Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২৪ শুক্রবার, জানুয়ারী ২০২০ | ১১ মাঘ ১৪২৬ | ঢাকা, ২৫ °সে

পুলিশের রমরামা মাদক কারবারী আটক বাণিজ্য!

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ১০:০৯ PM
আপডেট: ০৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ১০:০৯ PM

bdmorning Image Preview


গোদাগাড়ী প্রতিনিধিঃ

রাজশাহীর গোদাগাড়ী মডেল থানা পুলিশের মাদক ব্যবসায়ীদের ধরপাকড় বাণিজ্য চলছে রমরমা। সরকার যখন মাদক ব্যবসায়ীদের জন্য জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করছে তখন পুলিশ এইটাতে হাতিয়ার হিসেবে নিজেদের বাণিজ্য তুঙ্গে তুলেছেন। পুলিশ এখন নিজেদের আড়াল করতে নতুন কৌশল গ্রহণ করেছে। তালিকাভুক্ত যেসব মাদক ব্যবসায়ীরা এলাকায় চলাফেরা করছে তাদের ধরে ভয়ভীতি দেখিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

জানা গেছে, গোদাগাড়ী মডেল থানা পুলিশের এসআই ও এএসআয়েরা গোদগাড়ী থানার ওসিকে ম্যানেজ করেই এই ফায়দা লুটে নিচ্ছে। যদিও গোদাগাড়ী মডেল থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলমের ক্লিন ইমেজ আছে বলে প্রচলন আছে, তবে এটিকেই ভর করে লক্ষ লক্ষ টাকার বাণিজ্যে মেতেছে গোদগাড়ী মডেল থানা পুলিশের কিছু কর্মকর্তা ও সদস্য।

গোদাগাড়ী মডেল থানা পুলিশের মাদক কারবারীদের হতে বাণিজ্য করতে কয়েকটি গ্রুপে ভাগ হয়ে তারা এই কাজটি করে চলেছে।

বিশ্বস্থ একটি সূত্রে জানা যায়, গোদাগাড়ী মডেল থানার এসআই আব্দুল করিমের নেতৃত্বে তিন-চার জন এসআই মাদক ব্যবসায়ীদের ধরে টাকাও নিচ্ছে আবার মামলাও দিচ্ছে। এসআই আমিনুলের নেতৃত্বে আরো তিন জন জড়িত এসআই মান্নানের নেতৃত্বে কয়েকজন জড়িত হয়ে প্রতিদিন মাদক কারবারীদের টর্গেট করে টাকা কামাইয়ের নেশায় মেতেছে। বেপরোয়া হয়ে উঠেছে পুলিশ। আবার পুলিশ কর্মকর্তারা মাদক ব্যবসায়ীদের ধরে টাকা আদায় করতে দালাল সেট করে ভয় ভীতির ঘটনাও ঘটছে এতে সাধারণ মানুষও এই ঘটনার ভুক্তভোগী হচ্ছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ৩০ নভেম্বর (শুক্রবার) সন্ধ্যায় গোদাগাড়ী মডেল থানা পুলিশের এসআই আমিনুল ও এএস আই হামিদুর রহমান উপজেলার সাগুয়ান ঘুন্টি এলাকার আবু বক্করের ছেলে মোঃ সেলিম (২৭) কে মাদক ব্যবসাীয় হিসেবে আটক করে। আটক করার পর পুলিশের এই দুই কর্মকর্তা দেন দরবার শুরু করে। এ জন্য মাদক করবারীদের দালালও ঠিক করা হয়। দালাল দ্বারা তাদের মনের মত দেনদরবার না হওয়ার ফলে এএসআই হামিদুর রহমান নিজেই মদক কারবারী সেলিমের আত্নীয়দের সাথে কথা বলে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা উৎকোচ নেই। বিনিময়ে তাকে মাদক মামলা হালকা করার জন্য ২০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার দেখিয়ে মামলা দায়ের করে।

এ বিষয়ে গোদাগাড়ী মডেল থানাও এএসআই হামিদুর বলেন, শুধু আমারা একটু কিছু করলেই উঠে পড়ে লেগে যান। আমি এই বিষয়ে কিছু জানি না। এসআই আমিনুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করতে বলেন তিনি।

গোদাগাড়ী মডেল থানার এসআই আমিনুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সেলিম নামের এক মাদক কারবারীকে ধরে মামলা দেওয়া হয়েছে।

টাকা উৎকোচ নেওয়া হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, থানার প্রধান কর্তাকে জানিয়েই হালকা পাতলা কিছু হইছে। ওসি তো কিছুই জানে না, এমন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন- ওসিকে জানা ছাড়া কিছু হয় কোনদিন এটা ভাববেন না।

