Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৪ শুক্রবার, ডিসেম্বার ২০১৮ | ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

নির্বাচনী আমেজে চাঙ্গা রাজধানীর ব্যবসা বাণিজ্য

রায়হান শোভন
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ০২:৪৪ PM
আপডেট: ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ০২:৪৪ PM

bdmorning Image Preview


একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের ভিড়ে চাঙ্গা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার ব্যবসা বাণিজ্য। মূলত রাজনৈতিক বড় দলগুলো থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা গত এক সপ্তাহ ধরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ভিড় জমাচ্ছেন। যার ফলে আবাসিক হোটেল থেকে শুরু করে খাবারের রেস্তরা, পোশাকের মার্কেট ও ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ব্যবসা বাণিজ্য এখন জমজমাট। আর রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনের এই মনোনয়ন ফরম বিক্রি নিয়ে রাজধানীর অর্থনীতিতে প্রাণচাঞ্চাল্য ফিরে এসছে।

জানা গেছে, আওয়ামী লীগসহ ১৪ দল, জাতীয় পার্টি, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট, বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলসহ প্রায় সব রাজনৈতিক দল একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে।

এদিকে গত সোমবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম বিক্রি ও জমা দেয়া শেষ হয়েছে। শেষ দিন পর্যন্ত দলটির ধানমণ্ডিস্থ কার্যালয়ের সামনে বা আশপাশের এলাকার পোশাকের মার্কেট থেকে শুরু করে, ফুটপাতের চায়ের দোকান, রস্তরা, ফাস্ট ফুডের দোকান, ভ্রাম্যমান ভাঁজা-পোড়া আইটেমের খাবার পণ্য, শরবত আইটেম, বোতলজাত পানি, বাদামসহ আনুসাঙ্গিক খাদ্যপণ্যের জমজমাট বেচা বিক্র হয়েছে।

আজ সবরেজমিন রাজধানীর নয়াপল্টন বিএনপির কার্য়ালয় ঘুরে দেখা গেছে, তৃতীয় দিনের মতো চলছে বিএনপি’র মনোনয়ন ফরম বিক্রি ও জমা নেয়া। এ উপলক্ষে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নেতা-কর্মীদের সরব উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। সকাল থেকেই মিছিল নিয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মেনানয়ন প্রত্যাশীদেনর আসতে দেখা গেছে। এ সময় বিএনপির নেতা-কর্মীরা দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও আশপাশের সড়কে স্লোগান দিয়ে, ব্যান্ড বাজিয়ে মিছিল করতে দেখা গেছে। সঙ্গে সুযোগ করে খাবার পণ্য থেকে শুরু করে প্রয়োজনিয় জিনিস পত্র কিনতে দেখা গেছে।

এ দিন নয়াপল্টন এলাকার পলওয়েল সুপার মার্কেটের সাব্বির ট্রেডার্সের মালিক আনিসুর রহমান বিডিমর্নিংকে বলেন, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে নেতাকর্মীরা মনোনয়ন ফরম কিনতে এসেছেন। তারা তাদের রাজনৈতিক কর্মকান্ডের পাশাপাশি ঢাকায় আসার সুবাদে নিজের ও পরিবারে অন্যান্যদের জন্য পোশাক কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। যার কারণে এই নির্বাচনের প্রভাবে আমাদের বেচা বিক্রিও ভালো হচ্ছে। আর মনে হচ্ছে সব কিছু ঠিক থাকলেও রাজনৈতিক পরিস্থিতি ভালো থাকলে আমাদের বেচা বিক্রি আরও বাড়বে। কারণ শীত আসছে। আর এই শীতেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন। তাই মনে হচ্ছে এবার শীত পোশাকেরও ভালো বিক্রি হবে।

একই স্থানের জোনাকি সুপার মার্কেটের মৌ ফেব্রিক্স শোরুমের মালিক মো. খোকন বিডিমর্নিংকে বলেন, নির্বাচনের আমেজে বেচাবিক্রি বেড়েছে। নেতাকর্মীরা আসছেন রাজনৈতিক কাজে। সঙ্গে সুযোগ করে শোরুমে এসে কোন পণ্য পছন্দ হলে কিনে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। এতে গত কয়েকদিন ধরে বিক্রি ভালো হচ্ছে।

