Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২১ মঙ্গলবার, মে ২০১৯ | ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬ | ঢাকা, ২৫ °সে

পিয়াজে ভাগ্য খুলেছে দবিরুলের

আল মামুন জীবন, বালিয়াডাঙ্গী (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধিঃ 
প্রকাশিত: ০৩ মার্চ ২০১৯, ০২:২৫ PM
আপডেট: ০৩ মার্চ ২০১৯, ০২:২৫ PM

bdmorning Image Preview


সীমান্ত ঘেঁষা উত্তরের জেলা ঠাকুরগাঁওয়ের প্রান্তিক কৃষক দবিরুল ইসলাম। বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ধনতলা ইউনিয়নের ঠুমনিয়া গ্রামের প্রয়াত আব্দুলের ছেলে তিনি। গত চার বছর ধরে তিনি উৎপাদন করছেন পিয়াজের বীজ। আর এ পিয়াজের বীজ উৎপাদন করেই ভাগ্য খুলেছে তার। 

ঠুমনিয়া গ্রামে বাড়ির পাশে ৪২ শতক মাটিতে গত চার বছর যাবৎ উৎপাদন করে আসছেন পিয়াজের বীজ। পরিবারের ৪ জন সদস্য মিলে পরিশ্রম করে মাত্র ৪ মাসে এই বীজ উৎপাদন করে তিনগুন লাভ পাচ্ছেন তিনি। 

পিয়াজের বীজ চাষী দবিরুল ইসলাম জানান, জায়গা জমি বেশি না থাকার কারণে কোনমতে সংসার চলছিল তার। বাড়ির পাশে ৪২ শতক মাটিতে ৪ বছর আগে রাজশাহীর এক বীজ কোম্পানী তাকে বীজ উৎপাদনের জন্য প্রস্তাব দেন। প্রথম বছরেই সফলতার মুখ দেখেন তিনি। বীজ উৎপাদন করে লাভ হয় প্রায় তিনগুন। 

তিনি জানান, আমি আমার স্ত্রী ও দুই সন্তান মিলে পরিশ্রম করি পিয়াজ উৎপাদন কাজে। জমিতে চাষাবাদ করে সার প্রয়োগের পর অগ্রহায়ণ মাসের শেষের দিকে পৌষ মাসের এক সপ্তাহের মধ্যে জমিতে কোম্পানীর দেয়া বীজ রোপন করি। বীজ থেকে পিয়াজের গাছ বের হবার পর শুরু হয় পরিচর্যা। শীতে কেমন কোন ক্ষতির আশংকা নেই এ পিয়াজের বীজ উৎপাদনে। ধীরে পিয়াজের গাছ বড় হওয়া শুরু হলে সাড়ে তিন মাসের মধ্যে পিয়াজের ফুল বের হওয়া শুরু করে। 

প্রতিদিন সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত এ ফুলের হাত বুলিয়ে হলুদ রঙের ফুল ঝড়িয়ে দিলে ফলন ১০ শতাংশ বেড়ে যায়। ৪২ শতক জমিতে পিয়াজ ও পিয়াজের বীজ উৎপাদনে খরচ হয়। ২৫-৩০ হাজার টাকা। বৈরী আবহাওয়ার কারণে কোন ক্ষতি না হলে পেয়াজ ও বীজসহ উৎপাদিত ফসল বিক্রি হয় প্রায় ৯০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা। যা খরচের চেয়ে তিনগুন। 

রাজশাহীর একটি কোম্পানীর সাথে চুক্তি করা আছে দবিরুল ইসলামের। তারাই বীজ সরবরাহ করবে এবং উৎপাদিত পিয়াজের বীজ তারাই কিনবে। প্রথম বছরে প্রতিমণ পিয়াজের বীজের মূল্য ১ হাজার টাকা দিলেও গত দু'বছর ধরে সেই বীজের দাম দিচ্ছে ৮'শ টাকা হারে। 

দবিরুলের স্ত্রী মরিয়ম বেগম জানান, চার বছরের মধ্যে স্থানীয় কৃষি অধিদফতর থেকে কোন সহায়তা পাননি তারা। সরকারিভাবে পিয়াজের বীজ উৎপাদনে প্রশিক্ষণ, সহায়তা পেলে বাণিজ্যিকভাবে বৃহৎ পরিসরে পিয়াজের উৎপাদনের ইচ্ছা আছে তাদের। 

তবে দবিরুলের পিয়াজের বীজ উৎপাদন করে সফলতা দেখে এ বীজ উৎপাদনে এগিয়ে আসতে চান ওই এলাকার অন্যান্য কৃষক। স্থানীয় কৃষি অধিদফতর পরামর্শ, প্রশিক্ষণ ও সহায়তা করলে ওই এলাকায় পিয়াজ ও পিয়াজের বীজ উৎপাদন করে দেশের কৃষিতে গুরুত্ব ভূমিকা রাখবে। এমনটাই আশা ওই এলাকার কৃষকদের।  

ধনতলা ইউনিয়নের দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা হেনরী বলেন, কৃষক দবিরুল পিয়াজের বীজ উৎপাদনে কোন সহযোগিতা চাননি। 

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর ও পাড়িয়া ইউয়িনের দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আতাউর রহমান জানান, পাড়িয়া ইউনিয়নে এক একর জমিতে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সহায়তায় প্রথম বারের পিয়াজের বীজ উৎপাদন, সংরক্ষণ এবং বাজারজাত করণের জন্য প্রদর্শনী করা হয়েছে। পাড়িয়া ইউনিয়ন থেকে ১ কিলোমিটার পশ্চিমে এ প্রদর্শনীর দেখাশোনার দায়িত্বে রয়েছেন কৃষক সফিকুল ইসলাম এবং সিরাজুল ইসলাম নামে দুই কৃষক। 

কৃষক দবিরুলকে সব ধরণের পরামর্শ এবং সহায়তার করার আশ্বাস দিয়ে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবীদ শাফীয়ার রহমান জানান, কৃষক দবিরুল চাইলে কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাণিজ্যিকভাবে পিয়াজের বীজ উৎপাদন করতে পারে। এ জন্য উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর বীজ উৎপাদন, সংরক্ষণ থেকে বাজারজাতকরণ পর্যন্ত পরামর্শ প্রদানের পাশাপাশি সহায়তা করবে।  
 

Bootstrap Image Preview