Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২১ রবিবার, জুলাই ২০১৯ | ৬ শ্রাবণ ১৪২৬ | ঢাকা, ২৫ °সে

রোহিঙ্গাদের ত্রাণ কর্মসূচিতে হতাশ স্থানীয় এনজিওসহ সুশীল সমাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৫ নভেম্বর ২০১৮, ০৭:৫১ PM
আপডেট: ২৫ নভেম্বর ২০১৮, ০৯:৫২ PM

bdmorning Image Preview


রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যানিং (জেআরপি) প্রণয়ন এবং রোহিঙ্গা ত্রাণ কর্মসূচি সমন্বয় প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘের বর্তমান ভূমিকায় হতাশা প্রকাশ করেছে স্থানীয় এনজিও এবং সুশীল সমাজ সংগঠনগুলো।

রবিবার (২৫ নভেম্বর) কক্সবাজারের একটি হোটেলে স্থানীয়সহ ৪২টি দেশীয় এনজিও এবং সুশীল সমাজ সংগঠনের নেটওয়ার্ক কক্সবাজার এনজিও এন্ড সিএসও ফোরাম (সিসিএনএফ) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তারা বিষয়টি নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করেন।

‘রোহিঙ্গা রেসপন্স এন্ড গ্রান্ড বারগেন কমিটমেন্ট: এইড ট্রান্সপারেন্সি এন্ড সলিডারিটি এপ্রোচ’ শীর্ষক এই আলোচনায় আয়োজকদের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গা ত্রাণ কর্মসূচির সকল পর্যায়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং গ্রান্ড বারগেন প্রতিশ্রুতির আলোকে জাতিসংঘের সকল প্রক্রিয়ায় স্থানীয়দের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

সভায় এনজিও এবং সুশীল সমাজ নেতৃবৃন্দ বলেন, জাতিসংঘ অঙ্গসংস্থাগুলো এই পর্যন্ত যে ৬৮২ মিলিয়ন ডলার তহবিল পেয়েছে এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এনজিও যে অর্থ সাহায্য পেয়েছে- সেগুলোর প্রকাশ্য স্বচ্ছতা বা জবাবদিহিতা এবং সুসমন্বয়ের অভাব আছে। অর্থসাহায্য কমে যাওয়ার সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি মোকাবেলায় তারা ২০১৮ সালের জেআরপির পূর্ণ পর্যালোচনা এবং ভবিষ্যতে সকল অর্থ সহায়তার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি করেন।

সিসিএনএফ- কো চেয়ার আবু মুর্শেদ চৌধুরী এবং রেজাউল করিম চৌধুরীর সঞ্চালনায় আনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার আবুল কালাম।

এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন- ইন্টার সেকটোরাল কোঅর্ডিনেশন গ্রুপ (আইএসজি)-এর উর্ধতন পরামর্শক আনিকা সুডল্যান্ড এবং পরামর্শক বারস মারগো, অক্সফাম ইন্টারন্যাশনালের প্রতিনিধি এবং গ্লোবাল লোকালাইজেশন ওয়ার্কিং গ্রুপের সদস্য অনিতা কাট্টাখুজি।

আবু মুর্শেদ চৌধুরী ও রেজাউল করিম চৌধুরীর পৃথক উপস্থাপনায় বলা হয়, প্রত্যাবাসনের আগ পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের জন্য যথাসম্ভব মানব মর্যাদা নিশ্চিত করতে পরিচালিত ত্রাণ কর্মসূচি সমন্বয়ে যোগাযোগের জন্য বাংলা ভাষার ব্যবহার, স্থানীয় এনজিও এবং সুশীল সমাজ সংগঠনগুলোর অধিকতর অংশগ্রহণ, সমন্বয় এবং পরিকল্পনার প্রক্রিয়ায় স্থানীয় সরকারের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। তারা এই ত্রাণ কর্মসূচিতে ১২৯৬ জন বিদেশির কাজ করা এবং দৈনিক প্রায় ৫৫০টি গাড়ির ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেন।

মূল বক্তব্যে মুজিবুল হক মনির বলেন, জেআরপি ২০১৮ বাবদে এ পর্যন্ত প্রাপ্ত তহবিল অনুযায়ী রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মাথাপিছু প্রায় ৫৭ হাজার টাকা এসেছে। প্রশ্ন হলো, এর কত শতাংশ মাথা পিছু ব্যয় হয়েছে?

শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার আবুল কালাম তার বক্তব্যে বলেন, রোহিঙ্গাদের কী প্রয়োজন তার কল্পিত তালিকা বানালে হবে না। একেবারে তৃণমূল থেকে প্রকৃত চাহিদা তুলে আনার জন্য বটম-আপ এপ্রোচে আমাদের কাজ করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, প্রত্যাবাসনের জন্য প্রথম থেকেই সরকারের নীতি ছিল ‘স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবাসন’। যেহেতু কোনো রোহিঙ্গা পরিবার স্বেচ্ছায় ফিরে যেতে রাজি হয়নি, বাংলাদেশ সরকার তাদের উপর কোনো বলপ্রয়োগ করেনি।

আবু মুর্শেদ চৌধুরী বলেন, জেআরপি ২০১৮-এর একটি পূর্ণ এবং গণ পর্যালোচনা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে স্থানীয়করণের প্রতিশ্রুতিগুলো খুব কমই পূরণ করা হয়েছে, জেআরপি ২০১৯-এ বিষয়গুলো বিবেচনা করতে হবে। ত্রাণ কর্মসূচির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকতে হবে সরকারের কাছে এবং এই ত্রাণ কর্মসূচির পরিকল্পনা নিতে হবে রোহিঙ্গাদের প্রয়োজন যাচাইয়ের ভিত্তিতে একটি অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।

সভায় অনলাইন নিউজ পোর্টাল বিডিমর্নিং এর সম্পাদক নাইমুল হক বলেন, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর উচিত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য ত্রান ও মৌলিক চাহিদা মেটানোর প্রয়োজনীয় উপকরণের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করা।  রোহিঙ্গা আগমনের কারণে স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার উদ্যোগ নিতে হবে। সেই সাথে স্থানীয় বাজার বা বাংলাদেশের বাজার থেকে রোহিঙ্গাদের জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহ করতে হবে। তাহলে স্থানীয় অর্থনীতির উপর তার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

ইন্টার-সেক্টর কোঅর্ডিনেশন গ্রুপ (আইএসসিজি)-র উর্ধতন পরামর্শক আনিকা সুডল্যান্ড বলেন, ২০১৯ সালের জেআরপি প্রণয়নের জন্য আমরা বাংলাদেশ সরকারের নেতৃত্বে সকল পক্ষকে নিয়ে কাজ করতে চাই, যাতে সবাই জানতে পারে সবাই কী করছে।

তিনি আরো বলেন, জেআরপি ২০১৮-র প্রস্তাবিত তহবিলের এখন পর্যন্ত ৭২% তহবিল সংগৃহীত হয়েছে। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বোঝা মনে না করে এর অর্থনৈতিক সম্ভাবনার বিষয়টিও আমাদের বিবেচনায় রাখতে হবে।

এ সময় আনিতা কাট্টাকুজি বলেন, গ্রান্ড বারগেইন প্রতিশ্রুতির মূল বিষয়গুলো বোঝার ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর এখনও সীমাবদ্ধতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। স্থানীয় সংগঠনগুলো যতটা বোঝেন, তারা ততটা বোঝেন না। সিসিএনএফ থেকে এ বিষয়ে যে ১৮ দফা দাবি পেশ করা হয়েছে, আমি মনে করি, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর উচিত একসাথে বসে সেগুলো পর্যালোচনা করা এবং এর আলোকে স্থানীয়করণের একটি রোডম্যাপ প্রণয়ন করা উচিত।

সভায় রেজাউল করিম চৌধুরী তার বক্তব্যে বলেন, আমরা অনেক দিন ধরেই স্থানীয়করন নিয়ে কথা বলে আসছি। কিছু অগ্রগতি ইতিমধ্যে হয়েছে। আমরা আশা করি, তৃণমূল থেকে আমরা যেসব বক্তব্য তুলে ধরেছি তা আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহ বিবেচনায় নিবেন।

ইউএনএইচসিআর-এর সিনিয়ন অপারেশন ম্যানেজার হিনাকো টোকি বলেন, স্থানীয়করণের জন্য স্থানীয় এনজিওদের সাথে অংশীদারীত্বের পাশাপাশি সংস্থার ক্রয়ের সিংহভাগ স্থানীয়ভাবে করতে হবে। তাহলে স্থানীয় অর্থনীতিতে তার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

সভায় সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, উন্নয়নকর্মী, জনপ্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীসহ নানা শ্রেণী-পেশার দেড় শতাধিক প্রতিনিধি অংশ নেন।

Bootstrap Image Preview