Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২১ মঙ্গলবার, মে ২০১৯ | ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬ | ঢাকা, ২৫ °সে

নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি পানির দাম, আবাদে অনিহা চাষীদের

মোঃ হারুন-উর-রশীদ, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি 
প্রকাশিত: ০৭ মার্চ ২০১৯, ০২:৩১ PM
আপডেট: ০৭ মার্চ ২০১৯, ০২:৩১ PM

bdmorning Image Preview


বাংলাদেশের ৬০ভাগ ধানের উৎপাদন হয় দিনাজপুরে। বর্তমান সরকার কৃষিকে আরো সমৃদ্ধি করার লক্ষে বিদ্যুৎ খরচ কমিয়ে গভীর নলকূপ পরিচলনার সুযোগ করে দিয়েছে। কোথাও কোথাও বিশেষ সুবিধায় সোলার প্যানেল বসিয়ে গভীর নলকূপ পরিচালনা করে কৃষকের মাঝে পানি সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছে।

সেখানে দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলায় পানির মূল্য বৃদ্ধির কারণে আবাদ ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকরা। ফুলবাড়ী উপজেলা সেচ কমিটির দেওয়া নির্ধারিত পানির মূল্যকে কোন প্রকার তোয়াক্কা না করে মনগড়াভাবে পানির মূল্য নির্ধারণ করে কৃষকের মাঝে পানি বিক্রয় করছে উপজেলার অধিকাংশ গভির নলকূপ পরিচালকরা।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সেচ কমিটির সভাপতি মোঃ আব্দুস সালাম চৌধুরী কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ করেছেন পৌর এলাকার পূর্ব গৌরীপাড়া ও কাঁটাবাড়ী এলাকার কৃষকরা।

তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায়, পূর্ব গৌরীপাড়া মৌজায় অবস্থিত মৃত সৈয়দ বাদশা মিয়া ব্যক্তির নামে বরাদ্দকৃত গভীর নলকূপ তার স্ত্রী কামরুন্নাহার বিগত কয়েক বছর পরিচালনা করে আসছিলেন। বেশ কিছু দিন যাবত তার বিরুদ্ধে সেচ্ছাচারিতা ও পানির মূল্য বৃদ্ধির অভিযোগ উঠেছে। সর্বশেষ তিনি একর প্রতি ৪ হাজার ২শত টাকা পানির দাম নিয়েছে বলে জানা যায়। ২০১৮ সালে তিনি মোঃ আকরাম গ্রাম-কাঁটাবাড়ী, ফুলবাড়ীকে গভীর নলকূপটি বন্দোবস্ত (চুক্তি) দেন। চুক্তিতে নেয়ার পর আকরাম আলী বোরো একর প্রতি পানির মূল্য ৪ চার হাজার ৫শত টাকা ও আমন চাষ প্রতি একর পানির মূল্য ১ হাজার ২শ' টকা নির্ধারণ করেন। পাশাপাশি কৃষকদের সাথে ভালো আচরণ না করে প্রায় সময় বাক বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। অথচ তার পাশে থাকা বিষ্ট বাবুর পরিচালিত কাঁটাবাড়ী মৌজার গভীর নলকূপের পানি প্রতি একর বোরো ও আমন দুই ফসল ৩ হাজার ৬শ' টাকা করে কৃষকদের কাছ থেকে নিচ্ছে।

অভিযোগের আলোকে সরজমিনে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, সৈয়দ বাদশা মিয়া নামে গভীর নলকূপের আওতায় প্রায় ২শত বিষা জমি চাষ হয়। তার গভীর নলকূপের আওতায় বর্গা চাষী শফিকুল ইসলাম জানান, আমি গরিব মানুষ, বিঘা তিনেক জমি আবাদ করি। হঠাৎ ডিপ ভাড়া দেওয়ায় বর্তমান ডিপ মালিক আকরাম আলী আমনে সামান্য একটু পানি দিয়ে ধরলো ১৫শ' টাকা একর প্রতি। এখন ইরি ধান আবাদ করার সময় ৪৫শ' টাকা একর ধরেছে। এত দামে পানি নিয়ে চাষ করে পোষাবে না, তাই এবার চাষ করা বাদ দিয়েছিলাম কিন্তু জমি পড়ে থাকলে আমার আরও বেশি ক্ষতি হবে তাই কয়দিন আগে পানি নিয়েছে।

কৃষক মাহাবুব আলম বলেন, এই গভীর নলকূপের পানির মূল্য বেশি হওয়ায় ধান চাষ করে লাভ হবে না। তাই পাশের ডিপ থেকে পানি নিতে চেয়ে ছিলাম কিন্তু আকরাম আলী আমাকে পানি নিতে বাঁধা দিয়েছে।

কৃষক হিরেন্দ্র নাথ বর্মন বলেন, এই ডিপের পানি মূল্য সবচেয়ে বেশি। উপজেলায় এর মতো বেশি দামে আর কেউ ডিপ পরিচালনা করছে না। রিতিমত কৃষকদের জিম্মি করে রেখেছে এই ডিপের বর্তমান আকরাম আলী। 

এবিষয়ে সেচ কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের সেচ কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক প্রতি একর জমির পানির মূল্য ৩ হাজার ২শ' টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর চেয়ে বেশি যদি কোন গভীর নলকূপ মালিক পানির দাম নেন অথবা নিয়মিত পানি সরবরাহে ব্যর্থ হন তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।

তিনি আরো বলেন, পূর্ব গৌরীপাড়া মৌজায় অবস্থিত মৃত সৈয়দ বাদশা মিয়া ব্যক্তির নামে বরাদ্দকৃত গভীর নলকূপ তার স্ত্রী কামরুন্নাহার পরিচালনা করে আসছে সেই গভীর নলকূপের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট এলাকার কৃষকদের একটা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখে অভিযুক্ত গভীর নলকূপ মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Bootstrap Image Preview