Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৯ সোমবার, নভেম্বার ২০১৮ | ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

বরিশাল-৪ আসনে আ’লীগে বিভাজন, বিএনপিতে ঐক্য

বরিশাল প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৭ নভেম্বর ২০১৮, ০৬:২৯ PM
আপডেট: ০৭ নভেম্বর ২০১৮, ০৬:২৯ PM

bdmorning Image Preview


বরিশালের মেঘনা ঘেরা সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন দুটি উপজেলা হচ্ছে হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জ। এ দুটি জনপথ নিয়েই বরিশাল-৪ সংসদীয় আসন। এ আসনের ভোটারদের দেশের চলমান ধারার বিপরীতে যাওয়ার একটা প্রবণতা রয়েছে।

১৯৯১ সালে বিএনপি যখন সরকার গঠন করে তখন এখানে ভোটে জেতেন বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি মহিউদ্দিন আহম্মেদ। ১৯৯৬ সালে আ'লীগ সরকার গঠন করলে তখন এ আসনে বিএনপির প্রার্থী শাহ মো. আবুল হোসাইন জয়লাভ করেন। ২০০১ সালে তিনি পুনরায় জয়ী হন। ওয়ান-ইলেভেন সময়ে সংস্কারে গিয়ে ‘মাইনাস টু’ ফর্মুলার আন্দোলনের অগ্রভাগে ছিলেন আবুল হোসাইন। ফলে বিএনপির মূলধারা থেকে ছিটকে পড়েন তিনি।

এ সুযোগে ২০০৮ সালের নির্বাচনে এখানে দলীয় মনোনয়ন পান বরিশাল উত্তর জেলা বিএনপির সভাপতি মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ। সেই নির্বাচনে বরিশাল বিভাগের ২১টি আসনের মধ্যে যে দুটি আসনে বিএনপি জয়লাভ করে তার একটিতে নিজের নাম লেখান মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ।

অপরদিকে জাতীয় পার্টি থেকে আসা তখনকার আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট নেতা মইদুল ইসলাম পরাজিত হন। এ ঘটনার কারণ খুঁজতে গিয়ে দেখা যায়, অভ্যন্তরীণ কোন্দলে বহু ভাগে বিভক্ত থাকাই কাল হয়েছিল দলটির। এরপর ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এখানে জয়লাভ করেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ দেবনাথ।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে পংকজ নাথকে মনোনয়ন দেওয়ার পরই আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল বেড়ে যায়। মনোনয়ন প্রশ্নে এখানকার ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যে অভ্যান্তরীণ কলহ চলছে বহু বছর ধরে। দলের নেতা-কর্মীরা বলেছে আগামী নির্বাচনে এ আসনে ভালো ফল পেতে ক্ষমতাসীন আ'লীগের নেতাকর্মিদের আত্মকলহ দূর করা ছাড়া বিকল্প কোন পথ নেই। ইতিপূর্বে জেলা আ’লীগের নেতৃবৃন্দরা বিষয়টিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে সমাধান করার চেষ্টা করেছেন। তা ছাড়া কেন্দ্র থেকেও নেতা-কর্মীদের একাধিকবার তাগিদও দেয়া হয়েছে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে এ আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দুটি দলেই মনোনয়নপ্রার্থীর সংখ্যা রয়েছে একাধিক। এ আসনে আ’লীগে মনোনয়ন চাইছেন বর্তমান সংসদ সদস্য পংকজ নাথ। মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকায় আরো রয়েছেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মইদুল ইসলাম, বরিশাল মহানগর আ'লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজালুল করিম, সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম মহিউদ্দিন আহম্মেদের মেয়ে আ'লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. শাম্মী আহম্মেদ ও দলের আরেক নেতা মেজর (অব.) মহসিন সিকদার।

অপরদিকে দলীয় ঐক্য ও সাংগঠনিক শক্তির প্রশ্নে আ'লীগের তুলনায় বেশ খানিকটা এগিয়ে বিএনপি। শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে রয়েছে দারুণ মিল। দুই উপজেলার বিএনপির কর্মীরা সংগঠিত থাকায় এখন পর্যন্ত একক প্রার্থী নিয়ে এ আসনে অনেকটাই ঐক্যবদ্ধ বিএনপি। যদিও এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন চাইছেন অন্তত হাফ ডজন নেতা। তালিকায় অনেকের নাম থাকলেও এখানে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে বেশি আলোচিত হচ্ছেন সাবেক এমপি মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ ও ছাত্রদলের বর্তমান কেন্দ্রীয় সভাপতি রাজিব আহসান।

এ ছাড়াও তালিকায় রয়েছেন বিএনপির সংস্কারপন্থী নেতা সাবেক এমপি শাহ মো. আবুল হোসাইন, নুরুর রহমান জাহাঙ্গীর, অ্যাডভোকেট হেলালউদ্দিন, এবিএস স্বপন, আবদুল খালেক হাওলাদার ও নজরুল ইসলাম শান্ত। সংস্কার ইস্যু নিয়ে দূরত্ব মিটে গেলে এ আসনে শাহ মো. আবুল হোসাইন বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে চমক দেখাতে পারেন বলেও দাবি করছেন সাবেক এই এমপির অনুসারীরা।

মনোনয়ন চাওয়া প্রসঙ্গে অধ্যাপক মেজবাউদ্দিন ফরহাদ বলেন, আগামী নির্বাচনে দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান যে সিদ্ধান্ত দেবেন, তা মেনেই রাজনীতির মাঠে থাকব।

বর্তমান সংসদ সদস্য পংকজ নাথ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকান্ডে জনগণ এখন খুশি। দল আগের চেয়ে এখন অনেক শক্তিশালী। আমরা আশাবাদী আগামী নির্বাচনে এ আসনে জনগণ নৌকাকে বিজয়ী করবে।’

বরিশাল মহানগর আ'লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আফজালুল করিম বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনে আমাকে প্রথম বরিশাল-৪ ও পরে বরিশাল-৩ আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়। কিন্তু মহাজোটের স্বার্থে দলীয় সভানেত্রীর নির্দেশে আমি প্রার্থিতা প্রত্যাহার করি। আমার এ ত্যাগ নেত্রী এবার বিবেচনায় নেবেন বলে আশা করি।

আওয়ামী লীগের অপর মনোনয়ন প্রত্যাশী জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মইদুল ইসলাম বলেন, ২০০৮ সালে ৯০ হাজার ভোট পেয়েছি। প্রধানমন্ত্রী চাইলে আগামী নির্বাচনে অংশ নেব।

বিএনপি ও আ'লীগের বাইরে প্রার্থী হিসেবে আরও যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতা ইউপি চেয়ারম্যান মাওলানা এছাহাক মোহাম্মদ আবুল খায়ের ও জাতীয় পার্টির নাছির উদ্দিন সাথী।

Bootstrap Image Preview