Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২০ মঙ্গলবার, আগষ্ট ২০১৯ | ৫ ভাদ্র ১৪২৬ | ঢাকা, ২৫ °সে

যে ৬ কারণে মানুষ আত্মহননের পথ বেছে নেয়

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১ ফেব্রুয়ারী ২০১৯, ০৮:০৭ PM
আপডেট: ১১ ফেব্রুয়ারী ২০১৯, ০৮:০৭ PM

bdmorning Image Preview


সুখ-দুঃখের মাঝেই মানুষের জীবন। প্রতিনিয়ত আমরা যুদ্ধ করে চলেছি পরিবেশের সাথে, পরিস্থিতির সাথে। আর এসবের মাঝে কখনো বা প্রেমে ব্যর্থতা, পরকীয়া, পরীক্ষায় অকৃতকার্যতা, অর্থনৈতিক সমস্যা, সামাজিক অপমান ইত্যাদি কারণে মানুষ বিভিন্ন সময় আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। মূলত জীবনের প্রতি বিতৃষ্ণা জন্মালেই মানুষ আত্মহত্যা করে জীবনের সব যন্ত্রণার পরিসমাপ্তি ঘটায়। 

সম্প্রতি ভিকারুন্নেসা নূন স্কুলের শিক্ষার্থী অরিত্রির আত্মহত্যার রেশ কাটতে না কাটতেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আবার কয়েক দিন ধরে ঝড় উঠেছে চট্রগ্রামের ডাক্তার আকাশের আত্মহত্যা নিয়ে। অরিত্রি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছিল পরীক্ষা দিতে না পারার কারণে, আর আকাশের আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছিল স্ত্রীর পরকীয়া কারণে। তাদের এভাবে চলে যাওয়া বন্ধুবান্ধব থেকে শুরু করে আত্মীয়স্বজন কেউ মেনে নিতে পারেননি।

শুধু অরিত্রি ও ডাক্তার আকাশই নয়, আমাদের সমাজের বিভিন্ন ঘটনার দিকে আলোকপাত করলে আমরা দেখতে পাই পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, বেকারত্ব, দারিদ্র্যতাসহ বিভিন্ন কারণে মানুষ আত্মহত্যা করছে।

এখন কথা হচ্ছে কীভাবে এই আত্মহত্যার নিয়ন্ত্রণ করা যায়। কারণ একজন মানুষ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কেবল আত্মহত্যা করে। তাই একজন মানুষকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে এবং আত্মহত্যার মতো আত্মঘাতী ব্যাপারটিকে এড়িয়ে চলতে কিছু করণীয় আছে।

চলুন জেনে নেই, মানুষ কেন আত্মহত্যা করে? আর আত্মহত্যা ঠেকাতে আমরা কী করতে পারি। আত্মহত্যার ব্যাপারে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের সহকারী অধ্যাপক তৌহিদুল হক জানান, একজন মানুষ নিজের ওপরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে তখনই আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। তাই একটা সময় ছিল যখন জাপানে আত্মহত্যার ঘটনা প্রকট আকার ধারণ করেছিল।

তবে তারা তাদের পাঠ্যক্রমে বিষয়টি সংযুক্ত করে ও সামাজিক ও পারিবারিভাবে বিষয়টি মোকাবেলা করে। তাই আমি বলতে চাই বাংলাদেশে সামাজবিজ্ঞান বিভাগের পাঠক্রমে দাম্পত্য কলহের বিষয়ে তুলে ধরা ও এর সমাধানে কী করা যেতে পারে তা অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, যে কোনো ব্যক্তি যদি কোনো ধরনের মানসিক সমস্যায় পড়েন তবে অবশ্যই তাকে তার কাছের কারো সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করতে হবে। নিজের মধ্যে কোনো বিষয়কে চাপিয়ে রাখা যাবে না।

এছাড়াও আরো বেশ কয়েকটি কারণ একত্রে হয়ে একজন মানুষকে আত্মহননের পথে ঠেলে দিতে সক্ষম। যেসব কারণে মানুষ আত্মহত্যা করে-

তাদের কোনো মানসিক সমস্যা আছে

অনেক সময়ে সিজোফ্রেনিয়া জাতীয় মানসিক সমস্যা থাকলে আত্মহনন করতে ইচ্ছে করে মানুষের। তাদের মনে হয় কেউ তাদেরকে আত্মহত্যা করতে বলছে, কেউ তাকে অত্যাচার করে চলেছে সর্বক্ষণ। মাথার ভেতরে অন্য কারও কথা এভাবে শুনতে থাকলে তার আত্মহত্যা করার ইচ্ছে আসতে পারে। আর সাধারণত এসব কথার অমান্য করার উপায় থাকে না এসব মানুষের। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, সিজোফ্রেনিয়ার রোগীরা হয়ে থাকেন খুব সাধারণ ধাঁচের, জীবনে সফলতার পেছনে ছুটতে থাকা মানুষেরা যারা অনেক সময়ে ব্যর্থ হয়েছেন। তাদের মাথার ভেতরে শুনতে পাওয়া এসব কথার ক্ষমতা কমে না আসা পর্যন্ত তাদের আত্মহননের সম্ভাবনা থেকে যায়।

