Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২৭ সোমবার, মে ২০১৯ | ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬ | ঢাকা, ২৫ °সে

ইস্ট্রোজেনের নিঃসরণে বাড়াচ্ছে নারীর যৌন উদ্দীপনা, লক্ষণ ও প্রতিকার

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৯, ১০:১৫ PM
আপডেট: ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৯, ১০:১৫ PM

bdmorning Image Preview
সংগৃহীত ছবি


বিভিন্ন মানুষের ক্ষেত্রে ইস্ট্রোজেনের মাত্রা বিভিন্ন হয়। কারো কারো ক্ষেত্রে এই হরমোন নিঃসরণের মাত্রা অনেক বেশি থাকে। ব্রেস্ট ক্যান্সার ও জরায়ু ক্যান্সারের একটি কারণ হচ্ছে অতিরিক্ত ইস্ট্রোজেন নিঃসৃত হওয়া।

‘ভ্যালেন্টাইনস ডে’ মানেই লাল গোলাপ থেকে ডায়মন্ড রিং। জীবনানন্দ থেকে জয় গোস্বামী…। ভালবাসার মানুষের চোখের দিকে তাকিয়ে উথাল-পাথাল মন। বুকের বাঁদিকে বুঝতে না-পারা অনুভূতি। কারণ? হৃদয়, অর্থাৎ ভালবাসার কেন্দ্র নাকি রয়েছে বুকের বাঁদিকে। প্রতি মুহূর্তে সে সশব্দে জানান দেয় তার চলার ছন্দ। যদিও হৃদয়ের অবস্থান নিয়ে বিজ্ঞান ও কাব্যের মধ্যে দ্বন্দ্ব বিস্তর।

কাব্য বলছে, ‘মধুর মধুর চাউনি রে তোর কন্যা আমার হৃৎপিণ্ড তিড়িং বিড়িং করে’। আর তাই প্রেমের চিহ্ন আঁকা হয়েছে হৃৎপিণ্ডের আদলে। পুরাণ মতে কামদেব মদনও তাঁর পুষ্পক বাণ মারেন বুকের বাঁদিকে। বুকের বাঁদিকে হাত রেখেই প্রেম নিবেদন করেন ‘রোমিও’রা।

যদিও বিজ্ঞানের মতে ‘ভালবাসা আসলে তো পিটুইটারির খেলা, আমরা বোকারা বলি প্রেম’। পিটুইটারি মানে মস্তিষ্কের গ্রন্থি। যা থেকে বেরনো হরমোনই নাকি সমস্ত অনুভূতির জন্য দায়ী। সেই ঠিক করে দেয় প্রথম দেখায় প্রেম হবে, নাকি দীর্ঘ বোঝাপড়ার পর চাওয়া-পাওয়া, লাভ-লোকসানের ব্যালান্স শিট মিলিয়ে। সে যাই হোক, প্রেমের হোতা যদি পিটুইটারি হয়, তবে অবশ্যই প্রেমের কেন্দ্র মস্তিষ্ক। বিজ্ঞান অন্তত সেই রকমই বলছে।

মস্তিষ্ক আর হৃৎপিণ্ডের দ্বন্দ্বে আসলে যে বিষয়টি স্থান পায়, সেটা হল আবেগ বনাম বাস্তবতা। বিজ্ঞানের মতে, এই দুই অনুভূতিরই জন্ম হয় মস্তিষ্কে। সেই অর্থে হৃদয়ের বাসও মস্তিষ্কে। ব্রেনের লিম্বক সিস্টেমই সেই কেন্দ্র যেখানে আর পাঁচটা অনুভূতির মতো ভালবাসা তৈরি হয়। ভালবাসা নিয়েও হয়েছে বিস্তর গবেষণা।

