Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২২ বুধবার, জানুয়ারী ২০২০ | ৯ মাঘ ১৪২৬ | ঢাকা, ২৫ °সে

ফিলিপাইনের কাছে হেরে গেলো বাংলাদেশ

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৬ অক্টোবর ২০১৮, ০৯:৪৬ AM
আপডেট: ০৬ অক্টোবর ২০১৮, ০৯:৪৬ AM

bdmorning Image Preview


স্বাগতিক বাংলাদেশকে হারিয়ে বি’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছে ফিলিপাইন। গতকাল সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপ আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্টে বাংলাদেশকে ১-০ গোলে পরাজিত করেছে সফরকারী ফিলিপাইন।

এই জয়ের ফলে গ্রুপ পর্বের দুই ম্যাচ থেকে পূর্ণ ছয় পয়েন্ট নিয়েই শীর্ষস্থান লাভ করেছে ফিলিপাইন। গ্রুপের প্রথম ম্যাচে লাওসকে ৩-১গোলে হারিয়েছিল দলটি। অপরদিকে প্রথম ম্যাচে লাওসের বিপক্ষে ১-০ গোলে জয় পাওয়া বাংলাদেশ তিন পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের রানার্স আপ হিসেবেই সেমিফাইনাল খেলবে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে।

আগামী ১০ অক্টোবর কক্সবাজারে এ গ্রুপের চ্যাম্পিয়নদের মোকাবেলা করবে জেমি ডের শিষ্যরা। টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ অক্টোবর ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে।

শুক্রবার হারলেও দর্শকদের মন জয় করেছে বাংলার দামাল ছেলেরা। পুরো ম্যাচে আধিপাত্য বিস্তার করে খেলেছে বাংলাদেশ দল। ছোট ছোট পাসে নান্দনিক ফুটবল খেলে ফিলিপাইনকে চাপের মুখেই রেখেছিল পুরো ৯০ মিনিট। ভাগ্য সহায় ছিল না বলে ম্যাচে জয় পায়নি স্বাগতিক দল।

সেমি ফাইনালটা আগেই নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল স্বাগতিক শিবিরের। তাই শেষ চারের লড়াইকে সামনে রেখে একাদশে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছিলেন কোচ জেমি ডে। রিজার্ভ বেঞ্চের শক্তিটা পরখ করার জন্যই চারটি পরিবর্তন আনা হয়েছিল। ইনজুরির কারণে মাঠে নামা হয়নি নিয়মিত অধিনায়ক মিডফিল্ডার জামাল ভূঁইয়া ও ডিফেন্ডার ওয়ালী ফয়সালের। আর বিশ্রাম দেয়া হয়েছিল ডিফেন্ডার বিশ^নাথ ঘোষ এবং আক্রমনভাগের হাতিয়ার মাহবুবুর রহমান সুফিলকে।

তপু বর্মনের সঙ্গে রক্ষন সামলানোর দায়িত্ব ছিল সুশান্ত ত্রিপুরা ও রহমত মিয়ার কাঁধে। আর আক্রমণ ভাগে নামানো হয়েছিল তৌাহিদুল আলম সবুজকে। মধ্য মাঠে ছিলেন ইমন মাহমুদ। ইনজুরির কারণে দলে না থাকায় অধিনায়কত্বের দায়িত্ব পড়ে তপু বর্মনের উপর।

র‌্যাংকিংয়ের ১১৪ নম্বরে থাকা ফিলিপাইনের বিরুদ্ধেও ৪-৪-২ ফরমেশনে দল মাঠে নামান জেমি ডে। আক্রমণাত্মক ধারাতেই খেলতে থাকেন। ম্যাচের চার মিনিটেই আক্রমণের সুফলও পেতে বসেছিল টিম বাংলাদেশ। কিন্তু প্রতিপক্ষের গোলরক্ষক মাইকেল কেসাস হতাশ করেন মাঠে ছুঁটে আসা হাজার পঁচিশেক দর্শককে। রহমতের লম্বা থ্রো থেকে বক্সের ভেতরে দাঁড়ানো তপুর ব্যাকহেড ঝাঁপিয়ে পড়ে প্রতিহত করেন গোলরক্ষক মাইকেল কেসাস। ফিরতি বলে নবী নেওয়াজ জীবন হেড নিলে সেটি ফিরে আসে ক্রসবারে লেগে।

এরপরও দমে যায়নি স্বাগতিকরা। পরিকল্পিত আক্রমণে চাপে রেখেছিল প্রতিপক্ষ দলকে। কিন্তু ২৪ মিনিটে ডিফেন্ডার তপু বর্মনের ভুলের মাশুল গুনতে হয় লাল-সবুজ জার্সীধারীদের। মাইকেল দানিয়েলসের নেয়া শট তপুর পায়ে লেগে দিক পরিবর্তন হয়ে জালে প্রবেশ করে (১-০)। অথচ এ সঠিক লাইনেই ছিলেন গোলরক্ষক আশরাফুল।

ঘুঁড়ে দাঁড়ানোর চেষ্টায় থাকা বাংলাদেশের আরো একটি আক্রমণ নসাৎ করেন ম্যাচ সেরা গোলরক্ষক মাইকেল কেসাস। রবিউলের কর্নার সরাসরি জাল স্পর্শ করার ঠিক আগ মুহূর্তে ফিলিপাইনের গোলরক্ষক ফিষ্ট করেন। আজ এক কথায় বাংলাদেশ দলের প্রধান প্রতিপক্ষ ছিলেন গোলবারের এ অতন্দ্র প্রহরী।

দ্বিতীয়ার্ধে নেমেই গোল পরিশোধে মরিয়া হয়ে উঠেছিল জেমি ডে’র শিষ্যরা। বেশ কয়েকবার ফিলিপাইনের ভীত কাঁপিয়েও দিয়েছিলেন তপু, বিপলু, জীবনরা। এ অর্ধের পুরোটা সময় জুড়েই পুরোপুরি রক্ষণাত্মক ভূমিকায় দেখা যায় সফরকারীদের। ৭০ মিনিটেতো গোলের সবচেয়ে সহজ সুযোগটি হাতছাড়া করেন জীবন। ডানদিক থেকে তৌহিদুল আলম সবুজের আলতো চিপে দৌড়ে এসে দারুণ এক হেড নেন জীবন। কিন্তু বল জাল খুঁজে পায়নি। দুই মিনিটবাদেই আরো একবার গোলবঞ্চিত হয় সবুজের লক্ষ্যহীন শটের কারণে। ম্যাচের শেষ মিনিটেও জীবন, তপু আর সুফিলদের আক্রমণ জটলার মধ্যে ঘুরপাক খেলেও ফিলিপাইনের জালে প্রবেশ করেনি। কপাল মন্দ হলে যা হয়। ফলে হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হল বাংলাদেশকে। তবে এই হারে কোন গ্লানি নেই। র‌্যাংকিংয়ে বড় ব্যবধানে এগিয়ে থাকা দলের বিপক্ষে বলতে গেলে এই হারটি ছিল গৌরবের।

Bootstrap Image Preview