Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২২ শুক্রবার, নভেম্বার ২০১৯ | ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ | ঢাকা, ২৫ °সে

চামড়ার দাম কম হলেও দ্বিগুণ জুতার দাম !

রায়হান শোভন
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১০:১১ AM
আপডেট: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১০:১১ AM

bdmorning Image Preview
ছবি সংগৃহীত


আন্তর্জাতিক বাজার মন্দা, চামড়ার চাহিদা নেই। এরকম নানা অজুহাত দেখিয়ে পানির দামে বিক্রি হচ্ছে চামড়া। সে অনুযায়ী চামড়াজাত পণ্যের দামও কমার কথা ছিল। কিন্তু দিন দিন বেড়েই চলেছে চামড়াজাত পণ্যের দাম।

বিশেষ করে জুতো ও স্যান্ডেলের দাম বিগত হয়েছে দ্বিগুন। তবে দ্বিগুন হওয়ার বিশেষ কোনো কারণ ছিল না। কেননা চামড়ার দাম কম। আর জুতা তৈরির অন্যতম উপাদান হচ্ছে চামড়া।

একটি ভালো মানের বড় চামড়া দিয়েই আমরা হিসেব শুরু করছি। যদিও চামড়া বিভিন্ন সাইজের হয়ে থাকে। একটি ২৯ বর্গফুটের চামড়া দিয়ে ১২ জোড়া জুতো তৈরি করা যায়। আর ভালো মানের চামড়ার প্রতি বর্গফুটের দাম পরে ৪৫০ টাকা। সে অনুপাতে ২৯ বর্গফফুট চামড়ার দাম পরে ১৩০৫০ টাকা। আর প্রতিটি জুতো তৈরি করতে চামড়া লাগে প্রায় ২.৫ বর্গফুট। সে হিসেবে প্রতি জোড়া জুতোয় চামড়া লাগছে ১০৮০ টাকা। এটা ছিল ভালো মানের চামড়ার দাম। তবে মানভেদে চামড়ার দাম কম বেশি আছে।

আমরা যে জুতোগুলো ৩০০০-৩৫০০ টাকা দিয়ে বিভিন্ন নামিদামী ব্রান্ড হেকে কিনি সেসব জুতো তৈরি করতে প্রকৃত খরচ কত? এসব জুতা তৈরির মূল অংশে ১৫০-২০০ টাকা মূল্যমানের চামড়ার ব্যবহার করা হয়। সে হিসেব অনুযায়ী প্রতিজোড়া জুতা তৈরি করতে মূল অংশে ৪০০-৪৫০ টাকার চামড়ার ব্যবহার করা হয়। কিন্তু জুতোতো শুধু চামড়া দিয়ে তৈরি হয়ে যায় না। জুতো তৈরি করতে আরও কিছু আনুষাঙ্গিক জিনিসপত্রের প্রয়োজন হয়। সোল ব্যবহার করা হয় ১৫০-৩০০ টাকার মধ্যে। ইনসোল -পেস্টিংয়ে খরচ পরে ৫০-১০০ টাকা। স্টিকার বাবদ খরচ পরে ২০-৫০ টাকা। আর প্রতিজোড়া জুতো তৈরি করতে শ্রমিকের মজুরি দেওয়া হয় ৫০-১০০ টাকা।

এছাড়াও অনান্য খরচ বাবদ যদি ১০০ টাকা ধরা হয় তাহলে প্রতি জোড়া জুতোর দাম পরবে মাত্র ১০০০-১১০০ টাকা। কিন্তু এই একই জুতো যখন নামিদামী ব্রান্ডের ঝকঝকে আলোর নিচে চকচকে করে প্রদর্শন করা হয় তখন এর দাম হয়ে যায় দ্বিগুনেরও বেশি।

বিডিমর্নিংয়ের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে পুরান ঢাকার আলু বাজার ও সিদ্দিক বাজারের বিভিন্ন কারখানার তৈরি জুতো বিক্রি হয় বিভিন্ন নামিদমী ব্রান্ডের দোকানে। তবে সরাসরি ব্রান্ডের দোকানে উঠছে না এসব কারখানার জুতো। কয়েকটি হাত বদলের মাধ্যমে এসব কারখানার জুতো উঠছে ব্রান্ডের দোকনে।

ময়মনসিংহ ভিত্তিক ব্রান্ড আজাদ প্রথমে এসব কারখানা থেকে জুতো ক্রয় করেন। তারপর তাদের থেকে হাত বদল হয়ে এসব জুতো উঠে ব্রান্ডের দোকানে। তবে এর ব্যতিক্রমও হয়। ঈদের মৌসুমে যখন বিভিন্ন ব্রান্ডের বেচাকেনার চাপ বেশি থাকে তখন তারা নিজেরাই এসব কারখানায় অর্ডার দিয়ে জুতো তৈরি করে থাকে।

পুরান ঢাকার সিদ্দিক বাজারের ইউসুফ নামের এক জুতো তৈরির শ্রমিক বিডিমর্নিংকে বলেন, যে জুতো বিভিন্ন ব্রান্ডের দোকানে ৩০০০-৩৫০০ টাকায় বিক্রি করা হয় সে জুতো তৈরি করতে খরচ পড়ে মাত্র ১২০০-১৪০০ টাকা। তিনি বলেন, আমাদের কারখানায় বিভিন্ন ব্রান্ডের দোকানের অর্ডার আসে ঈদ বা বিভিন্ন উৎসবের মৌসুমে।

তিনি বলেন, দ্বিগুন বা তিনগুন লাভ করার বিষয়টি মূলত বিভিন্ন ব্রান্ডের মালিকদের কারসাজি।

জামাল নামের আরেক জুতো তৈরির শ্রমিক বিডিমর্নিংকে বলেন, আমরা হোলসেলে জুতো বিক্রি করি। আমাদের তেমন একটা লাভ হয় না। এতো কমের বাজারে ওসব বড় দোকানিদের এত বেশি দাম রাখার কোনো কারণ নেই।

শেলী চৌধুরী নামের এক ক্রেতা বিডিমর্নিংকে বলেন, ভালো মানের জুতো যেগুলো পছন্দ হয় সেগুলোর দামই শুরু হয় পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকা দিয়ে। তবে এই যে চামড়ার দাম কম কেনো?

তিনি বলেন সরকারের মনিটরিংয়ের অভাবে এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে জিম্মি হয়ে পড়েছি আমরা। একমাত্র সঠিক মনিটরিং পারে ক্রেতাদের এই জিম্মিদশা থেকে মুক্তি দিতে

Bootstrap Image Preview