গবেষণা বলছে, ভালবাসার বেশ কয়েকটি পর্যায় রয়েছে। যার প্রথম দফায় প্রবল আগ্রহ, আকাঙ্ক্ষা বা কামনা সৃষ্টি হয়। পুরুষ দেহে টেস্টোস্টেরন ও মেয়ের ইস্ট্রোজেন নামক যৌন হরমোন এই কামনার সৃষ্টিকারী। এর পরের পর্যায়ে একে অন্যের প্রতি আকর্ষণ অনুভব করে।

গবেষকদের মতে, ডোপামিন, অ্যাড্রেনালিন ও সেরোটোনিন এই তিনটি নিউরোট্রান্সমিটারের প্রভাবে ভাললাগার মানুষের প্রতি আকর্ষণ বাড়ে। প্রেমের যে পর্যায়ে প্রেমিক-প্রেমিকার মধ্যে বন্ধন দৃঢ় হয়, তাতে মুখ্য ভূমিকা পালন করে অক্সিটোসিন ও ভেসোপ্রেসিন। এইভাবেই ভাললাগা ক্রমে প্রেমে পরিণত হয়।

গবেষণা বলছে, প্রেমে পড়ার প্রথম পর্যায়টি মোটেই সহজ নয়। প্রথম ছ’মাসের চাপ মারাত্মক। একদিকে রয়েছে সঙ্গীকে সব সময় দেখা, কাছে পাওয়ার বাসনা। অন্যদিকে বাড়ি, কর্মক্ষেত্র এবং বন্ধু-বান্ধবদের চোখ এড়িয়ে সব দিক বজায় রাখার চেষ্টা। সব মিলিয়ে রীতিমতো শ্যাম রাখি না কুল রাখি দশা।

১২ জোড়া নব্য প্রেমিক-প্রেমিকার রক্ত পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে, যাঁরা প্রেম করেন না অথবা ছ’মাসের বেশি সময় ধরে প্রেম করছেন তাঁদের তুলনায় নব্য প্রেমিক-প্রেমিকার রক্তে স্ট্রেস হরমোন অর্থাৎ কর্টিসোলের মাত্রা অনেকটাই বেশি। এই সব তত্ত্বকথাই প্রেমে ‘ভায়া হরমোন’ মস্তিষ্কের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে। যদিও বিজ্ঞানের কচকচানিতে বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই প্রমিক-প্রেমিকাদের। ব্রেন বা হার্ট, প্রেমের কেন্দ্র যাই হোক না কেন, সব বাঁধা খুলে এদিন শুধুই প্রেমের জোয়ারে ভাসার দিন।

নারী হরমোন ইস্ট্রোজেন নারীর বৈশিষ্ট্যগুলো ফুটিয়ে তোলার জন্য অত্যাবশ্যকীয়। প্রধানত ডিম্বাশয়ে উৎপন্ন হয় ইস্ট্রোজেন হরমোন। এছাড়াও এড্রেনাল গ্ল্যান্ড ও ফ্যাট সেলেও উৎপন্ন হয় এই হরমোন। বিভিন্ন মানুষের ক্ষেত্রে ইস্ট্রোজেনের মাত্রা বিভিন্ন হয়। কারো কারো ক্ষেত্রে এই হরমোন নিঃসরণের মাত্রা অনেক বেশি থাকে। ব্রেস্ট ক্যান্সার ও জরায়ু ক্যান্সারের একটি কারণ হচ্ছে অতিরিক্ত ইস্ট্রোজেন নিঃসৃত হওয়া। তবে হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপির মাধ্যমে উচ্চ মাত্রার ইস্ট্রোজেনের সমস্যা নিরাময় করা সম্ভব। উচ্চ মাত্রার ইস্ট্রোজেন নিঃসরণের কয়েকটি লক্ষণের বিষয়ে জানবো এই ফিচারে, যাতে আপনি সতর্ক হতে পারেন।

