Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২৩ বৃহস্পতিবার, মে ২০১৯ | ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬ | ঢাকা, ২৫ °সে

ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকদের দুর্নীতিতে স্বাস্থ্য সেবা ব্যাহত

আসাদ গাজী, শরীয়তপুর প্রতিনিধিঃ
প্রকাশিত: ১১ অক্টোবর ২০১৮, ০২:০৮ PM
আপডেট: ১১ অক্টোবর ২০১৮, ০২:০৮ PM

bdmorning Image Preview


চিকিৎসকদের অনিয়ম দুর্নীতি আর অবহেলার ফলে ভেদরগঞ্জের ৫০ শয্য বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স স্বাস্থ্য সেবা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অফিস চলাকালীন সময়ে রোগীদের কাছ থেকে ভিজিট নেওয়া, নির্দিষ্ট সময়ে হাসপাতালে না আসা, জরুরী বিভাগে চিকিৎসা দিয়ে টাকা আদায় ও হাসপাতালের রোগীদের রেখে বেসরকারি ক্লিনিকে রোগী দেখা সহ চিকিৎকদের নানামূখী অনিয়মে কাঙ্খিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ জনগণ।  

তাছাড়া হাসপাতালের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, কোম্পানীর মেডিকেল রিপ্রেজেন্টিভ ও দালালদের দৌরাত্মের কারণে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের পোহাতে হয় সীমাহীন ভোগান্তি।

জানা গেছে, ভেদরগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালে পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তরুন সাহা, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মেঘনাধ সাহা, মাসুম বিল্লাহ, আলমগীর হোসেনসহ মোট ৭ জন ডাক্তার নিয়োগপ্রাপ্ত থাকলেও বর্তমানে সেখনে ৫ জন ডাক্তার কর্মরত রয়েছেন। বাকী ২জন ডাক্তারের মধ্যে একজন ছুটিতে আরেকজন ডেপুটেশনে অন্যত্রে কর্মরত আছেন।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালটি নানা সমস্যায় জর্জরিত রয়েছে। হাসপাতালের পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ডে ৬টি করে ফ্যান থাকার কথা থাকলেও নেই। তাছাড়া যেগুলো রয়েছে তার বেশির ভাগই অকার্যকর। ফলে প্রচন্ড গরমে অতিষ্ট হয়ে পড়ে রোগীরা। হাসপাতালের চারপাশে রয়েছে অনেক ঝোঁপঝাড়। সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে থাকে হাসপাতালের সামনে। তাছাড়া হাসপাতালের বেডে ভর্তি রোগীদের তেমন খোঁজ খবর নেওয়া হয় না বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে হাসপাতালের জরুরী বিভাগে দায়িত্বরত ডাক্তার রয়েছেন মো. আলমগীর হোসেন। জরুরী বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা প্রতিটি রোগীর কাছ থেকে তিনি ১৫০-২০০ টাকা করে আদায় করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাছাড়া অফিস চলাকালীন সময়ে হাসপাতালের রোগীদের রেখে তিনি পাশে অবস্থিত মর্ডান ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে রোগী দেখেন বলেও অভিযোগ করেন রোগীরা।

চরকুমারিয়া ইউনিয়ন থেকে চিকিৎসা নিতে আসা ইমান মিয়া বলেন, জরুরী বিভাগে আমার নাতিকে দেখানোর পর আলমগীর ডাক্তার ১৫০ টাকা নিয়েছে। আমরা আগে থেকেই তার কাছে চিকিৎসা নেই। দূর থেকে এসেছি কি করবো।

মহিষার ইউনিয়নের রাকিব মিয়া বলেন, পায়ে পেরেক ডুকেছে তাই আলমগীর ডাক্তারকে দেখিয়েছি। কিন্তু অফিস চলাকালীন সময়ে সকাল ১১টার দিকে মর্ডান হাসপাতালে তিনি আমাকে চিকিৎসা দিয়েছেন এবং ৩'শ টাকা ভিজিটও নিয়েছেন।

বিষয়টি অস্বীকার করে ডাক্তার আলমগীর হোসেন বলেন, আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে। অফিস চলাকালীন সময়ে আমি কোন বেসরকারি ক্লিনিকে রোগী দেখি না। চিকিৎসার বিনিময়ে আমি কারো কাছ থেকে কোন টাকা গ্রহণ করিনি।

কিন্তু মর্ডান ক্লিনিকের রিসিপশন থেকে জানানো হয়, ডাক্তার আলমগীর হোসেন প্রতি মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সেখানে রোগী দেখেন।

এ হাসপাতালে দায়িত্বরত আরেক ডাক্তার মো. মাসুম বিল্লাহ অফিস চলাকালীন সময় রোগীদের কাছ থেকে ভিজিট আদায় করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। চিকিৎসার জন্য আসা লোকজনের অভিযোগ, ব্যবস্থাপত্র বাবদ তিনি প্রত্যেক রোগীর কাছ থেকে ২'শ টাকা করে আদায় করেন ।

ডিএমখালী ইউনিয়নের বাসিন্দা কবির সরকার বলেন, সরকারি হাসপাতালে ফ্রি চিকিৎসা দেয়ার নিয়ম থাকলেও এখানের ডাক্তাররা চিকিৎসার বিনিময়ে টাকা আদায় করেন। আমার স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য ডাক্তার মাসুম বিল্লাহ আমার কাছ থেকে ২'শ টাকা নিয়েছে।

নাজমা বেগম বলেন, ঔষধ লিখার বিনিময়ে ডাক্তার মাসুম বিল্লাহ আমার কাছ থেকে ২'শ টাকা নিয়েছে।

তবে ডাক্তার মাসুম বিল্লাহ বলেন, চিকিৎসার বিনিময়ে আমি কারো কাছ থেকে কোন টাকা আদায় করিনি। রোগীরা আপনাদেরকে মিথ্যা তথ্য দিয়েছে।

এবিষয়ে ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বরত প্রশাসনিক কর্মকর্তা মেঘনাধ সাহা বলেন, এ পর্যন্ত কোন রোগী আমার কাছে এ ধরনের অভিযোগ করেনি। তবে অভিযোগ পেলে অবশ্যই তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।

শরীয়তপুর জেলার সিভিল সার্জন ডাক্তার খলিলুর রহমান বলেন, অফিস চলাকালীন সময়ে কোন ডাক্তার রোগীর কাছ থেকে টাকা নিতে পারবে না। এমনকি প্রাইভেট ক্লিনিকেও রোগী দেখাতে পারবে না। এক্ষেত্রে আমার পক্ষ থেকে কড়া নির্দেশ রয়েছে। এ বিষয়ে কোন তথ্য প্রমাণ দিতে পারলে আমার পক্ষ থেকে অবশ্যই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Bootstrap Image Preview