Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১২ বুধবার, ডিসেম্বার ২০১৮ | ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

কবি সুফিয়া কামালের ১৯তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ২০ নভেম্বর ২০১৮, ১২:৪০ PM
আপডেট: ২০ নভেম্বর ২০১৮, ১২:৪০ PM

bdmorning Image Preview


নারী আন্দোলনের পথিকৃৎ এবং সাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে এক অকুতোভয় যোদ্ধা কবি বেগম সুফিয়া কামালের ১৯তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৯৯৯ সালের ২০ নভেম্বর মৃত্যুবরণ করেন সুফিয়া কামাল। তাকে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়।বাংলাদেশের নারীদের মধ্যে তিনিই প্রথম এ সম্মান লাভ করেন।

মঙ্গলবার (২০ নভেম্বর) কবি সুফিয়া কামালের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এ ছাড়া পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

কবি সুফিয়া কামাল ছিলেন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল এবং নারীমুক্তি আন্দোলনের অন্যতম এক অকুতোভয় যোদ্ধা। তার জন্ম ১৯১১ সালের ২০ জুন বরিশালে। তৎকালীন বাঙালি মুসলমান নারীদের লেখাপড়ার সুযোগ একেবারে সীমিত থাকলেও তিনি নিজ চেষ্টায় লেখাপড়া শেখেন।

১৯১৮ সালে কলকাতায় বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে সুফিয়া কামালের দেখা হয়েছিল। তার শিশুমনে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছিল বেগম রোকেয়ার কথা ও কাজ। তাই তার কাজেকর্মেও বেগম রোকেয়ার ছাপ পাওয়া যায়।

সুফিয়া কামালের প্রথম কবিতা ‘বাসন্তী’ ১৯২৬ সালে তৎকালীন প্রভাবশালী সাময়িকী সওগাতে প্রকাশিত হয়। ১৯৩৭ সালে তার গল্পের সংকলন ‘কেয়ার কাঁটা’ প্রকাশিত হয়। ১৯৩৮ সালে তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘সাঁঝের মায়া’র মুখবন্ধ লেখেন কাজী নজরুল ইসলাম।

স্বামীর আকস্মিক মৃত্যুতে ১৯৩২ সালে আর্থিক সমস্যায় পড়েন সুফিয়া কামাল। তিনি কলকাতা করপোরেশন স্কুলে শিক্ষকতা শুরু করেন এবং ১৯৪২ সাল পর্যন্ত এ পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। এর মাঝে ১৯৩৯ সালে কামালউদ্দীন আহমেদের সাথে তার বিয়ে হয়।

১৯৫৬ সালে শিশুদের সংগঠন কচিকাঁচার মেলা প্রতিষ্ঠা করেন সুফিয়া কামাল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মহিলা হোস্টেলকে ‘রোকেয়া হল’ নামকরণের দাবিও জানান তিনি। ১৯৬১ সালে পাকিস্তান সরকার রবীন্দ্রসংগীত নিষিদ্ধ করলে এর প্রতিবাদে গঠিত আন্দোলনে কবি যোগ দেন।

সুফিয়া কামাল ১৯৬৯ সালে মহিলা সংগ্রাম কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন, গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেন, পাকিস্তান সরকার কর্তৃক ইতিপূর্বে প্রদত্ত তঘমা-ই-ইমতিয়াজ পদক বর্জন করেন। ১৯৭০ সালে মহিলা পরিষদ প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৭১ সালের মার্চে অসহযোগ আন্দোলনে নারীদের মিছিলে নেতৃত্ব দেন।

স্বাধীন বাংলাদেশে নারী জাগরণ আর সম-অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে সুফিয়া কামাল উজ্জ্বল ভূমিকা রেখে গেছেন। ১৯৯০ সালে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে শরিক হয়েছেন, কারফিউ উপেক্ষা করে নীরব শোভাযাত্রা বের করেছেন। প্রতিটি প্রগতিশীল আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ তার বাণীতে মহীয়সী এ নারীর জীবনাদর্শ ও সাহিত্যকর্ম একটি বৈষম্যহীন ও অসাম্প্রদায়িক সমাজ বিনির্মাণে তরুণ প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ ও অনুপ্রাণিত করবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘কবি সুফিয়া কামাল নিজ উদ্যোগে শুধু নিজেকে শিক্ষিত করেননি, পিছিয়ে পড়া নারী সমাজকে শিক্ষার সুযোগ করে দেওয়ারও আন্দোলন শুরু করেছিলেন।’

‘নারীসমাজকে অজ্ঞানতা ও কুসংস্কারের বেড়াজাল থেকে মুক্ত করতে তিনি আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। তার প্রতিষ্ঠিত ‘‘বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ’’ নারী অধিকার আদায়ের এক অনন্য প্রতিষ্ঠান। বিভিন্ন গণতান্ত্রিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে তার অবদানের জন্য তাকে ‘‘জননী সাহসিকা’’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। তিনি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার আন্দোলনের অন্যতম উদ্যোক্তা।’

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে কবি বেগম সুফিয়া কামালের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বলেন, ‘সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে পঁচাত্তরের পনেরই আগস্টে নির্মমভাবে হত্যা করে যখন এ দেশের ইতিহাস বিকৃতির পালা শুরু হয়, তখনো তার (সুফিয়া কামাল) সোচ্চার ভূমিকা বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের গণতান্ত্রিক শক্তিকে নতুন প্রেরণা যুগিয়েছিল।’

Bootstrap Image Preview