Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১০ সোমবার, ডিসেম্বার ২০১৮ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

সুনামগঞ্জে ফের ভারতীয় কয়লা আমদানি শুরু

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ০১:১৪ PM
আপডেট: ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ০১:১৪ PM

bdmorning Image Preview
সংগৃহীত ছবি


সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের বড়ছড়াসহ দেশের ছয় স্থলবন্দর শুল্ক স্টেশন দিয়ে ফের ভারতীয় কয়লা আমদানি শুরু হতে যাচ্ছে।বৃহস্পতিবার ভারতীয় উচ্চ আদালত ও সেখানকার রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানের বরাত দিয়ে তাহিরপুর কয়লা আমদানিকারক গ্রুপের সচিব রাজেশ তালুকদার এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ভারতের রফতানিকারক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ফের কয়লা রফতানির বিষয়টি সে দেশের উচ্চ আদালত থেকে আদেশপ্রাপ্ত হয়ে তাহিরপুর কয়লা আমদানিকারক গ্রুপকে অবহিত করেছেন। শনিবার আমদানিককারক ও রফতানিকারক সংগঠনের নেতৃবৃন্দের যৌথ বৈঠকের পর সোমবার থেকে ফের কয়লা আমদানি শুরু হবে।

ভারতীয় আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত শুধু মেঘালয় রাজ্যের সীমান্তঘেঁষা সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের তিন শুল্ক স্টেশনই নয়, সিলেটের তামাবিল, ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটের গোবরাকুড়া এবং কড়ইতলীসহ একযোগে দেশের ছয় স্থল শুল্ক স্টেশন দিয়েই ভারতীয় কয়লা আমদানি শুরু হবে।

দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ভারতের মেঘালয়ের পরিবেশবাদী সংগঠন ডিমাহাসাও জেলা ছাত্র ইউনিয়নের মামলার ভিত্তিতে ২০১৪ সালের ১৭ এপ্রিল সে দেশের ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনাল (এনজিটি) আদালত মেঘালয় সরকারকে অপরিকল্পিতভাবে কয়লা খনন ও পরিবহন বন্ধের নির্দেশ দেন।

একই বছরের ৬ মে সংশ্লিষ্ট বিভাগের বিভাগীয় মুখ্যসচিব মেঘালয় রাজ্যের প্রতিটি জেলার জেলা প্রশাসককে ওই নির্দেশনা কার্যকর করতে বলা হয়। আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে ২০১৪ সালের ১৩ মে থেকে মেঘালয়ের সীমান্ত জেলাগুলোয় ১৪৪ ধারা জারি করে কয়লা পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

এর পর থেকে বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সবচেয়ে বড় শুল্কবন্দর সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের বড়ছড়া-চারাগাঁও, বাগলী, সিলেটের তামাবিল, ময়মনসিংহের গোবড়া এবং কড়ইতলীসহ ছয় শুল্ক স্টেশন দিয়ে ভাতের মেঘালয় থেকে কয়লা আমদানি বন্ধ হয়ে যায়।

পরে ভারতীয় রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো আইনি লড়াই করে প্রথমে ২০১৫ সালে উত্তোলিত কয়লা ৩ মাস এবং ওই সময়সীমা সময় ৫ দফা বাড়িয়ে গত ৫ বছরে প্রায় ২১ মাস উত্তোলিত কয়লা রফতানি করার সুযোগ পান।

একইভাবে চলতি বছরের ৫ ডিসেম্বর আবারও ভারতের সুপ্রিমকোর্ট ২০১৯ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত ভারতে উত্তোলিত কয়লা বাংলাদেশে ফের রফতানির সুযোগ দেয়া হয়।

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের বড়ছড়া রাজস্ব কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, নতুন করে আদানিকারকরা রোববার ব্যাংকে এলসি করার পর সোমবার থেকেই ভারত থেকে কয়লা আমদানি-রফতানি কার্যক্রম শুরু হবে।

এর আগে ভারতের মেঘালয়ের পরিবেশবাদী সংগঠন ডিমাহাসাও ছাত্র ইউনিয়নের আবেদনের ভিত্তিতে ২০১৪ সালের ১৭ এপ্রিল ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনাল মেঘালয় সরকারের অবৈধ কয়লা খনন ও পরিবহন বন্ধের নির্দেশ দেন। একই বছরের ৬ মে সংশ্লিষ্ট বিভাগের বিভাগীয় মুখ্য সচিব এ ব্যাপারে প্রতিটি জেলায় নির্দেশ জারি করেন। এই নির্দেশে গ্রিন ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ কার্যকর করতে বলা হয় মেঘালয়ের জেলা প্রশাসকদের। এ কারণে ২০১৪ সালের ১৩ মে থেকে মেঘালয়ের সীমান্ত জেলাগুলোয় ১৪৪ ধারা জারি করা হয় কয়লা পরিবহনের ওপর।

এর পর থেকে বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সবচেয়ে বড় শুল্কবন্দর সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের বড়ছড়া-চারাগাঁও ও বাগলী দিয়ে কয়লা আমদানি বন্ধ হয়ে যায়।

রফতানিকারকরা আইনি লড়াই করে প্রথমে উত্তোলিত কয়লার রাজস্ব জমা দিয়ে তিন মাস (এপ্রিল, মে ও জুন-২০১৫) রফতানির সুযোগ পান। পরে এ সময় তিন দফায় বাড়িয়ে গত বছরের ১৫ মে পর্যন্ত (বিভিন্ন সময় মিলে নয় মাস) রফতানি কার্যক্রম চালু রাখা হয়। এ সময়ের মধ্যে কেবল উত্তোলিত কয়লা রফতানি করেছেন মেঘালয়ের রফতানিকারকরা; কিন্তু মাইনিং (উত্তোলন) করতে পারেননি। গত বছরের ১৬ মে কয়লা রফতানি বন্ধ হয়ে যায়। এপারের তিন শুল্কবন্দরের ৫০০ আমদানিকারক বেকায়দায় পড়েন। বেকার হয়ে পড়েন কমপক্ষে ৩৫ হাজার শ্রমিক।

 

Bootstrap Image Preview