Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১০ সোমবার, ডিসেম্বার ২০১৮ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

বেকার থেকে সফল উদ্যোক্তা জুবেল আহমেদ

হৃদয় দেবনাথ, মৌলভীবাজার প্রতিনিধিঃ
প্রকাশিত: ২৪ নভেম্বর ২০১৮, ০৫:২৩ PM
আপডেট: ২৪ নভেম্বর ২০১৮, ০৫:২৩ PM

bdmorning Image Preview


মৌলভীবাজার সদর উপজেলার কামালপুর ইউনিয়নের যুবক জুবেল আহমেদ দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও সরকারি চাকরি জোটাতে পারেননি তিনি। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ঘোষণার মধ্য দিয়ে নিজের বেকারত্ব ঘুচিয়েছেন। এখন তিনি উদ্যোক্তা পরিচালক।

সদর উপজেলার কামালপুর ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারে কাজ করে সাফল্যের দেখা পেয়েছেন। নিজের আয়ের টাকা দিয়ে সংসার চালাচ্ছেন, দাঁড়িয়েছেন নিজের পায়ে।

জুবেল আহমেদের মা নিমঝুন বেগম জানান, আমার স্বামী মারা যাবার পর বেশ কষ্টে চলছিল আমাদের সংসার। কিন্তু আমার ছেলে জুবেল ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারে কাজ করে সংসারের হাল ধরেছে। এখন আমরা সচ্ছলভাবেই চলতে পারছি। পরিবার চালানোর পাশাপাশি আমার একমাত্র মেয়ের পড়াশুনার খরচও চালাচ্ছে জুবেল।

তিনি আরো বলেন, জুবেল ডিজিটাল সেন্টারে কাজ করার পর থেকে আল্লাহর অশেষ মেহেরবাণীতে আমাদের অভাব ঘুচে গেছ। নিজ ইনকামের টাকায় নতুন ঘরও নির্মাণ করেছি আমরা।

জুবেল জানান, এ বছর আমি মৌলভীবাজার জেলায় শ্রেষ্ঠ উদ্যোক্তা পরিচালক নির্বাচিত হয়েছি। চাকরির পেছনে না দৌড়ে যে কেউ প্রশিক্ষণ নিয়ে উদ্যোক্তা পরিচালক হিসেবে কাজ করতে পারেন। তাছাড়া এটাই একমাত্র প্লাটফর্ম যেখানে যে কোনো চাকরির বেতন থেকে পাঁচগুন অর্থ আয় করা সম্ভব।

ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার সূত্রে জানা যায়, এখানে ই-মেইল ও ইন্টারনেট, জন্ম-নিবন্ধন ফরম পূরণ, ফটোকপি, লেমেনেটিং, ছবি তোলাসহ নানা সেবা পাওয়া যায়। ২০১০ সালের ২৬ জানুয়ারি এ ডিজিটাল সেন্টার চালু করা হয়। ২০১২ সালে উচ্চগতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া হয় এখানে। তাই প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মানুষ সেবা নিতে আসেন এ ডিজিটাল সেন্টারে। সরকারি বিভিন্ন দফতরের কাজও করা হচ্ছে এখান থেকেই। এদিকে এই ডিজিটাল সেন্টারের সাফল্য দেখে গত ২০১৮ সালে সেন্টারটিকে মৌলভীবাজার জেলার শ্রেষ্ঠ ডিজিটাল সেন্টার হিসেবে আখ্যা দেন, মৌলভীবাজার জেলার প্রশাসক মো.তোফায়েল ইসলাম।

বৃহস্পতিবার (২২ নভেম্বর) মৌলভীবাজার সদর উপজেলার কামালপুর ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারে গিয়ে দেখা যায়, জুবেল কয়েকজন প্রশিক্ষণার্থীকে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। এসময় কথা হয় জুবেল আহমেদের সাথে।

এসময় জুবেল আহমেদ বলেন, সরকারের উদ্যোগের কারণে আমি বেকারত্ব থেকে মুক্তি পেয়েছি। এখান থেকে প্রতি মাসে ভালো টাকা আয় করছি। এখন আর সরকারি চাকরির কথা ভাবছি না। প্রতিদিন লোকজনের সেবা দিতে দিতে সময় চলে যায়। তবে একাজটি করতে পেরে আমি খুবই স্বাচ্ছন্দবোধ করি।

মহসিন আলী নামে স্থানীয় একজন কৃষক জানান, আমার বেশিরবাগ আত্মীয় লন্ডনে বসবাস করে। তাই গুরুত্বপূর্ণ অনেক কাজই আমি ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার থেকে সহজে করে নিতে পারছি। এই কাজের জন্য আমাকে দৌড়ে আর শহরে যেতে হচ্ছেনা। এলাকার অনেক মানুষই এখান থেকে উপকৃত বলে জানান তিনি।

