Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ০৬ শুক্রবার, ডিসেম্বার ২০১৯ | ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ | ঢাকা, ২৫ °সে

মাদকবিরোধী সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিকের ওপর হামলা

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধিঃ
প্রকাশিত: ০১ জানুয়ারী ২০১৯, ০৫:১৭ PM
আপডেট: ০১ জানুয়ারী ২০১৯, ০৫:১৭ PM

bdmorning Image Preview


মাদক কারবারিকে নিয়ে সংবাদ লেখায় হামলার শিকার হয়েছেন সাংবাদিক মুজাহিদুল ইসলাম নাঈম। হামলাকারীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তাঁর মাথা, নাক ও চোয়ালে গুরুতর জখম হয়েছে।

রবিবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট চলাকালে সকাল সাড়ে দশটার দিকে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার গোপালপুর সরকারি বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। মুজাহিদ ঢাকা টাইমসের আলফাডাঙ্গা উপজেলা প্রতিনিধি।

জানা যায়, গত ২০ আগস্ট মাদকবিরোধী অভিযানে ইয়াবাসহ আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে থেকে জিহাদুল ইসলাম জিহাদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা হয়। ওই মামলায় আদালতে তোলা হলে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয় আদালত।

ওই ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও সংবাদপত্রে সংবাদ লেখায় নাঈমের ওপর চড়াও হয় জিহাদের স্বজনরা। পরে মামলায় জামিনে বেরিয়ে এসে বিভিন্ন সময় আসামি জিহাদ তাকে শাসানোর পাশাপাশি হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিল।

মুজাহিদুল ইসলাম নাঈম গোপালপুর সরকারি বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোটার। তিনি জানান, রবিবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে তিনি সেখানে ভোট দিতে যান। ভোট দিয়ে কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে আসার সময় জিহাদ তার সাঙ্গপাঙ্গসহ নাঈমের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

হামলাকারীদের হাতে ধারালো অস্ত্র, লোহার রড ও পাইপ ছিল। এ সময় তারা নাঈমকে উপর্যুপরি পেটালে তাঁর মাথা, মুখ ও বুকসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় মারাত্মক জখম হয়। মারধরে তার মাথা ও নাক ফেটে গেছে। মুজাহিদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিও ভাঙচুর করে হামলাকারীরা। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়।

সেখানকার মেডিকেল কর্মকর্তা চিকিৎসক সুমন রায় বলেন, সাংবাদিক নাঈমের মাথা, নাক, চোয়াল ও বুকে মারাত্মক আঘাত লেগেছে। এতে তার নাক থেকে রক্তক্ষরণ হয়েছে।

নাঈম ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জিহাদ ছাড়াও হামলাকারীদের মধ্যে ছিল মামুন শেখ, সৈয়দ মামুন, সৈয়দ মাসুম, বিল্লাল শেখ, মামুন শেখ, ইমরান, মুকুল, আশিক, সোহেল, রাসেল, মাহফুজ, রাজু, লিংকন কাজী, বায়জিদ, ছাদ্দাম, নির্জন, সাহেবসহ আরও কয়েকজন। তারা সবাই একই উপজেলার গোপালপুর গ্রামের বাসিন্দা।

জানতে চাইলে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও আলফাডাঙ্গা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা জয়ন্তী রূপা রায় সাংবাদিকদের বলেন, সাংবাদিক মুজাহিদের ওপর হামলার খবর পাওয়ার পর সেখানে ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ পাঠিয়েছি। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, হামলাকারীদের কাউকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি। পুলিশ তাদের গ্রেপ্তারের জন্য খুঁজছে।

Bootstrap Image Preview