Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২৬ বুধবার, জুন ২০১৯ | ১১ আষাঢ় ১৪২৬ | ঢাকা, ২৫ °সে

তামিমরা বাসে কান্নাকাটি করছিলো, কিভাবে প্রাণে বেঁচে গেলেন জানালেন  খালেদ মাসুদ পাইলট

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৫ মার্চ ২০১৯, ০১:৫৫ PM
আপডেট: ১৫ মার্চ ২০১৯, ০১:৫৫ PM

bdmorning Image Preview


ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় অল্পের জন্য প্রাণে বেচে গিয়েছে টাইগাররা। ৩-৪ মিনিট আগে মসজিদে ঢুকলে হয়তো বড় ধরণের ক্ষতি হতে পারতো। প্রায় পঞ্চাশ গজ দূর থেকে সেই সন্ত্রাসী হামলা  বাসের মধ্যে থেকে দেখেছেন দলের ম্যানেজার খালেদ মাসুদ পাইলট। হোটেলে ফিরে জানালেন সেই ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কথা। 

ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে পাইলট জানান,আসলে মনে হয় ঘটনাটি মনে হয় সবাই দেখেছেন। আমরা কেউ চাই না এই ধরণের দুর্ঘটনা হোক। কোন দেশেই যেন না হয়  কিন্তু আমরা সবাই অনেক সৌভাগ্যবান যে আমরা অনেকেই বাসে ছিলাম প্রায় ১৭ জনের মত। এর মধ্যে সৌম্য সরকারও ছিলো।আমরা সবাই নামাজ পড়তে যাচ্ছিলাম। এর মধ্যে দুই জন হোটেলে ছিলো। ঘটনার সময় আমরা খুবই কাছে ছিলাম।মসজিদটি আমরা খুব কাছ থেকে দেখতে পারছিলাম। প্রায় পঞ্চাশ গজ দূরে ছিলাম।

আমি বলবো যে খুবই লাকি যে আর যদি ৩-৪ মিনিট আগে চলে আসতাম তাহলে মসজিদের ভিতরে থাকতাম। তাহলে বিশাল বড় ম্যাসিভ একটা ঘটনা ঘটে যেত। কিন্তু আমি শুকরিয়া আদায় করবো যে এই ধরণের কিছুই ঘটেনি। কিন্তু ঘটনা আমরা বাসের মধ্যে থেকে দেখেছে। একটা মুভি দেখলে যেমন মনে হয় রক্তত অবস্থায় সবাই ছুটা চুটি করছে বেরিয়ে আসছে । কেউ ভিতরে আছে । প্রায় ৮-১০ মিনিট আমরা বাসের মধ্যেই ছিলাম। আমরা সবাই মাথা নিচে করে ছিলাম কোন কারণে যদি ফায়ার হতে থাকে। পরে যখন ভাবলাম যারা সন্ত্রাসী আসে তাঁরা যদি এলো পাথাড়ি গুলি ছুঁড়তে থাকে তাহলে তো বিপদ।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ টেস্ট খেলা হবে নাকি না করেই দেশে ফিরে আসবে এই প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, এখনো ফাইনাল ডিসিশন হয়নি। কারণ ফ্লাইটের একটা ব্যাপার থাকে, টিকিটের ব্যাপার থাকে। দুই একজন হলে খুব ইজি হতো কিন্তু আমরা উনিশ জনের মত ঢাকা যাবো এবং অন্যান্য যারা সাপোর্টার তাঁরা কেউ ওয়েস্ট ইন্ডিজ যাবে কেই সাউথ আমেরিকায় যাবে। তাঁরা হয়তো খুব তাড়াতাড়ি টিকিট পেয়ে যাবে। কিন্তু এই উনিশ জনের জন্য এক ফ্ল্যাইটে না হলেও আগে পিছে যে ভাবে হোক এখান থেকে বের হতে পারি। 

এমন পরিস্থিতে খেলোয়াড়রা কি দেশে ফিরে আসতে চাচ্ছেন ? তাদের মনের অবস্থা কি ? মানসিক ভাবে কি তাঁরা ভেঙে  পড়েছে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি  বলেন,
এটা খুবই স্বাভাবিক আপনি সামনে দেখছেন যে এই ধরণের একটা ঘটনা হয়েছে। রক্তাত অবস্থায় মানুষ বেরিয়ে আসছে। এমন ঘটনা দেখে যে কোন মানুষই ভেঙে পড়া স্বাভাবিক। আমি বাসের মধ্যে খেলোয়াড়দের দেখেছে কান্নাকাটি করতে কি করতে পারে? কি করলে এই খান থেকে বেরিয়ে আসতে পারে? এটা সত্যি হার্ট করার মত ঘটনা। কিন্তু এই মুহুর্তে আমাদের সকল খেলোয়াড় হোটেলে আসছে। আমি একজন ম্যানেজার হিসাবে দলের সবাইকে এখানে এনেছি কথা বেলেছি।

 এদিকে হোটেলে ফিরে তামিম ও মুশফিক টুইট বার্তায় লিখেছেন,‘পুরো দল গোলাগুলির হাত থেকে বেঁচে গেলো। খুবই ভয়াবহ অভিজ্ঞতা, সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন।’ (তামিম ইকবাল)

‘আলহামদুলিল্লাহ্‌! ক্রাইস্টচার্চে হামলার ঘটনা থেকে আল্লাহ্‌ আজ আমাদের বাঁচিয়ে দিলেন। আমরা অনেক বেশি ভাগ্যবান। কখনোই এমন ঘটনার সম্মুখীন হতে চাই না। আমাদের জন্য দোয়া করবেন।’ (মুশফিকুর রহিম)

Bootstrap Image Preview