১। ব্লাড প্রেশার বৃদ্ধি পাওয়া

ইস্ট্রোজেন হরমোন নিঃসরণের উচ্চ মাত্রার সাথে নারীর ব্লাড প্রেশার বৃদ্ধি পাওয়ার সম্পর্ক বিদ্যমান। এর কারণ উচ্চ মাত্রার ইস্ট্রোজেন সুপারঅক্সাইড নামের যৌগের উৎপাদন বৃদ্ধি করে। এই যৌগের উৎপাদন বৃদ্ধি ব্লাড প্রেশার বৃদ্ধি করে বলে জানা গেছে।

২। মেজাজের উঠানামা

ইস্ট্রোজেন হরমোন শুধু নারীর পিরিয়ড পরিচালনাই করে না মেজাজের উপর ও প্রভাব ফেলে। যে নারীদের ইস্ট্রোজেনের মাত্রা বেশি থাকে তারা অনেক বিচলিত অনুভব করে এবং তারা বিষণ্ণতা ও উদ্বিগ্নতায়ও ভোগে।

৩। অতিরিক্ত সক্রিয়তা

মেজাজের উঠানামার সাথে সাথে উচ্চ মাত্রার ইস্ট্রোজেন নিঃসৃত হয় যে নারীদের তাদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সক্রিয়তার এবং মনোযোগের সমস্যা হওয়ার ও অভিযোগ পাওয়া যায়।

৪। ব্রেস্ট ফুলে যাওয়া

যে কোন ধরণের হরমোনের পরিবর্তনের ফলেই ব্রেস্ট সংবেদনশীল হয়। তাই ব্রেস্ট ফুলে যাওয়ার লক্ষণ দেখা দিলে সতর্ক হতে হবে। এছাড়াও ব্রেস্টে পিন্ড দেখা দিতে পারে।

৫। মাথাব্যথা

ইস্ট্রোজেনের মাত্রার উঠানামার কারণে ঘন ঘন মাথাব্যথা ও মাইগ্রেনের সমস্যা হতে পারে। অন্য কোন বিশেষ কারণ ছাড়া ঘন ঘন মাথা ব্যথা হলে তার কারণ নির্ণয় করার জন্য ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন।

৬। অনিয়মিত এবং অনেক বেশি পিরিয়ড হওয়া

আপনার পিরিয়ড যদি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হয় এবং অনিয়মিত হয় তাহলে এটি ইস্ট্রোজেনের উচ্চ মাত্রার একটি লক্ষণ। এটি হওয়ার মূল কারণ হচ্ছে ইস্ট্রোজেন জরায়ু প্রাচীরকে পুরো করে ফেলে।

৭। পেট ফাঁপা

পিরিয়ডের সময় বা পিরিয়ডের কয়েকদিন পূর্বে পেট ফাঁপার সমস্যা হওয়া স্বাভাবিক। যদি আপনার ইস্ট্রোজেন নিঃসরণের মাত্রা বেশি হয় তাহলে আপনার পেট ফাঁপার সমস্যা হতে পারে খুব ঘন ঘন।

৮। হাত ও পা ঠান্ডা হওয়া

যে নারীদের ইস্ট্রোজেন হরমোন নিঃসরণের মাত্রা খুব বেশি থাকে তাদের রক্ত সংবহন কম হয় বলে তাদের হাত ও পায়ের পাতা ঠান্ডা অনুভূত হয়।

৯। চুল পড়া

অতিরিক্ত ইস্ট্রোজেন চুল পাতলা করার জন্য দায়ী। উচ্চ মাত্রার ইস্ট্রোজেনের কারণে প্রোজেস্টেরনের লেভেল স্বাভাবিকের চেয়ে কমে যায় বলে চুল পড়ে যায়।

১০। ওজন বৃদ্ধি

ইস্ট্রোজেন হরমোনের অতিরিক্ত নিঃসরণের ফলে আপনার ওজন বৃদ্ধি পেতে পারে এবং এই অতিরিক্ত ওজন কমাতেও সমস্যা হতে পারে।

Bootstrap Image Preview