Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৮ রবিবার, নভেম্বার ২০১৮ | ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

উদ্যোগ থাকলেও নেই কার্যকারিতা; ৯২.৫% নারীই পাচ্ছেনা ভিজিডি সুবিধা

মেরিনা মিতু
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭ নভেম্বর ২০১৮, ০৭:৩৮ PM
আপডেট: ০৭ নভেম্বর ২০১৮, ০৭:৩৮ PM

bdmorning Image Preview
ফাইল ছবি


বসতভিটা বা বাড়ি নেই, এমনকি আবাদি জমিও নেই এমন দরিদ্র নারীর মাত্র ৮ দশমিক ৫ শতাংশ ভিজিডি সুবিধা পাচ্ছেন। বাকি ৯২ দশমিক ৫ শতাংশই সুবিধার বাইরে থেকে যাচ্ছেন। এমনই তথ্য পাওয়া যায় সম্প্রতি আন্তর্জাতিক খাদ্যনীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (ইফরি) এক গবেষণায়।

দেশে অতিদরিদ্র পরিবারের নারীদের অবস্থার উন্নয়নে বিশ্ব খাদ্য সংস্থার সহায়তায় দীর্ঘদিন ধরে ভিজিডি সুবিধা দিয়ে আসছে সরকার। কিন্তু এই সুবিধাতে অতিদরিদ্রদের অগ্রাধিকার পাওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা ঘটছে না।

মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভিজিডি কর্মসূচির নীতি-পরামর্শ দেয়ার জন্যই ‘অ্যাসেসিং ইনডিকেটরস ফর সিলেকশন অব পারটিসিপেন্টস ফর দ্য ভালনারেবল গ্রুপ ডেভেলপমেন্ট (ভিজিডি) প্রোগ্রাম ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এ গবেষণা পরিচালনা করা হয়। গবেষণার জন্য বাংলাদেশ ইন্টিগ্রেটেড হাউজহোল্ড সার্ভের (বিআইএইচএস) তথ্যগুলোকে ভিত্তি হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে দুটি প্যানেল সার্ভে ডাটা বিশ্লেষণ করেছে সংস্থাটি।

যেখানে বলা হয়েছে, আয়ের উৎস রিকশা বা ভ্যানচালক এমন পরিবারের ৪ দশমিক ২ শতাংশ এবং গ্রামে বিদ্যুৎ আছে কিন্তু পরিবারে বিদ্যুৎ নেই এমন ৩১ দশমিক ৬ শতাংশ নারী ভিজিডি সুবিধা পাচ্ছেন। আবার ব্যক্তিগত পানির কল নেই এমন ৪০ দশমিক ৪ শতাংশ এবং যাদের বাড়ির দেয়াল বাঁশ বা খড় (স্টিকস) দিয়ে তৈরি, এমন পরিবারের ২৭ দশমিক ৮ শতাংশ নারী ভিজিডি সুবিধা পাচ্ছেন।

গবেষণা থেকে আরও জানা যায়, জমি নেই কিন্তু বসতভিটা আছে এমন ৩৮ দশমিক ৭ শতাংশ, আবার বসতভিটা এবং আবাদের জন্য ১৫ শতকের নিচে জমি আছে এমন ৪২ দশমিক ২ শতাংশ, পরিবার প্রধান উপার্জনকারী কৃষি শ্রমিক এমন ১৪ দশমিক ১ শতাংশ, আয়ের উৎস অকৃষি ১০ দশমিক ৪ শতাংশ, গর্ভবতী ৫ শতাংশ এবং দুই বছরের কম বয়সী শিশু রয়েছে এমন ১৫ দশমিক ২ শতাংশ নারী এ সুবিধা পাচ্ছেন। এছাড়া পরিবারে প্রাপ্তবয়স্ক কোনো উপার্জনক্ষম পুরুষ নেই এমন পরিবারের ১৫ দশমিক ২ শতাংশ নারী ভিজিডি সুবিধা ভোগ করছেন।

