Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২০ মঙ্গলবার, আগষ্ট ২০১৯ | ৫ ভাদ্র ১৪২৬ | ঢাকা, ২৫ °সে

নোয়াখালীতে চোর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটছে গ্রামবাসীর

সেনবাগ (নোয়াখালী) প্রতিনিধিঃ
প্রকাশিত: ১২ ফেব্রুয়ারী ২০১৯, ০৩:১৪ PM
আপডেট: ১২ ফেব্রুয়ারী ২০১৯, ০৩:১৪ PM

bdmorning Image Preview


আশঙ্কাজনক হারে একের পর এক বেড়েই চলেছে চুরি-ডাকাতি। গত এক সপ্তাহে অন্তত ১৫-২০টি বসতঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ সরকারি প্রতিষ্ঠানে চোরের দল হানা দিয়েছে। সুযোগ বুঝে চোরের দল ডাকাতির মত ঘটনাও ঘটাচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। চোরাই চক্রটির কোনো সদস্য ধরা পড়লে কোনো না কোনো ভাবে আবার বের হয়ে যাচ্ছে। চুরির এমন ঘটনায় চোর আতঙ্কে নোয়াখালীর প্রায় সবকটি উপজেলার মানুষ এখন নির্ঘুম রাত কাটে। 

ক্ষতিগ্রস্থদের অভিযোগ স্থানীয় সিন্ডিকেটের সাথে হাত মিলিয়ে টার্গেট করে চোরচক্র এই চুরি সংগঠিত করে আসছে। আর রাতের বেলায় পুলিশি টহল তৎপরতা কম থাকায় ঘটছে এমন অহরহ চুরির ঘটনা। 

জানা যায়, গত ১০ ফেব্রুয়ারী কবিরহাট উপজেলার ৩নং ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের নলুয়া ১নং ওয়ার্ডে দিবাগত রাত ২টার সময় মানিক মিয়ার বাড়িতে মানিকের ছেলে কামরুল হাসান (৩৫) এর ঘরে একদল ডাকাত প্রবেশ করে। পরে নগদ ৪২ হাজার টাকা নিয়ে হাসানকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ডাকাত দল পালিয়ে যান।

আহত হাসানের ছোট ভাই ও বোন জানান, রাত ২টার সময় ২০/২৫ জনের একদল ডাকাত তাদের বাড়িতে প্রবেশ করে হাসানকে তার শশুর পরিচয়ে ঘরের দরজা খোলার জন্য বলা হলে পাশের ঘরে থাকা ছোট ভাই পারভেজ জানালা দিয়ে হেলমেট ও মুখোশ পরা ডাকাত দেখে হাসানকে দরজা খুলতে নিষেধ করেন। পরে ডাকাতরা ঘরের বেড়ার টিন কেটে ঘরে ডুকে নগদ টাকা নেয় এবং হাসানকে এলোপাতাড়ি কোপ দিলে তার স্ব-চিৎকারে চারপাশ থেকে লোকজন ছুটে আসলে ডাকাতরা পালিয়ে যান।

গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে সদর উপজেলার চর উরিয়া গ্রামের রমিজ ড্রাইভার বাড়ির আজাদ মিয়ার ঘর, চৌকিদার সওদাগরের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে।

এর আগেও গত এক সপ্তাহে চর উরিয়া গ্রামের সিরাজের বাড়ি, খোকনের বাড়ি, পূর্ব এওজবালিয়া গ্রামের বাহার উদ্দিনের বাড়ি, কালা চাঁদপুর গ্রমের মহিষ ব্যাপারী বাড়ি, সোনাদিয়া গ্রামের আবুল মাঝির বাড়ি, মালেক ব্যাপারী বাড়ি, কনসবলের বাড়ি, শুল্লুকিয়া গ্রামের নবীর বাপের বাড়িসহ অন্তত ১২ বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। 

অপরদিকে সেনবাগ উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নের দেবীসিংহপুর গ্রামের হাজী সফি উল্যার নতুন বাড়ি ও ৬নং কাবিলপুর ইউনিয়নের শাহাপুর গ্রাম ও মহিদীপুর গ্রামসহ বেশ কয়েকটি গ্রামে পৃথক পৃথক চুরির ঘটনা ঘটেছে।