নয়াপল্টন বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কার্যালয়স্থ ক্যাপিট্যাল বাংলা রেস্তরার কর্মী রেজাউল করিম বিডিমর্নিংকে বলেন, নির্বাচনের এই মনোনয়ন ফরম বিক্রিকে ঘিরে অনেক নেতাকর্মীর আগাগোনা বেড়েছে। লোকে লোকারণ্য হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। আর এ জন্য এখানকার প্রায় প্রত্যেকটি খাবারের রেস্তরা এখন জমজমাট। একজন মানুষ খাবার শেষ করার আগেই সেই সিট ভুকিং হয়ে যাচ্ছে। তারা চেয়ারের সামনে দাড়িয়ে থেকে নিজের জায়গা বুঝে নিচ্ছেন। আর এই পুরোটা সময় ধরে আমাদের বেচা বিক্রি অনেক ভালো হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, প্রতিদিন আমাদের যে পরিমানে খাবার বিক্রি হয় তার চেয়ে তিনগুন খাবার বেশি বিক্রি হচ্ছে। এতে আমাদের অনেক লাভ হচ্ছে।

একই স্থানের সোসাইটি বিরিয়ানী হাউজের মালিক আব্দুল্লাহ আউয়াল সিদ্দিক বিডিমর্নিংকে বলেন, রোজ এক ড্যাক বিরিয়ানী বিক্রি হয়। কিন্তু নির্বাচনের এই সময়ে ২-৩ ড্যাক বিরিয়ানী বিক্রি হচ্ছে। এতে আমাদের মতো ব্যাবসায়ীদের লাভ হচ্ছে। আর এই পরিস্থিতি আরও বেশ কিছুদিন চললে আমাদের অনেক উপকার হবে। 

পাশেই ভাজা-পোড়া আইটেমের খাদ্যপণ্য বিক্রেতা দেলোয়ার ব্যাপারির সাথে কথা হলে তিনি বিডিমর্নিংকে বলেন, আমি মুলত নয়াপল্টনে খাদ্য আইটেম বিক্রি করি না। তবে এখানে নির্বাচনের ফরম বিক্রির কারণে অনেক লোকের আনাগোনা বেড়েছে। তাই এখানে ভাজা-পোড়া আইটেমের খাদ্যপণ্য বিক্রি করছি।

তিনি বলেন, সকাল থেকে বেলা ১২টার মধ্যে সব খাদ্যপণ্য বিক্রি হয়ে গেছে। তাই আবার নতুন করে তৈরি করছি। আশা করি এগুলোও অনেক তারাতারি শেষ হয়ে যাবে। আর এক দিনে মুনাফা করে যে লাভ হয়েছে তা মনে হয় দুই দিনেও হয় না। এতে আমাদের মতো ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ভাগ্য খুলেছে।

এদিকে কাকলাইল মোড়ের চায়ের দোকানদার মো. জহুরুল হক বিডিমর্নিংকে বলেন, প্রতিদিন যেখানে ১০০ কাপ চা বিক্রি হয়। সেখানে আজ দুপুর একটা পর্যন্ত প্রায় ৩০০ কাপ চা বিক্রি হয়ে গেছে। নির্বাচনের আমেজ লেগেছে রাজধানীতে। চা বানিয়ে ক্রেতাদের দিতে হিমসিম খাচ্ছি। বিক্রি যেমন বেড়েছে লাভও হচ্ছে অনেক।

অন্যদিকে পতাকা ও টুপি বিক্রেতা সোলাইমান বলেন, মিছিলের পর মিছিল আসছে। সঙ্গে হাতে করে একটি পতাকা বা বাংলাদেশের টুপি কিনে নিয়ে যাচ্ছে নেতারা। বিক্রিও হচ্ছে দেদার। সঙ্গে ভালো মুনাফা করতে পারছি। কারণ প্রতিদিন কোন বেচাকেনা থাকে না। আর নির্বাচনের আমেজে ভালো বিক্রি হচ্ছে।

বিএনপি কার্যালয় থেকে টাঙ্গাইল-৫ আসনের জন্য মনোনয়ন প্রত্যাশী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু মনোনয়ন ফরম কিনতে এসেছেন। সঙ্গে এসেছেন তার নেতাকর্মীরা। মনোনয়ন প্রত্যাশীর সঙ্গে আসা মো. হামিদুর রহমান বিডিমর্নিংকে বলেন, নেতার সঙ্গে টাঙ্গাইল থেকে এসছি। তার ইচ্ছায় দুই একদিন ঢাকায় থেকে টাঙ্গাইল ফিরবো। কিন্তু এখানকার আবাসিক হোটেলগুলো আগে থেকেই বুকিং হয়ে গেছে। কোন রুম খালি পাচ্ছি না।

পল্টন এলাকার হোটেল ৭১ এর কর্মকর্তা মো. সিকান্দার আলী বিডিমর্নিংকে বলেন, উন্নতমানের আবাসিক হোটেলগুলোতে নির্বাচনের আমেজ লেগেছে।

Bootstrap Image Preview