Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৮ সোমবার, ফেব্রুয়ারি ২০১৯ | ৬ ফাল্গুন ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

বিদ্যুৎ সংযোগ না পাওয়ায় সেচ কাজে ব্যাহত, ভোগান্তিতে কৃষক

ফারুক হোসেন (শেরপুর) প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: ১২ ফেব্রুয়ারী ২০১৯, ১০:১৮ PM
আপডেট: ১২ ফেব্রুয়ারী ২০১৯, ১০:১৮ PM

bdmorning Image Preview


শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় সেচ কমিটির অনুমোদন পেলেও পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় মিলছে না বিদ্যুৎ সংযোগ। ফলে কৃষকের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। বিদ্যুৎ সংযোগ না পাওয়ায় বোরো মৌসুমে জমিতে সেচ দিতে পারছে না এলাকার কৃষকেরা।

এসব এলাকার ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের দাবি বিদ্যুৎ সংযোগ না পেলে অনাবাদি থেকে যাবে প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমি। যদিও কৃষি বিভাগ বলছে উপজেলায় বোরো মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর জমি। তার মধ্যে প্রায় ৮ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো রোপন করা হয়েছে। অন্যদিকে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ বলছে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হচ্ছে।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, গত বছরের আবেদনসহ চলতি বোরো মৌসুমে সেচ কমিটির কাছে প্রায় ১১৫টি আবেদন জমা দিয়েছিলেন কৃষকেরা। আর এসব আবেদনের প্রেক্ষিতে বিএডিসির কর্মকর্তাদের তদন্ত প্রতিবেদন দেখে এ উপজেলায় ৮৪টি সেচ কমিটির অনুমোদন দেয়া হয়। এর মধ্যে কাংশা ইউনিয়নের আয়নাপুর গ্রামেই ২৯টি সেচ কমিটির অনুমোদন পাওয়া যায়। কিন্তু সেচ কমিটির অনুমোদন পেলেও এতে মিলছে না বিদ্যুৎ সংযোগ।

কাংশা ইউনিয়নের কয়েকজন কৃষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আবেদন করার পর উপজেলা সেচ কমিটির অনুমোদন পাওয়ার পর থেকেই বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য কৃষকরা ঋণ করে কয়েক লক্ষ টাকা খরচ করে গভীর নলকূপ স্থাপন করে মাসের পর মাস অপেক্ষা করছেন। তবুও মিলছে না তাদের সেচ পাম্পের বিদ্যুৎ সংযোগ।

শেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করলে কর্মকর্তাদের অসহযোগিতার কারণে কোন ধরনের সুরাহা না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন এসব এলাকার কৃষকরা। কৃষকদের অভিযোগ, শুধুমাত্র পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তাদের গাফিলতির কারণেই মিলছে না তাদের বিদ্যুৎ সংযোগ। সরকার যেখানে খাদ্যে সয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে চাইছে সেখানে আমাদের পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ হয়রানী করছে কৃষকদের।

ঝিনাইগাতী কৃষি সস্প্রসারণ কর্মকর্তা ফয়জুন নাহার নিপা জানান, এমনিতেই এ উপজেলা পাহাড়ী এলাকা হওয়ায় পানির লেয়ার খুব গভীরে এবং মাটিতে পাথর থাকায় গভীর নলকূপ ছাড়া সেচ কার্যক্রম চালানো কঠিন। তবে যেসব এলাকায় গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে সেখানে বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপন করা হলে ইরি মৌসুমে আবাদের পরিমাণ বাড়বে। উপজেলায় এবার ইরির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৪ হাজার ৪’শ ২৩ হেক্টর জমিতে, এর মধ্যে ৮ হাজার ৩’শ হেক্টরের মত আবাদ হয়েছে। এর পরিমাণ বাড়বে এবং আশা করছি আমাদের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে।

এ ব্যাপারে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বাদশা বলেন, এ মৌসুমে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় কৃষকরা চরম দূর্ভোগে পড়ে যায়। তার মধ্যে পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের গাফিলতির কারণে বিদ্যুৎ সংযোগ না পাওয়ায় শত শত একর জমি অনাবাদি থেকে যাবে। আমি এলাকার জনপ্রতিনিধি হিসেবে সদাশয় সরকার ও সংশ্লিষ্ট বিভাগকে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানাচ্ছি।

শেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মাশরুল হক খান মুঠোফোনে জানান, সাদা কাগজে আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে। আমরা ইতোমধ্যে ২০১৮ সালের আবেদনগুলোতে সংযোগ দিয়েছি। পর্যায়ক্রমে ২০১৯ সালের আবেদনগুলো সার্ভে করে দেখে প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হবে। গ্রাহকদের হয়রানী করা হচ্ছে এবং আবেদন গ্রহণের সময় কোন ধরনের রশিদ প্রদান করা হয়নি বলে তাকে অবগত করা হলে তিনি বলেন, সার্ভে শেষে আমরা আবার ১০০ টাকার ফর্মে আবেদন জমা নিবো।

Bootstrap Image Preview