Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২২ শুক্রবার, নভেম্বার ২০১৯ | ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ | ঢাকা, ২৫ °সে

মাথাপিছু আয় এখন ১৭৫১ ডলার: পরিকল্পনামন্ত্রী

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১:৫৩ AM
আপডেট: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১২:১১ PM

bdmorning Image Preview
একনেকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা


নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের মানুষের বার্ষিক মাথাপিছু আয় এখন ১ হাজার ৭৫১ মার্কিন ডলার। অর্থাৎ একজন মানুষ বছরে গড়ে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৭৮৯ টাকা আয় করেন। তবে এটি কোনো ব্যক্তির আয় নয়। এটি একটি দেশের মোট আয়কে জনসংখ্যা দিয়ে ভাগ করে মাথাপিছু আয় বের করা হয়ে থাকে।

তা ছাড়া গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরে মোট দেশজ উত্পাদন বা জিডিপির প্রবৃদ্ধির রেকর্ড হয়েছে। ওই অর্থবছর প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ এবং মাথাপিছু আয় ১৭৫১ ডলার। পুরো এক বছরের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে এই তথ্য বের করেছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস)।

আজ মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতে সভাপতিত্ব করেন।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, এটি একটি ঐতিহাসিক দিন। প্রতিবছরই এখন এই ধরনের ঐতিহাসিক দিন আসবে। তবে আমরাই আমাদের রেকর্ড ভাঙবো। সরকারি বিনিয়োগ বেড়ে গেছে, এজন্য প্রবৃদ্ধি বাড়ছে। বেসরকারি বিনিয়োগ কম, তাতে খুব সমস্যা হচ্ছে না।

মোস্তফা কামাল বলেন, গত অর্থবছরে মোট বিনিয়োগ ছিল ৩১ দশমিক ২৩ শতাংশ। এর মধ্যে সরকারি বিনিয়োগ ছিল ৭ দশমিক ৯৭ শতাংশ এবং বেসরকারি বিনিয়োগ ছিল ২৩ দশমিক ২৬ শতাংশ।

এর আগে অর্থবছরের ৯ মাসের (জুলাই-এপ্রিল) তথ্য-উপাত্ত দিয়ে বিবিএস জানিয়েছিল, গত অর্থবছর প্রবৃদ্ধি হবে ৭.৬৫ শতাংশ। অবশ্য ওই তথ্য ছিল সাময়িক প্রাক্কলন। চূড়ান্ত তথ্যে দেখা গেল, সাময়িকের চেয়ে প্রবৃদ্ধি ০.২১ শতাংশ বেড়ে ৭.৮৬ শতাংশ হয়েছে।

এছাড়া আজকের একনেক সভায় দেশে দারিদ্র্যের হারও তুলে ধরা হয়েছে। দুই বছর আগে বিবিএসের সব শেষ তথ্য বলেছে, দারিদ্র্যের হার ২৪ দশমিক ৩ শতাংশ। তবে কামাল বলছেন, ২০১৭ সাল শেষে দারিদ্র্যের হার কমে দাঁড়িয়েছে ২৩ দশমিক ১০ শতাংশে। ২০১৮ সাল শেষে সেটি কমে ২১ দশমিক ৮ শতাংশে দাঁড়াবে।

বিবিএসের দেয়া তথ্য মতে, বিদায়ী অর্থবছরে সরকার বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছিল ৭ দশমিক ৪ শতাংশ। সাময়িক প্রাক্কলনে তা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি, অর্থাৎ ৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ অর্জিত হয়। এখন চূড়ান্ত তথ্য বলছে, ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে শূন্য দশমিক ৪৬ শতাংশ বেশি।
তিনটি খাতের প্রবৃদ্ধির হিসাব যোগ করে গড় হিসাবে মোট প্রবৃদ্ধি হিসাব করা হয়। এগুলো হল- কৃষি, শিল্প ও সেবা খাত।

বিবিএসের হিসাব অনুসারে, গত অর্থবছরে কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধি ছিল ৪ দশমিক ১৯ শতাংশ, গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে কৃষিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ২ দশমিক ৯৭ শতাংশ। শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ, যা তার আগের ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ছিল ১০ দশমিক ২২ শতাংশ। কৃষি ও শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধি বাড়লেও সেবা খাতে কিছুটা প্রবৃদ্ধি কমেছে। গত অর্থবছরে সেবা খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬ দশমিক ৩৯ শতাংশ, যা ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ছিল ৬ দশমিক ৬৯ শতাংশ।

অন্যদিকে গত অর্থবছরে দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭৫১ মার্কিন ডলার বা ১ লাখ ৪৩ হাজার ৭৮৯ টাকা। তার আগে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে মাথাপিছু আয় ছিল ১ হাজার ৬১০ ডলার।

গত অর্থবছরে জিডিপির আকার দাঁড়িয়েছে ২৭৪ দশমিক ১১ বিলিয়ন ডলার বা ২২ হাজার ৫০৫ বিলিয়ন টাকা।

এদিকে গত ৬ সেপ্টেম্বরের সংবাদ সম্মেলনে চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দেশে প্রথমবারের মতো জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে বলে জানিয়েছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী।

এ বছর প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ২৫ শতাংশ হতে পারে বলে আভাস দেন মন্ত্রী। এছাড়া ক্রয়ক্ষমতার ভিত্তিতে (পিপিপি) বিশ্ব অর্থনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান ৩১তম বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানান তিনি।

নির্বাচনের বছর প্রবৃদ্ধি কমবে কি-না, এমন প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর সব দেশেই নির্বাচন হয়। এটা তো স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।

Bootstrap Image Preview