Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৯ শনিবার, অক্টোবার ২০১৯ | ৩ কার্তিক ১৪২৬ | ঢাকা, ২৫ °সে

ভ্যালেন্টাইন'স ডে উপলক্ষে অনলাইনে রমরমিয়ে চলছে যৌন ব্যবসা!

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২ ফেব্রুয়ারী ২০১৯, ১২:৩৮ PM
আপডেট: ১২ ফেব্রুয়ারী ২০১৯, ১২:৩৯ PM

bdmorning Image Preview
সংগৃহীত


১৪ই ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবস বা সেন্ট ভ্যালেন্টাইন'স ডে। ভালোবাসাকে কেন্দ্র করেই মানুষের জন্ম ও বেড়ে ওঠা। ভালোবাসা হয়ে ওঠে সমস্ত সুখের উৎস ও বেঁচে থাকার প্রয়াস। তাই ১৪ ফেব্রুয়ারি দিনটি সব সম্পর্কের ও সব বয়সীদের মনে দিয়ে যায় দোলা। এই দিনে মানুষ তার ভালোবাসার মানুষকে ফুল, চিঠি, কার্ড, গহনা প্রভৃতি উপহার প্রদান করে দিনটি উদযাপন করে থাকে।

সারাবিশ্বের মতই ভারতীয় উপমহাদেশে মহাসমারোহে দিবসটি পালন করা হয়। তবে আতঙ্কের বিষয় হচ্ছে দিবসটি উপলক্ষে অনলাইনে রমরমিয়ে ডেটিং নামে যৌন ব্যবসা চলছে। এমনচিত্রই ফুটে উঠেছে ভারতীয় মিডিয়া গুলোতে। তরুণ-তরুণীরা এখন এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় আসক্ত। সেই আসক্তিকে কাজে লাগিয়ে ভালোবাসা দিবসকে উপলক্ষে অনলাইনে চলছে যৌন ব্যবসা। টাকার লেনদেনও হচ্ছে অনলাইনেই।

কলকাতা মহানগরে ‘কলগার্ল’-এর ব্যবসার বেশ রমরমা চলছে অনলাইনে বিজ্ঞাপন দিয়ে। অপরাধীরা সোশ্যাল মিডিয়াকেই কুকীর্তির জন্য বেছে নিচ্ছেন। ভারতে এর জন্য অনেক আইন রয়েছে কিন্তু এই সাইবার ক্রাইমের মাধ্যমে পুরো চক্রকে ধরে ফেলা প্রায় অসম্ভব বলেই দাবি করছেন সাইবার বিশেষজ্ঞরা। সেই কারনেই দেহব্যবসা বেশ্যালয় থেকে সরে এসে ধীরে ধীরে জায়গা করে নিচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। পাশাপাশি পতিতা পল্লী এখন তৈরি হচ্ছে ‘ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ডে’-ই। ফেসবুক, হোয়াটস অ্যাপে মিলছে তার প্রমাণ। টাকার লেনদেন হচ্ছে এই অনলাইন মাধ্যমে।

‘পূজা আর’ নামে একটি ফেসবুক প্রোফাইল রয়েছে যেখানে হোয়াটস অ্যাপ নম্বর দিয়ে বলা হয়েছে তারা দেশের সমস্ত শহরে যৌন পরিষেবা দিয়ে থাকেন। হোয়াটস অ্যাপে দেখা যাচ্ছে এই সংস্থা আদতে দিল্লির। সংস্থার নাম ‘পূজা ফ্রেন্ডশিপ ক্লাব’। এই ক্লাবে ১৫০০ টাকা দিয়ে হাই-প্রোফাইল যুবতীদের সঙ্গে সম্পর্ক করা যায়। টাকার লেনদেন হবে ডিবিএস ব্যাংক মারফৎ। হোয়াটস অ্যাপে স্পষ্ট বলে দেওয়া হয়েছে, ‘যার যা ইচ্ছা, যেমন ইচ্ছা হবে, তেমন পরিষেবা তাঁরা পাবেন’। ফেসবুক প্রোফাইলে অবশ্য রাজ্যের নাম দেওয়া হয়েছে পঞ্জাব।

প্রীতি ঘোষ নামে এরকমই আরও একটি প্রোফাইল রয়েছে ফেসবুকে। সেখানেও একই পদ্ধতিতে চলছে দেহ ব্যবসা। প্রোফাইলের ছবিই বলে দেবে ঠিক কি জন্য এই প্রোফাইল খোলা হয়েছে। এই চক্রটি বোলপুরের। আরও এমন একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে বিভিন্ন ভাবে ফ্রেন্ড সাজেশন আসছে। সিন্ধা নামের অ্যাকাউন্টে ‘সেক্স ভিডিও চ্যাট’-এর জন্য আবেদন করা হয়েছে। খরচ ৮০০ টাকা। টাকা দিতে হবে পেটিএমের মাধ্যমে। অগ্রিম ৫০০ টাকা দিতে হবে।

ভারতের আইটি বিশেষজ্ঞ বিভাস চট্টোপাধ্যায় বলেন, “এখন ফেসবুক, হোয়াটস অ্যাপই দেহ ব্যবসার বা সেক্স রকেটের প্রধান মাধ্যম হয়ে গিয়েছে। আমাদের দেশে এর জন্য ৬৭এ, ৬৭বি ধারায় শাস্তির ব্যবস্থা রেয়েছে। কিন্তু সমস্যা হল এই অপরাধীদের চিহ্নিত করা এবং এদের ধরা। আমাদের পুলিশ ডিপার্টমেন্টে যে সিস্টেম আছে তা দিয়ে এইসব চক্রের বংশ ধ্বংস করা বা ধরে ফেলা সম্ভব নয়। এটা এমনই একটা জগত যে একটা প্রোফাইল হ্যাক করলে অন্য স্থান থেকে অন্য প্রোফাইল বানিয়ে কাজ শুরু হয়ে যাবে। এদের জাল অনেক দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে রয়েছে। ট্র্যাক করে ফেলা অত্যন্ত কঠিন।”

একইসঙ্গে তিনি বলেন, “এর সঙ্গে এখন অনেক ট্যুরিজম সংস্থাও জড়িয়ে যাচ্ছে বলে আমাদের কাছে খবর রয়েছে। এই ব্যবসাটা আবার বেশী চলছে উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিতে।

বিশেষজ্ঞদের আরও সতর্কবানী, হাইটেক যুগে টেকস্যাভি হওয়া প্রয়োজন কিন্তু সেটা মাত্রাতিরিক্ত হলেই সমস্যা। কিভাবে কখন আপনি বা আপনার পরিবার এই চক্রের শিকার হয়ে পড়বে তা বোঝা মুশকিল।

Bootstrap Image Preview