Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ০৮ শনিবার, আগষ্ট ২০২০ | ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭ | ঢাকা, ২৫ °সে

নিষ্ঠুর মা!

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০২:৫৬ PM
আপডেট: ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০২:৫৬ PM

bdmorning Image Preview
ফাইল ছবি


প্রথমে কীটনাশক খাইয়ে সান্তানকে হত্যা চেষ্টা। সে চেষ্টায় ব্যার্থ হয়ে ইটবাঁধা বস্তায় ভরে গভীর পানিতে ডুবিয়ে দিয়েছেন মেহেরা আক্তার (৩৫) নামে এক মা। নৃশংস এ অপরাধকর্মটি নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার। প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্য মেহেরা আক্তার এমন ঘটনা ঘটিয়েছেন স্বীকার করেছে মেহেরা আক্তার।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গগডা গ্রামের মৃত শাহেদ বেপারীর ছেলে বাচ্চু, বাবুল, মাজু মুন্সি ও মৃত আরাফাত আলীর ছেলে রইছ উদ্দিন এবং সাইফ উদ্দিনের সঙ্গে জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল মেহেরা আক্তারের স্বামী ছোবহান মিয়ার। হামলা-মামলা কৌশলেও প্রতিপক্ষকে কোনোভাবেই ঘায়েল করা যাচ্ছিল না। তাই প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে এমন নিষ্ঠুর পথ বেছে নেয় মেহেরা আক্তার।

পুলিশ জানায়, মেহেরা আক্তার নিজ সন্তান জনি মিয়াকে প্রথমে খাবারের সঙ্গে কীটনাশক মিশিয়ে খাওয়াতে শুরু করেন। প্রথম দিন ব্যাপক বমিসহ মরণাপন্ন অবস্থা হলে তাকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রেও নিয়ে যান মেহেরা। কিছুটা সেরে উঠলে বাড়িতে এনে আবারও কীটনাশক মেশানো খাবার দেওয়া শুরু করে। জনি যখন অনেক দুর্বল হয়ে পড়েছে—তাকে নিয়ে মা চলে যান পুকুরপাড়ে। তারপর পানিতে চুবিয়ে রেখে যখন দেখেন শিশুটি নিস্তেজ হয়ে পড়েছে—সন্তানের নিথর দেহ পানিতে ডুবিয়ে দিয়ে মা ফিরে আসেন বাড়িতে।

এ ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর সবার অলক্ষ্যে সবুজ ও সন্তু মিয়া নামের দুই প্রতিবেশীকে সঙ্গে নিয়ে আবারও পুকুরে যান মেহেরা এবং লাশটি তুলে ইটবাঁধা বস্তায় ভরে গভীর পানিতে ডুবিয়ে দেন। এরপর মেহেরা আহাজারি করতে থাকেন তাঁর ছেলে জনি নিখোঁজ হয়ে গেছে। সন্ধান চেয়ে এলাকায় মাইকিংও করানো হয়।

দুই দিন পর জনির বস্তাবন্দি লাশ পাওয়া গিয়েছিল ওই পুকুরেই। মামলার পর পুলিশ প্রতিবেশী ছয়জনকে গ্রেপ্তার করলে সবুজ মিয়া (৩০) হত্যার রহস্য পুলিশের কাছে ফাঁস করে দেন। এরপর গত বুধবার রাতে মা মেহেরা আক্তার ও নিকটাত্মীয় মো. সন্তু মিয়াকে (৪৫) গ্রেপ্তার করা হলে তারাও পুলিশের কাছে হত্যার ঘটনা বর্ণনা করেন।

কেন্দুয়া থানার ওসি গাজী ইমারত হোসেন বলেন, বৃহস্পতিবার তাদের নেত্রকোনা আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হলে আদালত এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

ওসি আরো বলেন, তাকে মেহেরা আক্তার বলেছেন, জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলমান বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে এমন কাজ করেছে সে। আসামি সবাই পরিচিত প্রতিপক্ষ হলে সন্দেহ হবে এ জন্য নিজেদের লোক সবুজ মিয়াকেও আসামি হতে রাজি করানো হয়। পুলিশ ছয়জনকেই আটক করে। কঠোর জিজ্ঞাসাবাদে টিকতে না পেরে সবুজ সব বলে দেন। পাঁচজনকে ছেড়ে দিয়ে সবুজকে আদালতে পাঠানো হয়।

উল্লেখ্য, গত ৭ সেপ্টেম্বর জনি খুন হয় এবং দুদিন পর খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে।

Bootstrap Image Preview