Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৮ রবিবার, নভেম্বার ২০১৮ | ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

কলা পাকাতে ব্যবহৃত হচ্ছে ক্ষতিকর বিষাক্ত রাসায়নিক 'ইথিফন'

ইমাম হোসেন, মীরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধিঃ
প্রকাশিত: ০৭ নভেম্বর ২০১৮, ০৩:