Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৯ মঙ্গলবার, নভেম্বার ২০১৯ | ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ | ঢাকা, ২৫ °সে

ফেসবুকের ‘টেন ইয়ার চ্যালেঞ্জ’র ফাঁদে কি আপনিও পড়েছেন?

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৭ জানুয়ারী ২০১৯, ০১:১৬ PM
আপডেট: ১৭ জানুয়ারী ২০১৯, ০১:১৬ PM

bdmorning Image Preview


ফেসবুকজুড়ে এখন নতুন ট্রেন্ড ‘১০ বছরের চ্যালেঞ্জ’ এই ট্রেন্ডের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অনেকেই ফেসবুকে ১০ বছর আগের ছবির সঙ্গে সদ্য তোলা ছবি পোস্ট করছেন। তবে আপনার নিরীহ এ ছবি পোস্টের সঙ্গে অন্যের অসৎ উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশ্লেষকেরা। 

বুধবার (১৬ জানুয়ারি) ফেসবুক কর্তৃপক্ষ ওই ট্রেন্ডের সঙ্গে নিজেদের সংশ্লিষ্টতা না থাকার ঘোষণা দিয়েছে।

ওই মিম ফেসবুকে দেওয়ার হিড়িক পড়ে যাওয়ার পর থেকে বিষয়টি নিয়ে সতর্ক করেন বিশ্লেষকেরা। তারা বলেন, এর পেছনে ফেসবুকের গোপন উদ্দেশ্য থাকতে পারে। ফেসবুক তাদের নিজস্ব ফেশিয়াল রিকগনিশন অ্যালগরিদম উন্নত করার জন্য এ ধরনের ট্রেন্ড সামনে এনেছে। গোপনে তারা এসব ছবি থেকে তথ্য সংগ্রহ করছে। ফেসবুক অবশ্য বিষয়টি অস্বীকার করেছে। সিবিএস নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটি স্টার্ন স্কুল অব বিজনেসের অধ্যাপক অ্যামি ওয়েব বলেছেন, ফেসবুকে ব্যবহারকারী কোনো ছবি আপলোড করলেই ধরতে পারবে ফেসবুক। এ ধরনের ছবি সংগ্রহ করার ফলে ফেসবুকের মেশিন লার্নিংকে উন্নত করার ভয়ানক এক সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। ফেসবুক তাদের সিস্টেমকে এমনভাবে উন্নত করতে পারবে, যাতে সামান্যতম পরিবর্তনও তারা ধরতে পারে।

গত সপ্তাহ থেকে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও টুইটারে লাখো ব্যবহারকারী ‘টেন ইয়ার চ্যালেঞ্জ’ নামের এই ট্রেন্ডের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ছবি পোস্ট করতে শুরু করেন। গত তিন দিনে ফেসবুকে এ চ্যালেঞ্জ ৫২ লাখ সাড়া পেয়েছে বলে জানিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া নজরদারির প্রতিষ্ঠান টলওয়াকার।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঝড় তোলা ‘বার্ড বক্স’, ‘টপ নাইন ফটো কোলাজ’–এর পর ‘টেন ইয়ার চ্যালেঞ্জ’ ট্রেন্ড জনপ্রিয় হয়েছে। কিন্তু এ ট্রেন্ডগুলোয় গা ভাসানোর আগে নিরাপত্তা ও প্রাইভেসির বিষয়টি অনেকেই খেয়াল করেননি।

ফেসবুকের পক্ষ থেকে এক বিবৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, এ চ্যালেঞ্জ শুরু করার ক্ষেত্রে তারা কোনো ভূমিকা রাখেনি এবং এ থেকে তারা কোনো সুবিধা দেখছে না।

ফেসবুক কর্তৃপক্ষ বলছে, এটা ব্যবহারকারী সৃষ্ট মিম, যা ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। ফেসবুক এই ট্রেন্ড শুরু করেনি। ফেসবুকে থাকা ছবি নিয়েই অনেকেই এ মিম তৈরি করছেন। এ মিম থেকে ফেসবুক কিছুই পাবে না। ফেশিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তি ব্যবহারকারী চাইলে যেকোনো সময় চালু বা বন্ধ করতে পারেন।

অবশ্য ফেসবুক এ চ্যালেঞ্জ শুরু না করলেও অনেক দিন ধরেই তারা ফেশিয়াল রিকগনিশনের ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ব্যবহারকারীকে শনাক্ত করছে। ফেসবুকের এই সফটওয়্যারের ওপর নির্ভর করে নতুন পণ্যও বাজারে ছাড়া হচ্ছে। যেমন সম্প্রতি ফেসবুকের ভিডিও চ্যাট ডিভাইস পোর্টালে এসেছে এ প্রযুক্তি। যাতে এমন ক্যামেরা রয়েছে, যা ঘরের মধ্যে আপনি যেদিকে যাবেন সেদিকে আপনাকে অনুসরণ করবে এবং আপনার মুখের ওপর ফোকাস রাখবে।

এর আগে অবশ্য গুগলের পক্ষ থেকে ১০ ইয়ার চ্যালেঞ্জের অনুরূপ একটি প্রচেষ্টা চালানো হয়েছিল। গুগলের আর্টস অ্যান্ড কালচার অ্যাপ ব্যবহারকারীর সেলফির সঙ্গে চিত্রকর্মের মিল খুঁজে দেওয়ার কথা বলা হয় তাতে। এতে ব্যবহারকারী তার ছবি আপলোড করলে ফেশিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তিতে ব্যবহারকারীর ছবি ও চিত্রকর্ম পাশাপাশি দেখানো হয়।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, কয়েক দিন বাদে হলেও নতুন ট্রেন্ড নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে, এটা ভালো দিক। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর হাতের পুতুল হওয়ার আগে একটু চিন্তা করার প্রয়োজন আছে বৈকি!

Bootstrap Image Preview