Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২২ শুক্রবার, মার্চ ২০১৯ | ৮ চৈত্র ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

নাব্য সঙ্কটে বৌলাই নদীতে নৌজট

হাবিবুর রহমান, জামালগঞ্জ (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ
প্রকাশিত: ১২ জানুয়ারী ২০১৯, ০৮:১৬ PM
আপডেট: ১২ জানুয়ারী ২০১৯, ০৮:১৬ PM

bdmorning Image Preview


সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার বৌলাই ও আবুয়া নদীতে নাব্য সঙ্কটের কারণে প্রায় চার শতাধিক বালু ও পাথর বোঝাই নৌকা ১৭ দিন ধরে আটকা পড়ে আছে। এর ফলে বালু ও পাথর ব্যবসায়ীরা লোকসানের মুখে পড়েছে। এ ছাড়া এসব নৌযানের দু’হাজার নৌযান শ্রমিকও দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

সরেজমিন দেখা গেছে, জামালগঞ্জ উপজেলার বেহেলী ইউনিয়নের বৌলাই ও আবুয়া নদীর হিজলা, মাহমুদপুর, পৈন্ডুপ, মদনাকান্দি, দুর্গাপুর, হাওরিয়া আলীপুর, বদরপুর ও বেহেলীসহ প্রায় ৩ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বাল্কহেড, স্টীলবডি, বারকি, যাত্রীবাহী ও মালবাহী নৌযান আটকা পড়ে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।

এর ফলে বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর ও জামালগঞ্জ উপজেলার আংশিক এলাকায় সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ, তবে সড়ক পথ সচল রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘ ৬-৭ বছর ধরে বৌলাই নদী ও আবুয়া নদীতে বছরের এসময় নাব্য সংকট দেখা দেয়। গুরুত্বপূর্ণ এ নদী দিয়ে ফাজিলপুর বালুপাথর মহাল থেকে বালু পাথর উত্তোলন করে দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিবহন করা হয়।

বলগেট পরশী নৌরিন নামক নৌকার সুকানি বাজিতপুরের চানমিয়া বলেন, '১২ দিন যাবৎ বসে আছি, নৌকা চলে না, যদি সিরিয়েলভাবে একটা একটা করে নৌকা চলত তবে এই সমস্যা হইত না। ৪ শতাধিক নৌকার দেড় সহস্রাধিক শ্রমিক বসে বসে অর্থ ব্যয় করছে।

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর নৌ পরিবহন সমিতির সদস্য মো.আব্দুল হান্নান বলেন, বাজিতপুর থেকে এখানে শতাধিক বাল্কহেড নৌকা বালু কিনতে এসেছিল। সেগুলোর বেশিরভাগই ২০ দিন ধরে নদীতে আটকা পড়ে আছে। ফলে ঠিকাদারদের বালু সরবরাহ করা যাচ্ছে না। তাদের নির্মাণ কাজও বন্ধ রয়েছে।

নৌযান শ্রমিক নূর মিয়া বলেন, নৌকা নদীর তীরে লাগিয়ে এক সপ্তাহ ধরে বসে আছি। এখানেই থাকা খাওয়ার কাজ সারতে হচ্ছে। একদিকে ট্রিপ নষ্ট হচ্ছে অন্যদিকে সময়। এতে লোকসানের মুখে পড়ছে ব্যবসায়ী ও বালু শ্রমিকরা।

দক্ষিণ কামলাবাজ গ্রামের বালি-পাথর ব্যবসায়ী এম আল আমিন বলেন, ‘বর্ষাকালে নদীর গভীরতা ঠিক থাকলেও শীতে গভীরতা ও প্রস্থ অনেক কমে যায়। তাই শীতে এ নদী দিয়ে ভারী নৌযান চলাচল করতে পরে না। এ কারণে সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে।

বেহেলী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান অসীম চন্দ্র তালুকদার বলেন, দীর্ঘদিন যাবৎ নদী খনন না করায় নাব্য সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এ নদীটি খনন করা জরুরি।

লালপুর নৌপুলিশ ফাঁড়ির এসআই আনিসুর রহমান বলেন, নাব্য সংকট দেখা দেওয়ার কারণ নদী সরু হয়ে যাওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। নৌপুলিশ নৌজট নিরসনের জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছে।নদীতে গভীরতা কম হওয়ার কারণে সম্ভব হচ্ছে না।

জামালগঞ্জ উপজেলা পানি উন্নয়ন বোডে দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা নিহারঞ্জন দাস বলেন, বৌলাই নদী খননের প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এবার নাব্য সংকটের কারণে ড্রেজার নদীতে আনা যাচ্ছে না। তাই আগামীতে নদী খনন করে সমস্যার সমাধান করা হবে।

Bootstrap Image Preview