Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২২ শুক্রবার, মার্চ ২০১৯ | ৮ চৈত্র ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

বিলুপ্তির পথে সাদা বাঘ আর উল্লুক

হৃদয় দেবনাথ, মৌলভীবাজার প্রতিনিধিঃ
প্রকাশিত: ১১ জানুয়ারী ২০১৯, ০৬:১৩ PM
আপডেট: ১১ জানুয়ারী ২০১৯, ০৬:১৩ PM

bdmorning Image Preview


সাদা বাঘ এবং উল্লুক বিরল প্রজাতির প্রাণী। বাংলাদেশের কোনো বনে উল্লুক না থাকলেও লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে দেখা মিলে এদের।    

প্রাণী সংরক্ষণবিদরা বলছেন, উল্লুকের মতো সাদা বাঘও এখন আর খুব একটা দেখা যায় না। বিপন্ন প্রজাতির সাদা বাঘ শ্রীমঙ্গল শহরের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণবিদ সিতেশ রঞ্জন দেবের মিনি চিড়িয়াখানায় রয়েছে।

জানা যায়, প্রায় ৮ বছর আগে ৬ মাস বয়সি একটি সাদা বাঘ শ্রীমঙ্গলের হাওরে জেলেদের জালে ধরা পড়ে। সিতেশ দেব খবর পেয়ে বাঘটি সংগ্রহ করে তার মিনি চিড়িয়াখানায় নিয়ে আসেন। বর্তমানে সাদা বাঘটির ওজন প্রায় ২৫ কেজি। অত্যন্ত হিংস্র এই বাঘ মাংস ছাড়া অন্য কোনো খাবার গ্রহণ করে না। প্রতিদিন বাঘটি দেড় কেজি মুরগির মাংস খায়।

সাদা বাঘের সবচেয়ে আশ্চর্য বৈশিষ্ট্য হচ্ছে- প্রতি মুহূর্তে এর চোখের রং বদলায়। বাঘটি দেখতে এখানে প্রতিদিন প্রচুর দর্শনার্থী ভিড় করেন। ড. মো. আলী রেজা খানের 'বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী' ও 'দ্য বুক অব ইন্ডিয়ান এনিমেল'সহ বেশ কিছু প্রাণীবিষয়ক বইয়ের পাতা উল্টিয়েও এই প্রজাতির বাঘ আর কোথাও আছে কি না সে সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

শ্রীমঙ্গল বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক সিতেশ রঞ্জন দেব বিডিমর্নিংকে বলেন, সাদা বাঘটি যখন উদ্ধার করি তখন ওজন ছিল মাত্র ১৫০ গ্রাম। আমার ধারণা ভারত থেকে উজানের বর্ষার ঢলের পানিতে সঙ্গী হারিয়ে বাঘটি এদিকে চলে আসে। তবে আমার জানা মতে এ পর্যন্ত বাংলাদেশের কোথাও বিরল প্রজাতির এই বাঘের সন্ধান পাওয়া যায়নি। 

অন্য কোনো প্রাণীবিদ এ সম্পর্কে জানেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাংলাদেশের অনেক প্রাণীবিদ আছেন যারা অনেক পশুপাখির নামই জানেন না। আমার কাছ থেকে শিখে এবং তথ্য জেনে অনেক প্রাণীবিদ পুরস্কার পর্যন্ত পেয়েছেন। অন্যদিকে বিরল প্রজাতির বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীর মধ্যে রয়েছে উল্লুক। ব

ন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ প্রজাতির প্রাণী বেশিদিন আর টিকতে পারবে না। এর প্রধান কারণ হচ্ছে নির্বিচারে বন উজার এবং বনাঞ্চলে ফলজগাছের দুষ্প্রাপ্যতা। তাছাড়া উপজাতিরা উল্লুক হত্যা করে খায়। এটিও একটি কারণ।

বর্তমানে বাংলাদেশে এ প্রাণীর সংখ্যা দুই'শ এর কম। দেশের বিলুপ্তপ্রায় উল্লুকের শেষ আশ্রয়স্থল হলো মিশ্র চিরহরিৎ অরণ্য লাউয়াছড়া ন্যাশনাল পার্ক। আন্তর্জাতিক একটি সংস্থা এ প্রাণীটিকে অত্যন্ত বিপন্ন হিসেবে চিহ্নিত করেছে। খুব দ্রুত এদের সংরক্ষণের উদ্যোগ না নিলে খুব তাড়াতাড়ি এরা বিলুপ্ত হয়ে যাবে। ২০০৩ সালের মার্চে লাউয়াছড়া ন্যাশনাল পার্কে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক এবং শিক্ষার্থীরা উল্লুক সংরক্ষণে উদ্বুদ্ধকরণ ও প্রচারণামূলক সমাবেশ করেন। এর মূল প্রতিপাদ্য ছিল 'উল্লুক সংরক্ষণে এগিয়ে আসুন'। এ সময় লাউয়াছড়ায় জনসচেতনতামূলক কয়েকটি বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়।

লাউয়াছড়া বনে কর্মরত বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আইপ্যাক ও বনবিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালের মে মাসে ইংল্যান্ডে অধ্যয়নরত ফিনল্যান্ডের ছাত্রী পেট্টা লাউয়াছড়ার উল্লুকের ওপর গবেষণা করেন।

গবেষণায় দেখা গেছে, লাউয়াছড়ায় ১৪টি উল্লুক পরিবার রয়েছে। এদের প্রতি পরিবারের সদস্য সংখ্যা ২-৫। সেই হিসাব অনুযায়ী এখানে মোট উল্লুকের সংখ্যা ৫১। বাংলাদেশে উল্লুক বিষয়ক গবেষণা অত্যন্ত সীমিত।

গবেষকগণ মনে করেন, এ বিষয়ে গবেষণা ও কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হলে এবং লাউয়াছড়া ন্যাশনাল পার্কে বর্তমানে বসবাসরত উল্লুক যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হলে বিলুপ্তপ্রায় এই প্রাণীটি হয়তো টিকে যাবে।

তাদের মতে, বাংলাদেশের অন্যান্য বনাঞ্চলের চেয়ে উল্লুক বসবাসের জন্য এখনো লাউয়াছড়া ন্যাশনাল পার্ক অনেক বেশি উপযোগী। উল্লুক দলবদ্ধ হয়ে বাস করে। প্রতিটি পরিবার বা দল নির্দিষ্ট একটি এলাকার মধ্যে অবস্থান করে। এদের খাদ্য তালিকায় ৫১ শতাংশ পাকা ফল, ৩৮ শতাংশ ডুমুর, ৫ শতাংশ ফুল এবং ৬ শতাংশ পাতাকুঁড়ি রয়েছে। দেশের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সাদা বাঘ এবং উল্লুক সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়া জরুরি। 

Bootstrap Image Preview