Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২৪ রবিবার, মার্চ ২০১৯ | ৯ চৈত্র ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

উপজেলা নির্বাচন: রায়পুুরায় আস্থাহীন ভোটাররা

সাইফুল ইসলাম রুদ্র, নরসিংদী প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১২ মার্চ ২০১৯, ০৬:১৮ PM
আপডেট: ১২ মার্চ ২০১৯, ০৬:১৮ PM

bdmorning Image Preview


দিন যত ঘনিয়ে আসছে ততই প্রার্থীদের বাহারী রঙের প্রতিশ্রুতিও বেড়ে চলেছে উপজেলা পরিষদের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। কিন্তু এ নির্বাচন নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে কোনো উৎসাহ-উদ্দীপনা বা আমেজ দেখা যাচ্ছে না ইউনিয়ন ও গ্রাম পর্যায়ে। প্রার্থীরাও ভোট চাইতে গিয়ে তেমন সাড়া পাচ্ছেন না।

আওয়ামী লীগ-সমর্থিত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মিজানুর রহমান কথায়ও ভোট নিয়ে মানুষের নিরুৎসাহের কারণগুলো ফুটে উঠেছে। এই চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী দাবি করেন, বিগত সংসদ নির্বাচনে নরসিংদীর রায়পুুরা-৫ আসনের সাংসদ রাজু উদ্দিন আহমেদ রাজু তারই সুযোগ্য সন্তানের জন্য।

কিন্তু তার সন্তান নৌকা প্রতীক না পাওয়ায় তার নির্দেশ অনুযায়ী রাধানগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আঃ সাদেককে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন। এ কারণে একই দলের বিদ্রোহী ও দলীয় প্রার্থী হওয়ায় ভোটারদের মাঝে ত্রিমূলমুখী আলোচনা দেখা যাচ্ছে।

এ ছাড়া বিগত সময়ে এই উপজেলা নির্বাচনে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে সাধারণ মানুষ উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানদের নির্বাচিত করলেও এলাকার উন্নয়নে ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারেননি বলে দাবি এলাকাবাসীর।

এ কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে কেউ উপজেলা নির্বাচনকে গুরুত্বহীন মনে করছেন। বিশেষ করে এই উপজেলায় একই দলীয় দুটি বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় ভোটারদের মাঝে সমালোচনা বাড়ছে।

এই উপজেলায় চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে মোট ১০ জনেরও অধিক প্রার্থী রয়েছে। এই উপজেলায় পুুরুষ ভোটারের সংখ্যা ১,৮৫,১১৪ ও মহিলা ভোটার সংখ্যা ১,৮৬,৫০৭ জন।

ভোট চাইতে গিয়ে ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীরা অতীতের মতো সাড়া পাচ্ছে না। দিন ঘনিয়ে এলেও ভোটারদের মাঝে নেই কোনো আমেজ। গ্রামে ভোট চাইতে গেলে ভোটাররা বলেন, আগের মতো আমাদের অধিকার নেই। তাই নির্বাচন নিয়ে মাথাব্যথা নেই আমাদের।

উপজেলার পলাশতলী এলাকার ভোটার মোসা: সাহিনুর বেগম বলেন, 'বড়টাই (সংসদ নির্বাচন) ভোট ছাড়া হয়া গেছে। ছোটোটাতে (উপজেলা নির্বাচন) ভোট দিয়া কী হইবে?’

মির্জানগর এলাকার ভোটার কাউছার বলেন, ‘গতবার উপজেলা চেয়ারমিনি ভোট দেছনো, তারা কাম কইরবার পারে নাই। এইগলা কষ্ট করি ভোটই দিবার যাবার নেই।’

এ দিকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রার্থী মিজানুর রহমান এই প্রতিবেদককে বলেন, বিগত সময়ে আমি চেয়ারম্যান পদে বহাল থাকায় যে সমস্ত অসমাপ্ত কাজগুলো রয়ে গেছে, ভোটাররা যদি আমাকে আবারও ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে তাহলে সে কাজগুলো দ্রততর সময়ে বাস্তবায়ন করব।

স্বতন্ত্র প্রার্থী আনারস প্রতীক পাওয়া সাদেকুর রহমান জানান, আমি চেয়ারম্যান অবস্থায় থেকে যে সমস্ত উন্নয়নগুলো করেছি এবং উপজেলা নির্বাচনে বিজয়ী হলে এই রায়পুরা উপজেলাবাসীকে দুর্নীতিমুক্ত ও  উন্নত উপজেলায় রূপান্তর করতে চেষ্টা চালিয়ে যাব।

রাজনীতি বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই রায়পুরা উপজেলাটি বিগত সময়ে আওয়ামী লীগের একটি ঘাটি হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু আজ একই দলের দলীয় ও বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় ভোটাদের মাঝে ভীতিসহ আতঙ্ক বিরাজ করছে।

Bootstrap Image Preview