাদীদের সংগঠন হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়ে থাকে। এই সংগঠন কবে কোথায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তা জানা যায় না।

Bootstrap Image Preview