অতিরিক্ত আবেগপ্রবণ

অনেক সময়ে মাদক গ্রহণের ফলে খুব বেশি আবেগপ্রবণ হয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে ফেলে মানুষ। কিন্তু ঘোর কেটে গেলে এবং শান্ত হয়ে এলে তারা নিজেদের এই কাজে লজ্জিত হন। তবে এর পরেও তারা আবার আত্মহত্যার চেষ্টা করবেন কি করবেন না, তা নিশ্চিত হয়ে বলা যায় না। এর পর আবার তারা মাদক নিলে আবারও আত্মহত্যার চেষ্টা করতে পারেন। অথবা জীবনেও আর চেষ্টা না করতে পারেন। এ কারণে সবার আগে প্রয়োজন তাদের মাদকাসক্তি দূর করা।

তারা বিমর্ষ

মাঝে মাঝে আমাদের সবার মাঝেই প্রচন্ড বিষণ্ণতা ভর করে। মনে হয় আমাদের জীবন শূন্য। এ কারনেই মূলত সবচাইতে বেশি মানুষ আত্মহত্যা করে। জীবনের কোনো এক কারণে তারা হতাশ এবং বিষণ্ণ। বেঁচে থাকার দায়ভার তারা আর বহন করতে পারে না, ফলে বেছে নেয় আত্মহননের পথ। তাদের মাথায় প্রায়ই এমন ভাবনা আসে, “সবাই আমাকে ছাড়াই সুখী হবে”, “আমার জন্যেই সে সুখি হতে পারছে না”, “আমি সবার জন্য বোঝা”। অথচ তাদের এমনটা ভাবার কোনো কারণই নেই। বিষণ্ণতা অনেক সময়ে সারিয়ে তোলা সম্ভব হয় না। এ কারণে কাছের মানুষদের মাঝে এর লক্ষণ আমাদের চিনে রাখতে হবে এবং তাদের ওপরে রাখতে হবে বিশেষ নজর।

সাহায্য দরকার কিন্তু যখন সেটা না পাই

তাদের জীবনে রয়েছে খুব বড় একটা সমস্যা, কিন্তু এই সমস্যার সমাধান তারা একা করতে পারছে না। অন্য কারও কাছে সাহায্য চাইবার ভাষাও তাদের জানা নেই। এমন অবস্থায় মৃত্যু না চাইলেও আত্মহত্যা করতে চান অনেকে।

তারা সাধারণত এমন কোনো উপায় মৃত্যু বেছে নেন যাতে মৃত্যু না হবারও সম্ভাবনা আছে। সাধারণত তাদেরকে কষ্ট দিয়েছে এমন কোনো মানুষকে ভয় পাওয়ানোর জন্য এই কাজ করা হয়। এর খুব স্বাভাবিক উদাহরন হলো একটা টিনেজার মেয়ে তার প্রেমিকের ওপরে রাগ করে এক বোতল ওষুধ খেয়ে ফেলেছে। সে আসলে অন্যদেরকে ভয় দেখানোর জন্য কাজটা করেছে কিন্তু এতে যে তার জীবন শেষ হয়ে যাবে তা সে নিজেও আশা করেনি।

তারা দার্শনিক কোনো কারণে মরতে চায়

একজন মানুষ যদি জানে তার এমন কোনো অসুস্থতা আছে যার ফলে সে অনেক কষ্ট পেয়ে মারা যাবে শীঘ্রই, তবে সে ঠাণ্ডা মাথাতেই আত্মহত্যা করার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকতে পারে। তাদের কোনো মানসিক বা আবেগজনিত সমস্যা নেই। তারা নিজের জীবনটাকে প্রলম্বিত করতে অনিচ্ছুক মাত্র। এক্ষেত্রে যা করা যায় তা হলো, তাদের এই ছোট জীবনটাকেও আনন্দে পরিপূর্ণ করে রাখার চেষ্টা করতে পারেন তার প্রিয়জনেরা। তাহলে তার আত্মহত্যার ইচ্ছে কমে যেতে পারে।

তারা কোনো একটা ভুল করে ফেলেছে

জীবনে মানুষ অনেক ভুল করে থাকে, বিশেষ করে কাঁচা বয়সে। এ সময়ে ভুলের মাশুল গুনতে অনেকেরই জীবনের ওপর বিতৃষ্ণা এসে পড়ে এবং তারা আত্মহননের পথ বেছে নেয়। এর একমাত্র সমাধান হলো জীবনের ব্যাপারে পিতামাতার দেওয়া শিক্ষা।

Bootstrap Image Preview