গোদাগাড়ী মডেল থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলমের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া মাদক ব্যবসায়ীকে আটকের সত্যতা নিশ্চিত করেন। টাকা পয়সার দেন দরবার হয়েছে কিনা তা জানতে চাইলে- আমার জানামতে এমন কিছু হয়নি বলে জানান তিনি। তবে 'আমি খোঁজ নিয়ে জানাচ্ছি' বলে ফোনটি রেখে দেন।

অপরদিকে, গোদাগাড়ী থানা পুলিশের আরেক এসআই আব্দুল করিমের বিরুদ্ধে রয়েছে আটক বাণিজ্যে ব্যাপক অভিযোগ। তিনি নিজেকে খুব ক্ষমতাধর জাহির করে বেপরোয়াভাবে মাদক কারবারীদের আটক করে মামলাও দিচ্ছে আবারও টাকাও নিচ্ছে। নিজেকে বাঁচাতে মাদক কারবারীকে না ছাড়লেও মামলা হালকা করে দেওয়া হবে এই বলে টাকা আদায় করছে ভয়ভীতি দেখিয়ে। এসআই করিম জুয়েল নামের এক দালাল কে সেট করে টাকা উত্তোলন করছে ও ভয়ভীতিও দেখাচ্ছে।

জানা যায়, গত ৫ নভেম্বর এসআই আব্দুল করিম সুলতানগঞ্জ গ্রামের মৃত মহসিনের ছেলে আব্দুল খালেক কে সুলতানগঞ্জ বাজার হতে সন্ধ্যার আগে আটক করে নিয়ে যায়। এই কাজে গোদাগাড়ী মডেল থানার আরও দুইজন এসআই সহযোগিতা করে। তাকে আকট করার পর সুলতানগঞ্জ ফরিদপুর পেট্রোল পাম্পের পেছেনে নির্জন আম বাগানে গিয়ে হাত-পা বেঁধে রেখে তাকে মেরে ফেলা হবে বলে ভয় প্রদর্শন করে। যদি জীবনে বাঁচতে চাস তাহলে ১০ লক্ষ টাকা দে তাহলে বাঁচবি বলে হুমকি দেয়। আটককৃত আব্দুল খালেক নিজেকে বাঁচার জন্য তার বাসায় ফোন করে প্রায় ৫-৬ লক্ষ টাকা দিয়ে নিজেকে রক্ষ করে। তবে সেখানেই শেষ নয় তার কাছে ৪০ টি ইয়াবা পাওয়া গেছে বলে মাদক মামলা দায়ের করে জেল হাজতে প্রেরণ করে।

অপরদিকে, গোদাগাড়ী থানার দালাল বলেন, পরিচত ও এসআই আব্দুল করিমের আস্থাভাজন মোঃ জুয়েল এলাকায় ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা পয়সা উত্তোলন করছে বলে অভিযোগ আছে। জানা গেছে, গত ১২ নভেম্বর গোদাগাড়ী সিএনবি তালতলা এলাকার দিন মজুর মনিরুলের কাছে ৫ লক্ষা টাকা দাবি করে জুয়েল নইলে গোদাগাড়ী থানা এসআই করিম ধরে নিয়ে যাবে।

মনিরুল তাকে জিঞ্জেস করে কেন আমাকে ধরে নিয়ে যাবে। জুয়েল বলে তোমার নামের সাথে মিল আছে পুলিশের কাছে তাই এসআই করিমের সাথে দেখা করে টাকা দিয়ে নাম কাটিয়ে নিও। এতে ভীত হয়ে মনিরুল ইসলাম কয়েক জনকে ঘটনাটি জানজারি করে। পরে মনিরুল ইসলাম নিজেকে ষড়যন্ত্র হতে বাঁচতে মোবাইল ফোনে গোদাগাড়ী থানার ওসি মোঃ জাহাঙ্গীর আলমকে অবগত করে।

এসআই আব্দুল করিমের সাথে যোগাযোগ করে আব্দুল খালেককে আটক করে টাকা আদায়ের বিষয়টি জানতে চাওয়া হলে তিনি কর্কট ভাষায় বলেন- আমি মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছি আপনার তাতে কি? আমি যা খুশি তাই করব বলে মন্তব্য করেন তিনি।

পুলিশের দালাল জুয়েলের টাকা উত্তোলনের বিষয়ে তিনি বলেন- জুয়েল আমাদের লোক সে গোদাগাড়ী থানায় সবার বাজার করে দেয়।

Bootstrap Image Preview