Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৭ সোমবার, ডিসেম্বার ২০১৮ | ২ পৌষ ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

নির্বাচনের আগে যে কারণে হাসপাতালে ভর্তি হলেন এরশাদ

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৭ নভেম্বর ২০১৮, ১১:৩০ PM
আপডেট: ১৭ নভেম্বর ২০১৮, ১১:৩০ PM

bdmorning Image Preview
ফাইল ছবি


হাতেগোনা আর মাত্র কয়েকদিন পর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। কিন্তু নির্বাচনের আগেই অসুস্থতা নিয়ে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি হয়েছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। কিন্তু এ নিয়ে জনমনে নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতেও দেখা যাচ্ছে নানা প্রশ্ন। কারণ এর আগে ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগেও এইচ এম এরশাদকে সামরিক হাসপাতালে নেয়া হয়েছিল।

সেসময় জাতীয় পার্টির নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে ব্যাপক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। শুরুতে নির্বাচনে অংশগ্রহণের কথা থাকলেও ৩রা ডিসেম্বর হঠাৎ করে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন। তিনি বলেছিলেন, সব দল নির্বাচনে অংশ না নেয়ায় তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

জাতীয় পার্টির এই সিদ্ধান্ত তখন আওয়ামী লীগ সরকারকে ভীষণ বিপাকে ফেলেছিল। তবে রওশন এরশাদের নেতৃত্বে জাতীয় পার্টির একাংশ নির্বাচন যাচ্ছে বলে ঘোষণা করে।

এরকম এক পটভূমিতে ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে সাবেক প্রেসিডেন্ট এরশাদকে র‍্যাব আটক করেছে বলে খবর প্রকাশিত হয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে। তবে র‍্যাবের পক্ষ থেকে তখন বলা হয়েছিল, তিনি আটক হননি, তাকে চিকিৎসার জন্য সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। তবে দলের কোন কোন নেতা তখন দাবি করেছিলেন, এরশাদ অসুস্থ নন।

এরপর বেশ কিছুদিন এরশাদকে সামরিক হাসপাতালে কাটাতে হয়েছিল। তার সঙ্গে দেখা-সাক্ষাতের ক্ষেত্রে নানা বিধিনিষেধ ছিল। তবে ‘অসুস্থ’ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকলেও এরশাদকে গলফ খেলতে দেখা গেছে বলেও সেসময় পত্র-পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয়।

অভিযোগ উঠেছিল, নির্বাচনে যাবেন না বলে ঘোষণা দেয়ার পরই তাঁকে জোর করে সামরিক হাসপাতালে নেয়া হয়েছিল।

এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে স্বাস্থ্যের অবনতি হওয়ায় তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন বলে জানান দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য মীর আবদুস সবুর আসুদ।

তিনি বলেন, বর্তমানে চিকিৎসকরা স্যারকে সিএমএইচে থাকতে বলেছেন। তিনি সেখানেই চিকিৎসা নিচ্ছেন। আমরা এখনও সেখানে যাইনি।

দলীয় সূত্র জানায়, আগে থেকেই বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছেন এরশাদ। তিনি সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে রুটিন চেকআপ করতেন। তার দুটো ভাল্বেই ছিদ্র রয়েছে। ডাক্তাররা তাকে সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে বলেছেন।

এরশাদের অসুস্থতা নিয়ে জাতীয় পার্টির মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার এ প্রতিবেদককে বলেন, উনি রুটিন চেক-আপের জন্য হাসপাতালে গেছেন। উনি নিয়মিতই যান। হাসপাতাল থেকে উনি কালও চলে আসতে পারেন। দু'এক দিন দেরিও হতে পারে। হাসপাতালের সব বড় বড় কর্মকর্তারা সেখানে উনার দেখাশোনা করছেন। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল, মেজর জেনারেল পদমর্যাদার লোকজন।

শারীরিক সমস্যা নিয়ে জাতীয় পার্টির এ নেতা বলেন, স্বাভাবিক চেক আপের জন্য তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। ব্লাড সুগার, হার্ট, প্রেশার এসব। ব্লাড সেলগুলোও দেখা হচ্ছে। উনি প্রায়শই এরকম গিয়ে এক-আধ দিন থাকেন। উনি তো সেনাবাহিনীর প্রধান ছিলেন। স্বাভাবিকভাবে ক্যান্টনমেন্ট তারও একটা আস্থার জায়গা। বাসার চেয়ে কম না। উনি সেখানে এক আধ দিন থাইকা আবার চলে আসেন।

এরশাদের সুস্থতার ব্যাপারে রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, না, তেমন অসুস্থ না। দু'এক দিনের মধ্যেই বাসায় ফিরে আসবেন।

জনমনের গুঞ্জন নিয়ে জাতীয় পার্টির মহাসচিব বলেন, যেসব কথা বলা হচ্ছে, তা মিথ্যা। বিভ্রান্তিকর। জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা। উনি জাতীয় নেতা। দলের চেয়ারম্যান। সাবেক রাষ্ট্রপতি। সাবেক সেনা প্রধান। এখন একটা নির্বাচনের কার্যক্রম চলছে। এখন এ ধরনের বক্তব্য আসাটা অনাকাঙ্খিত। আমরা নির্বাচনে আছি। এবং উনি নির্বাচনে গুলশান থেকে, রংপুর থেকে নির্বাচন করবেন। আরও দুটি আসনেও কথা হচ্ছে।

ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে নির্বাচনী আলোচনার ব্যাপারে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে আলোচনা খুব স্বাভাবিক এবং আন্তরিকতাপূর্ণ পরিবেশে হচ্ছে। চূড়ান্ত হলে আপনারা জানতে পারবেন। সেরকম কোন প্রতিকুল অবস্থা নেই। আমরা শুরু করেছি। আমরা অনেকদূর এগিয়ে আছি। এটা স্পষ্ট হবে। দু'চারদিনের মধ্যে জানাতে পারবো।

Bootstrap Image Preview