Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২১ মঙ্গলবার, মে ২০১৯ | ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬ | ঢাকা, ২৫ °সে

পুলিশ ভাড়া করে সেলিমকে হত্যা করেছে: দাবি পরিবারের

মোঃ আকরাম হোসেন
সাব এডিটর
প্রকাশিত: ০৫ মার্চ ২০১৯, ০৫:৪০ PM
আপডেট: ২৬ মার্চ ২০১৯, ০৯:১২ PM

bdmorning Image Preview
ছবি: বিডিমর্নিং


পুলিশ ভাড়া করে কেরানীগঞ্জের রুহিতপুরের বাসিন্দা মো. সেলিম হোসেনকে (৩৮) হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে নিহত সেলিমের স্বজনরা। স্বজনরা বলছেন, ঘটনার দিন সেলিম পরিবারের সাথে বসে সকালের নাস্তা করছিল। এ সময়  পুলিশ এসে তুলে নিয় যায়। পরে ধলেশ্বরী নদীর চরে নিয়ে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

আজ মঙ্গলবার সকালে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনে (ক্র্যাব) এক সংবাদ সম্মেলন এসব দাবি করেন নিহত সেলিমের স্ত্রী নাসরিন বেগম। তিনি অসুস্থ থাকায় তার পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সেলিমের মা রুবিজ বেগম।

অপরদিকে পুলিশ দাবি করছে, ১ মার্চ সেলিম বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে, তার বিরুদ্ধে হত্যা, ধর্ষণ, জমি দখলসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

নিহত সেলিম কেরানীগঞ্জের রুহিতপুর ইউনিয়নের সোনাকান্দা গ্রামের মৃত মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেনের ছেলে। তার ১০ বছরের আরিয়ান নামের এক ছেলে ও ২ বছরের তাজফিয়া নামের এক মেয়ে রয়েছে।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, নিহত সেলিমের পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ও রুহিতপুর ইউনিয়নের যুবলীগের সাবেক সভাপতি শহিদ আনোয়ার হোসেন মেম্বারকে ২০০৬ সালে হত্যা করা হয়। সেই হত্যা মামলায় প্রধান আসামি রুহিতপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান কামাল হোনন ও আলামিনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। মামলার অন্য আসামি জিয়া ও সওকতসহ চার জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত প্রধান আসামি রুহিতপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান কামাল হোসেন বর্তমানে দেশের বাইরে পলাতক রয়েছে। পিতা আনোয়ার হোসেনের হত্যাকারী কামাল হোসেন মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে সিরাজদীখানা থানার ওসি  মো. ফরিদ উদ্দিনকে  দিয়ে  সন্তান সেলিমকে হত্যা করিয়েছে।

লিখিত বক্তব্যে নাসরিন বেগম জানান, ঘটনার দিন সকালে পুলিশ সেলিমকে তুলে নিয়ে ধলেশ্বরী নদীর চরে গুলি করে হত্যা করে। আমার স্বামী অত্যন্ত সজ্জন ব্যাক্তি ছিলেন। তার বিরুদ্ধে কোন থানায় কোন ধরনের মামলা বা অভিযোগ নেই। আমি আমার স্বামী হত্যার বিচার চাই।

স্ত্রী নাসরিন বেগম বলেন, কি অন্যায় করেছিল আমার স্বামী? কি অন্যায় করেছি আমি। এখন কেন আমাকে বিধবা বেশে দুটি অবুঝ সন্তান ও আমার বৃদ্ধা শাশুড়ীসহ স্বামী হত্যার বিচার নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হতে হলো? এর জবাব আপনাদের কাছে চাই। এই চাওয়া আমার অযৌক্তিক হলে আমার এই অল্প বয়সে বিধবা হওয়া, আমার এই অবুঝ সন্তান দুটিকে, আমার বৃদ্ধা শাশুড়িকে, আমাদের পরিবারের সদস্যদেরকে কি বুঝ দিবেন।

সেলিম হত্যা বিচার চেয়ে নাসরিন বেগম বলেন, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তানকে নির্মমভাবে পুলিশের হত্যাকাণ্ডের সুবিচার চাইছি। পুলিশের বিচারবহির্ভূতভাবে আমার স্বামী হত্যার বিচার আপনাদের মাধ্যমে চাইতে এসেছি। সিরাদিখান থানার ওসিসহ এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত সকল পুলিশ সদস্যকে বিচারের আওতায় এনে যথাযথ শাস্তির ব্যবস্থা করেন, এই আমার চাওয়া।

নিহত সেলিমের ১০ বছরের ছেলে আরিয়ানের সাথে কথা হলে সে বিডিমর্নিংকে জানায়, সকালে আব্বুর সাথে বসে আমি ভাত খাচ্ছিলাম। তখন ৫-৬ জন পুলিশ এসে আমার আব্বুকে নিয়ে যায়।

নিহত সেলিমের মা রুবিজ বেগম কান্না করতে করতে বলেন, চেয়ারম্যান কামাল হোসেন ১২ বছর আগে আমার স্বামীকে হত্যা করেছে। এখন পুলিশকে দিয়ে আমার ছেলেকে হত্যা করেছে। কেরানীগঞ্জ থানার পুলিশকে দিয়ে হত্যা করতে পারে নাই। পরে সিরাজদিখান থানার পুলিশকে হাত করে আমার নিরপরাধ ছেলেকে হত্যা করেছে। আমি এর বিচার চাই।

তবে সিরাজদীখানা থানার ওসি  মো. ফরিদ উদ্দিন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বিডিমর্নিংকে বলেন, চেয়ারম্যান কামাল হোসেনর সাথে আমার কোন যোগাযোগ নেই, আমি তাকে চিনিই না। মাত্র আপনার কাছ থেকে তার নাম শুনতে পেলাম।

ওসি বলেন, হত্যা, ধর্ষণ, জমি দখলসহ বহু মামলার আসামি সেলিম হোসেন কয়েকজন সহযোগীসহ ধলেশ্বরী নদীতে ট্রলারযোগে ঘুরাফেরা করছিল। খবর পেয়ে আমরা অভিযান চালায়। এ সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে তারা গুলি ছুড়ে। জবাবে আমরা পাল্টা গুলি করি। এক পর্যায়ে ট্রলারটি ধলেশ্বরী নদীর তীরে নোঙর করে সেলিমের সহযোগীরা পালিয়ে যায়। পরে গুলিবিদ্ধ সেলিমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার সময় সে মারা যায়।

অভিযুক্ত মূল ইন্দনদাতা রুহিতপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান কামাল হোসেন দেশের বাইরে থাকায় তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

Bootstrap Image Preview