নোয়াখালীর সেনবাগে পুলিশ পরিচয়ে রাত দেড়টার দিকে সেনবাগ উপজেলার ৯নং নবীপুর ইউনিয়নের দেবীসিংহপুর গ্রামের হাজ্বী সফি উল্লার নতুর বাড়িতে ওই ডাকাতির ঘটনাটি ঘটেছে। এসময় ১০/১৫ জনে একদল সশস্ত্র মুখোশধারী ডাকাত দল বিল্ডিংয়ের গ্রিল ভেঙ্গে বসতঘরের ভিতরে ডুকে অস্ত্রের মুখে পরিবারের সবাইকে জিম্মি করে বেঁধে পেলে। এরপর ২০ মাস বয়সের শিশু মাহীবি রহমানের গলায় ধারালো ছুরি ধরে হত্যার হুমকি দিয়ে ১৫ ভরি স্বণালংকার, নগদ ৫০ হাজার টাকা ও দুইটি মোবাইলফোন লুট করে নিয়ে যায়।

খবর পেয়ে দুপুরে সেনবাগ থানার ওসি তদন্ত আবদুল আলীর নেতৃত্বে সঙ্গীয় পুলিশ ফোর্স ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

এর কিছুদিন আগে একই উপজেলার বীজবাগ ইউপির বালিয়াকান্দি গ্রামেও অনুরুপ ডাকাতি সংগঠিত হয়েছিলো। এছাড়া এক কৃষকের প্রায় দেড় লাখ টাকা মূল্যের ৩টি গরু চুরি করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।

গত শনিবার রাতে উপজেলার ৬নং কাবিলপুর ইউনিয়নের মহিদীপুর গ্রামের মনহর আলী পন্ডিত বাড়িতে চুরির ঘটনাটি ঘটে।

জানা যায়, শনিবার মধ্যরাতে কৃষক মনির আহমদের গরু ঘরের দরজার তালা ভেঙ্গে ১টি ষাড়, ১টি গাভি  ও ১টি বাছুর নিয়ে যায় দূর্বত্তরা। পরে ঘুম থেকে উঠার পর চুরির বিষয়টি নজরে আসে। এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে এই ইউনিয়নে আরো একাধিক চুরির ঘটনা ঘটেই চলেছে।

উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর সেনবাগ উপজেলার মজিরখীল দক্ষিণ পাড়ায় ভূইয়া বাড়িতে রাত ৩ টার সময় মন্নান নামের একজন চোরাই চক্রের সদস্য ধরা পড়লেও ২৪ঘন্টার পার না হতেই আবার বেরিয়ে যায়। এই ছাড়াও এই মন্নান সেনবাগ উপজেলায় আরো একাধিক স্থানে চুরির ঘটনায় হাতেনাতে তাকে আটক করে এলাকাবাসী গণধোলায় দিয়ে থানায় পুলিশের কাছে প্রেরণ করলেও এর কিছুক্ষণ পর আবার বেরিয়ে পড়ে থানা থেকে। এতে স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এছাড়াও সেনবাগ-শাহাপুর-মহিদীপুর সড়কে আরো কিছু চুরির ঘটনায় চোরাই চক্রের সদস্যরা ধরা পড়লেও মুহূর্তে  তাদের আবার বের করে নিয়ে আসে কিছু প্রভাবশালী মহল। তাই স্থানীয়রা প্রশাসনের উধ্বর্তন কর্মকর্তা-কর্মচারী দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। যেন দ্রুত এইসব চোরাই চক্রের মূল হোতাকে গ্রেফতার করে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। 

এ ব্যাপারে সেনবাগ উপজেলার ৯নং মোহাম্মদপুর ইউপি চেয়ারম্যান আমিন উল্যাহ বিএসসি বলেন, দ্রুত ডাকাত ও চোরাই চক্রকে গ্রেফতার করা আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের ঊধ্বর্তন কর্মকর্তা-কর্মচারীর দৃষ্টি আকর্ষণ  করছেন।  

এ ব্যাপারে নোয়াখালী ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক আবুল কালাম বলেন, প্রতি রাতেই চর উরিয়ায় ডাকাতির ঘটনা ঘটছে। ডাকাতির কবল থেকে রক্ষা পেতে প্রতিটি মহল্লায় রাত জেগে পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এওজবালিয়া ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডেরর ইউপি সদস্য নুরুল আমিন বলেন, গত এক সপ্তাহে সোনাদিয়া ও শুল্লুকিয়া গ্রামে ৬ বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাতির ঘটনায় আতংক ছড়িয়ে পড়ায় গ্রামবাসী রাত জেগে পাহারায় নেমেছেন।

সুধারাম মডেল থানার ওসি আনোয়ার হোসেন বলেন, কয়েকটি বাড়িতে চুরির খবর পাওয়া গেছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে খোঁজখবর নিয়েছে। চুরি-ডাকাতি নির্মূলে পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে।
 

Bootstrap Image Preview