এ বিষয়ে বাংলাদেশে ইফরির কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. আকতার আহমেদ জানান,  ‘আমরা নিজেরাও লক্ষ্য করেছি অনেকেই ভিজিডি সুবিধা পাওয়ার যোগ্য কিন্তু পাচ্ছেন না। তাই বাছাই প্রক্রিয়া বিশ্লেষণ করে আরো কিছু শর্ত যুক্ত করার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। কারণ এই বাছাইটি করা হয় মূলত সুবিধাভোগী পরিবারের বিভিন্ন সূচকের আলোকে। নতুন শর্তগুলো এরই মধ্যে সরকার যুক্ত করে পরিপত্র জারি করেছে। এর মাধ্যমে আমরা আশা করি এই সুবিধা যাদের বেশি প্রয়োজন তারাই পাবেন।'

গবেষণায় দেখা গেছে, ১২-১৮ বছর বয়সী ন্যূনতম একজন কিশোরী স্কুলে যাচ্ছে এমন পরিবারের ২১ দশমিক ৭ শতাংশ নারী ভিজিডি সুবিধা পাচ্ছেন। পরিবারে ১২-১৮ বছর বয়সী একজন কিশোরী আছে এমন পরিবারের ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ নারী এবং ব্যক্তিগত ল্যাট্রিন নেই এমন পরিবারের মাত্র ৩ দশমিক ৩ শতাংশ নারী এ সুবিধা পাচ্ছেন।

ভিজিডি কর্মসূচি প্রসঙ্গে মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের পরিচালক মো. আতাউর রহমান  বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন ও পিছিয়ে পড়া নারীদের আর্থসামাজিক উন্নয়নে সবচেয়ে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে ভিজিডি কর্মসূচিকে। ভিজিডি সুবিধা প্রকৃতপক্ষে যাদের পাওয়ার যোগ্য, তারাই যেন পান সেজন্য সুবিধাভোগীর সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আরো স্বচ্ছ করা হচ্ছে। ২০ থেকে ৫০ বছর বয়সী শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ আছেন মহিলাদের  প্রাথমিকভাবে মূল্যায়ন করা হয়। আবেদন ফরম পূরণে কিছু সূচক দেয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে আবেদনকারীর অটোমেটিক স্কোর চলে আসবে।

পরবর্তী সময়ে আবেদন যাচাই-বাছাই করে স্কোরের ভিত্তিতে প্রতিটি ইউনিয়নে যোগ্যদের ভিজিডি সুবিধা দেয়া হবে। তাছাড়া নীতিমালায় নতুন কিছু বিষয় যুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে বিদ্যুৎ এবং জমি না থাকা, কৃষি খাতে দৈনিক দিনমজুর পরিবার, পরিবারে স্কুলে অধ্যয়নরত কিশোরী থাকা, ঘরের দেয়াল মাটির বা বাঁশের তৈরি এবং প্রতিবন্ধী শিশু আছে এসব পরিবার অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে।‘

তবে অন্য কোনো সামাজিক কর্মসূচিতে আছেন কিংবা ২০১৫-১৬ এবং ২০১৭-১৮ ভিজিডি চক্রে কার্ডধারী ছিলেন এমন মহিলা আগামী ২০১৯-২০২০ ভিজিডি চক্রে অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন না। একটি পরিবার একটি কার্ড বিনা শর্তে পাবে। এসব পদক্ষেপের কারণে আগামী ভিজিডি চক্রে যোগ্যরাই অন্তর্ভুক্ত হবেন।

জানা যায়, ভিজিডি কর্মসূচি সাধারণত দুই বছর মেয়াদি হয়ে থাকে, যাকে একটি চক্র ধরা হয়। চলতি ২০১৭-১৮ ভিজিডি চক্রে দেশব্যাপী ইউনিয়ন পর্যায়ে ১০ লাখ পরিবারকে ভিজিডির আওতায় মাসিক ৩০ কেজি চাল বা গম প্রদান করা হচ্ছে।

পাশাপাশি আয়বর্ধক প্রশিক্ষণ ও মাসে ২০০ টাকার সঞ্চয় সুবিধা দেয়া হয় এ কর্মসূচিতে। তবে আগামী ২০১৯-২০ ভিজিডি চক্রে সুবিধাভোগীর সংখ্যা ১০ লাখ থেকে বাড়িয়ে ১০ লাখ ৪০ হাজারে উন্নীত করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে ভিজিডি কর্মসূচির জন্য ১ হাজার ৬৮৫ কোটি ৭ লাখ ১০ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এজন্য নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে।

Bootstrap Image Preview