Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৮ সোমবার, ফেব্রুয়ারি ২০১৯ | ৬ ফাল্গুন ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

সিলেটে খনিতে অব্যবহৃতভাবেই পড়ে আছে মূল্যবান ইউরেনিয়াম

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২ ফেব্রুয়ারী ২০১৯, ১১:৫২ AM
আপডেট: ১২ ফেব্রুয়ারী ২০১৯, ১১:৫২ AM

bdmorning Image Preview


মৌলভীবাজারের জুড়ি উপজেলার হারাগাছা ও সিলেটের জৈন্তাপুরে মাটির নিচে অব্যবহৃতভাবেই পড়ে আছে মূল্যবান খনিজ সম্পদ ইউরেনিয়াম। দেশে ৪৩ বছর আগে মূল্যবান ইউরেনিয়ামের সন্ধান মিললেও এখনও উত্তোলনের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। নিউক্লিয়ার বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য জাপান, জার্মান ও যুক্তরাষ্ট্র প্রতি বছর বিভিন্ন দেশ থেকে প্রচুর পরিমানে ইউরেনিয়ামের আমদানি করে থাকে।

হারাগাছা ও জৈন্তাপুর থেকে সংগৃহিত মাটি পরীক্ষা করে সংশ্লিষ্টরা দেখেছেন, এখানে ইউরেনিয়াম প্রাপ্তির হার ৫০০-১৩০০ পার্টস পার মিলিয়ন (পিপিএম)। বিশ্বের যেসব খনি থেকে ইউরেনিয়াম সংগ্রহ করা হয়। সেগুলোতে ৩শ থেকে এক হাজার পিপিএম ইউরেনিয়াম রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ১৯৭৫ সালে মৌলভীবাজারের জুড়ি উপজেলার হারাগাছায় সন্ধান মেলে দেশের প্রথম ইউরেনিয়াম খনির। বাংলাদেশ আণবিক শক্তি কমিশনের তৎকালীন জ্যেষ্ঠ ভূতত্ত্ববিদ ড. ইউনূসের নেতৃত্বে একটি বিশেষজ্ঞ দল হারাগাছা পাহাড়ে অনুসন্ধান চালিয়ে ইউরেনিয়াম প্রাপ্তির সম্ভবনার ব্যাপারে নিশ্চিত হন। এরপর ওই পাহাড়কে তেজস্ক্রিয় এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করে কমিশন। কিন্তু বাংলাদেশে ইউরেনিয়াম ব্যবহার ও উত্তোলনের অনুমতি না থাকায় এ প্রকল্পের কাজ ওই পর্যন্তই থেমে যায়।

এর ১০ বছর পর ১৯৮৫ সালে সিলেটে খনিজ সম্পদ অনুসন্ধান করতে গিয়ে আবারও আলোচনায় আসে হারগাছার ইউরেনিয়াম। এ সময় ওই প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে পুনরায় পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজ শুরু হয়। সেই সঙ্গে সিলেটের বিভিন্ন স্থানেও ইউরেনিয়াম অনুসন্ধান চালায় আণবিক শক্তি কমিশন। অনুসন্ধান চালিয়ে সিলেটের জৈন্তাপুরে ইউরেনিয়ামের সন্ধান পায়। অনুসন্ধান কাজে তাদেরকে সহায়াতা করেছিল ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদফতর। কিন্তু সীমান্তবর্তী এলাকায় ইউরেনিয়ামের সন্ধান পাওয়া গেলেও আন্তর্জাতিক বিধি-নিষেধে কারণে জৈন্তাপুরে ইউরেনিয়াম খনি নিয়ে গবেষণা বেশি দূর অগ্রসর হয়নি।

ওই সময় মৌলভীবাজারের জুড়ির হারাগাছা ও সিলেটের জৈন্তাপুর থেকে সংগৃহিত মাটি পরীক্ষা করে দেখা যায়, প্রতি ১০ লাখ মাটি কণার মধ্যে রয়েছে ৫০০-১৩০০ ইউরেনিয়াম কণা। অর্থাৎ পরীক্ষিত স্থানের মাটিতে ইউরেনিয়াম প্রাপ্তির হার ৫০০-১৩০০ পার্টস পার মিলিয়ন (পিপিএম)। কিন্তু বাংলাদেশের ইউরেনিয়াম উত্তোলনের অনুমতি না থাকায় আবারও থেমে যায় সব প্রক্রিয়া।

এর ছয় বছর পর ১৯৯১ সালে মৌলভীবাজারের হারাগাছায় ফের শুরু হয় অনুসন্ধান কাজ। ওই সময় হারাগাছা থেকে সংগৃহিত ইউরেনিয়াম আকরিক জাপানের আণবিক শক্তি কমিশনের জ্বালানি বিষয়ক গবেষণাগারে পাঠানো হয়। পরীক্ষায় হারাগাছায় উন্নতমানের ইউরেনিয়াম প্রাপ্তির বিষয়টি শতভাগ নিশ্চিত হওয়া যায়। পরে ওই এলাকায় কয়েকটি কূপ খনন হলেও আন্তর্জাতিক বিধি নিষেধের কারণে শেষ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম উত্তোলনের কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি।

তবে বাংলাদেশে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের অনুমতির সঙ্গে সঙ্গে ইউরেনিয়াম উত্তোলনের সব বিধিনিষেধ উঠে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরেনিয়াম ব্যবহার করে গড়ে ওঠতে পারে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। যা দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পারমাণবিক চুল্লিতে শক্তি উৎপাদক হিসেবে ইউরেনিয়াম ব্যবহৃত হয়ে থাকে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

২০০৯ সালের ২৯ নভেম্বর মৌলভীবাজার সফরে এসে তৎকালীন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এনামুল হক বলেন, হারাগাছার ইউরেনিয়াম আকরিক নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। আন্তর্জাতিক বিধিনিষেধ না থাকায় এ প্রকল্প থেকে শিগগিরই ইউরেনিয়াম উত্তোলন কাজ শুরু হবে।

এছাড়া ২০১০ সালের ৩ এপ্রিল সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে একটি বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র উদ্বোধনে এসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে দেশে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের ঘোষণা দেন। তবে সরকারের এমন আশ্বাসের পরও ইউরেনিয়াম উত্তোলনে কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি।

এ ব্যাপারে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যামিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড পলিমার সায়েন্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মুহিবুল আলম বলেন, ইউরেনিয়াম দেশের নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্টে ব্যবহারের পাশাপাশি উন্নত বিশ্বে রফতানি সম্ভব। তবে কি পরিমাণ ইউরেনিয়াম মজুদ আছে এবং তা উত্তোলনযোগ্য কি-না এসব বিশেষজ্ঞ দিয়ে দ্রুত যাচাই করা উচিত।

Bootstrap Image Preview