Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২৩ বৃহস্পতিবার, জানুয়ারী ২০২০ | ১০ মাঘ ১৪২৬ | ঢাকা, ২৫ °সে

বিশ্বনাথে এক মাসেও জট খোলেনি সুলতান হত্যা রহস্যের 

বিশ্বনাথ (সিলেট) প্রতিনিধিঃ
প্রকাশিত: ০৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৫:০৯ PM
আপডেট: ০৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৫:০৯ PM

bdmorning Image Preview


সিলেটের বিশ্বনাথে দীর্ঘ এক মাস পেরিয়ে গেলেও ইটভাটা শ্রমিক সুলতান হত্যার রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি থানা পুলিশ। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে তার প্রথম স্ত্রী রোজিনা বেগম ও সুহেল আহমদ নামে এক ইটভাটা শ্রমিককে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

গত ৩ নভেম্বর ঘটনার দিন সকালে সুলতানের মাথা বিচ্ছিন লাশ উদ্ধার করতে গিয়ে থানার ওসি শামসুদ্দোহা পিপিএম সাংবাদিকদের বলেছিলেন, হত্যার পর লাশটি এখানে ফেলে রাখা হয়েছে বলে আমি ধারণা করছি। ঘটনার পরদিন রবিবার (৪ নভেম্বর) রাতে তার বড়ভাই লোকমান মিয়া বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামী রেখে বিশ্বনাথ থানায় মামলা (নং-৪) দায়ের করেন।

ব্যক্তিগত জীবনে সুলতানের দু'জন স্ত্রী থাকায় দাম্পত্য কলহের জেরে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে কি না সেটি মাথায় রেখেই তদন্ত করছে পুলিশ। ঘটনার আগের দিন সকালে কর্মস্থল থেকে সিলেট শহরের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে যাবার পরদিন সকালে কর্মস্থলের অদূরে সুলতানের দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন লাশ পড়ে থাকায় তার সাথে কাজ করা অন্য কোন শ্রমিক এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত কি না এই বিষয়টিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। যার প্রেক্ষিতে সুহেল আহমদ নামে এক ইটভাটা শ্রমিককেও গ্রেফতার করা হয়।

তবে, আসলেই কি কারণে এই হত্যাকাণ্ড? দীর্ঘ এক মাস পেরিয়ে গেলেও কোনো রহস্যই উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। যদিও রহস্য উদঘাটন করতে মাঠে খুব বেশি তৎপরতা চালাচ্ছে পুলিশ।

এ ব্যাপারে কথা হলে মামলার তদন্তকারী কর্মমর্তা এসআই মিজানুর রহমান বলেন, মামলার রহস্য উদঘাটনের জন্যে ইতিমধ্যে গ্রেফতার হওয়া সুলতানের স্ত্রী ও ইটভাটা শ্রমিক সুহেল আহমদকে দুই-এক দিনের মধ্যে ৩ দিনের রিমান্ডে আনা হবে।

বিশ্বনাথ থানার ওসি শামসুদ্দোহা পিপিএম বলেন, রহস্য উদঘাটনে অনেকটাই অগ্রসর হয়েছি। দুই তিনটা ইস্যু সামনে রেখে তৎপরতা চালাচ্ছে পুলিশ।

যে দু'জনকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে, হত্যাকাণ্ডে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হ্যা, কিছুটা পাওয়ায় তো তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ৩ নভেম্বর শনিবার উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের রামপাশা (দক্ষিণপাড়া) গ্রামের ইছরাব আলীর বাড়ির সামনে বিশ্বনাথ-রামপাশা সড়কে দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন যুবকের লাশ দেখে পুলিশে খবর দেয় স্থানীয়রা। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ও সিআইডির ক্রাইমসিন ইউনিট ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে লাশ উদ্ধার করে।

এ সময় স্থানীয় আজিজনগরস্থ এআর ব্রিক ফিল্ডের শ্রমিকদের দেয়া তথ্যমতে ও লাশের সাথে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্রের ভিত্তিতে লাশটি ওই ব্রিক ফিল্ড শ্রমিক সুলতান মিয়ার বলে শনাক্ত করা হয়। সে সুনামগঞ্জ জেলার দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানার দুর্বাকান্দা পাতাইরা গ্রামের আলকাছ মিয়ার পুত্র।

সে সময় শ্রমিকরা জানায়, সুলতান মিয়া ২ নভেম্বর (শুক্রবার) সকাল ১০টায় সিলেট শহরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে নিজ কর্মস্থল থেকে বের হয়। পরদিন শনিবার সকালে কর্মস্থলে এসে উপস্থিত হওয়ার কথা থাকলেও ওইদিন ভোরে ব্রিক ফিল্ডের অদুরে উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের রামপাশা (দক্ষিণপাড়া) গ্রামের ইছরাব আলীর বাড়ির সামনে বিশ্বনাথ-রামপাশা সড়কে পাওয়া যায় তার লাশ। ঘটনার পরদিন রবিবার রাতে তার বড়ভাই লোকমান মিয়া বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামী রেখে বিশ্বনাথ থানায় মামলা (নং-৪) দেন। মামলার প্রেক্ষিতে সন্দেহভাজন হিসেবে সুলতানের প্রথম স্ত্রী রোজিনা বেগম ও সুহেল আহমদ নামে এক ইটভাটা শ্রমিককে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।

Bootstrap Image Preview