মহসিন আলী আরো জানান, এ এলাকার বেশিরভাগ মানুষ লন্ডনে থাকায় প্রায় প্রত্যেকের আত্মীয়দের সাথে যোগাযোগ রক্ষা কিংবা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাজ এই ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারে এসে করে নিতে পারেন। সাফায়েত নামে একজন শিক্ষার্থী বলেন ইন্টারনেট সম্পর্কে এক সময় এ অঞ্চলের মানুষের ধারণাই ছিলোনা কিন্তু ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার চালু হওয়ার পর এখন অনেক বৃদ্ধ মানুষও বুঝে ইমেইল কি, লন্ডনে কিংবা দেশ ও দেশের বাহিরে ভিডিও কল কিভাবে করতে হয় আরো অনেক কিছু।

মৌলভীবাজার কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ফারুক আহমেদ বলেন, জুবেল ভাই একজন আইডল। কারণ ওনার কাজের দক্ষতার দরুন আগে যারা ইন্টারনেট সংক্রান্ত কাজ শহরে গিয়ে করতো তারা প্রত্যেকেই এখন এই ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারে এসে কাজ সেরে নিচ্ছেন। তাতে সকলেরই লাভ হচ্ছে শহরে গিয়ে আর তিনগুন টাকা খরচ করতে হচ্ছে না এমনকি মূল্যবান সময়ও বেঁচে যাচ্ছে।

এ শিক্ষার্থী আরো জানান, ডিজিটাল সেন্টারের জুবেল ভাই নিজে এ সেন্টারটিকে সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে এসেছেন। আমিও এখান থেকেই কম্পিউটারের যাবতীয় কাজ কর্ম করে নিচ্ছি। জুবেল ভাইয়ের কারণেই আজ এটি জেলায় শ্রেষ্ঠ ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার নির্বাচিত হয়েছে।

এ ব্যাপারে মৌলভীবাজার (সদর) কামালপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো.ফয়সল আহমেদ জানান, ইউনিয়ন পর্যায়ে তথ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য সরকার এ ডিজিটাল সেন্টার চালু করেছে। এই ডিজিটাল সেন্টার থেকে প্রচুর মানুষজন সুবিধা ভোগ করছেন।

তিনি আরো বলেন, আমাদের এলাকার মানুষজন বেশিরভাগ প্রবাসী হওয়াতে আগে তারা এই কাজগুলোর জন্য শহরে দৌড়াতে হতো পাঁচগুণ টাকাও খরচ হতো। আর অনেক সময় নষ্ট হতো। ইউনিয়ন সেন্টারে ডিজিটাল সেন্টার চালু হওয়াতে মানুষের দুর্ভোগ কমে গেছে। যখন খুশি এসে প্রয়োজনীয় কাজ করে নিতে পারছে। ডিজিটাল সেন্টার এ দ্রুতই আমরা বেকার যুবকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি আর তা চালু হলে এলাকার বেকার যুবকরা প্রশিক্ষণ নিয়েও বেকারত্ব দূর করতে পারবেন। প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার এটি একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বলেও জানান তিনি।

মৌলভীবাজার জেলার জেলা প্রশাসক তোফায়েল ইসলাম জানান, এ ডিজিটাল সেন্টার চালু হওয়ার ফলে সমস্ত জেলায় কয়েকশো বেকার ছেলে-মেয়ের কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। তারা বেশ ভালো উপার্জনও করছেন। পরিবার নিয়ে সচ্ছলভাবে জীবনযাপন করতে পারছেন তারা। পাশাপাশি এ ডিজিটাল সেন্টার চালু হওয়ার ফলে জেলার প্রচুর মানুষ এর সুবিধা ভোগ করছেন। বিশেষ করে এ জেলার মানুষজন বেশিরভাগ প্রবাসী আর প্রবাসীরা অত্যন্ত উপকৃত।

উদ্যোক্তা জুবেল আহমেদ সম্পর্কে জেলা প্রশাসক বলেন, জুবেল বেকার অবস্থায় চাকরির জন্য ঘুরছিলো তারপর এই ডিজিটাল সেন্টারে উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ শুরু করে। আজ সে সফল একজন উদ্যোক্তা। ভালো উপার্জন করে পরিবার নিয়ে বেশ সচ্ছলভাবে জীবনযাপন করছে।

তিনি আরো বলেন, শুধু জুবেলই নয় এই জেলার প্রতিটা ডিজিটাল সেন্টারে কর্মরত উদ্যোক্তারা বেশ ভালো উপার্জন করে পরিবার নিয়ে সচ্ছলভাবে জীবনযাপন করছে।

Bootstrap Image Preview