Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১২ বুধবার, ডিসেম্বার ২০১৮ | ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

আ.লীগের প্রার্থী তালিকা থেকে বাদ পড়ছেন বেশ কিছু সংসদ সদস্য

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৮ নভেম্বর ২০১৮, ০৯:২৫ PM
আপডেট: ১৮ নভেম্বর ২০১৮, ০৯:৩০ PM

bdmorning Image Preview
প্রতীকী


একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রতিটি বিভাগের আসনওয়ারী প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করে এখন শেষ মুহুর্তের বাছাই চলছে। বিভিন্ন মহলের তদবির আর দলীয় নানা ইস্যুতে কেউ বাদ পড়ছেন আবার কেউ অন্তর্ভুক্ত হচ্ছেন। প্রার্থীরাও নানামহল থেকে চেষ্টা তদবির চালাচ্ছেন দলীয় মনোনয়নের ক্ষেত্রে। এভাবেই আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালিকা প্রায় চূড়ান্ত করে এনেছে সংসদীয় বোর্ড।

জানা যায়, যে কোনো কঠিন মুহূর্তে জিততে পারে এমন ২২০টি আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে দলটি। ৩০০ আসনের তালিকা চূড়ান্ত করার পর মঙ্গলবার নাগাদ প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হতে পারে। আর এ সময়ে জোটের আসনগুলোতেও প্রার্থীর তালিকা চূড়ান্ত করা হবে।

ঢাকা মহানগরের তালিকা থেকে বাদ পড়ছেন সাবেক এক প্রতিমন্ত্রী। ময়মনসিংহের একটি আসন গতবার জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেয়া হলেও এবার সে আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এছাড়া মহাজোটের ময়মনসিংহের অন্য আসনগুলো ঠিক রয়েছে। টাঙ্গাইলের দু’টি আসনের সংসদ সদস্য মনোনয়ন তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন। এর একটিতে মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতা। শেরপুরের একটি আসনে মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হয়েছে বিএনপির ভোটে ভাগ বসাতে। বিএনপির প্রার্থীর আপন চাচাকে প্রার্থী করছে আওয়ামী লীগ। অন্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা এতে হতাশা ব্যক্ত করেছেন।

কিশোরগঞ্জ জেলার একটি আসনে মনোনয়ন বঞ্চিত হতে যাচ্ছেন এক সংসদ সদস্য। এ আসনে পুলিশের এক শীর্ষ কর্তার নাম রয়েছে। তবে তা পরিবর্তন করতে দেশের শীর্ষ মহলে তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

বরিশাল বিভাগের মনোনয়নেও থাকছে চমক। ভোলা, বরগুনা, বরিশাল জেলার সংসদ সদস্যরা তাদের দলীয় মনোনয়ন টিকিয়ে রাখতে পারলেও পটুয়াখালীর এক জনপ্রিয় সংসদ সদস্য বাদ পড়েছেন একটি বিশেষ মহলের সুপারিশে। অবশ্য ওই সংসদ সদস্য ২০০৮ সালের নির্বাচনে বাদ পড়েছিলেন সংস্কার ইস্যুতে। পিরোজপুরের একটি আসনের সংসদ সদস্য বাদ পড়েছেন দলীয় বিদ্রোহের কারণে। এবারও নিজ এলাকার বাইরে পাশের এলাকা থেকে মনোনয়ন পাচ্ছেন বরিশালের এক সাদামনের সংসদ সদস্য। বরিশাল বিভাগে জোটের জন্য এবার একটি আসন বেশি ছাড়া হতে পারে।

পিরোজপুর জেলার তিনটি আসনের মধ্যে ২টি আসনই ছেড়ে দেয়া হচ্ছে মহাজোটের শরীকদের জন্য। পিরোজপুর-২ দেয়া হচ্ছে জাতীয় পাটি (জেপি), পিরোজপুর-৩ দেয়া হচ্ছে এরশাদের জাতীয় পার্টিকে। বরিশাল-৩ আসনে জাতীয় পার্টি ও ওয়ার্কার্স পার্টিকে নিজেদের মধ্যে সমঝোতা করতে বলা হয়েছে। এসকে সিনহার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার জন্য বাদ পড়ছেন সিলেট বিভাগের একজন এমপি। সেখানে দলীয় মনোনয়ন পেতে পাচ্ছেন সাবেক এক আমলা।

খুলনা বিভাগের প্রার্থী তালিকায় এবার বেশ চমক থাকছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি জেলা থেকে বর্তমান সংসদ সদস্যরাও বাদ পড়েছেন। যশোরে মনোনয়ন দৌড়ে এক সেনা কর্মকর্তা পিছনে ফেলেছেন বর্তমান এক সংসদ সদস্যকে। ঝিনাইদহে প্রশাসনিক রিপোর্টে বাদ পড়েছেন এক সংসদ সদস্য। তার স্থলে আবারও দলীয় মনোনয়ন পেতে যাচ্ছেন সাবেক এক সংসদ সদস্য।

এদিকে গত শুক্রবার (১৬ নভেম্বর) আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের ওবায়দুল কাদের জানান, আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর তালিকা চূড়ান্ত করা হবে। এক সপ্তাহের মধ্যে অ্যালায়েন্সের (জোট) সঙ্গে আসন ভাগাভাগীর কাজ শেষ হবে।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, জেতার সম্ভাবনা আছে এমন প্রার্থীকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে। হারের রিস্ক আমরা নেব না।

কাদের বলেন, আমাদের নির্বাচনী প্রস্তুতি প্রায় শেষ। দেশি-বিদেশি সব সমীক্ষা ও জরিপে দেখা গেছে শেখ হাসিনা জনপ্রিয়তার তুঙ্গে অবস্থান করছেন।

তিনি বলেন, সব জরিপে আওয়ামী লীগ এগিয়ে আছে। আমি পাঁচ-ছয়টি জরিপ রিপোর্ট স্টাডি করেছি। আমাদের যারা প্রতিপক্ষ তাদের অবস্থান নিয়েও জরিপ করা হয়েছে। যেসব এলাকায় আমরা পিছিয়ে আছি, সেসব নির্বাচনী এলাকাতেও আমরা গেছি।

Bootstrap Image Preview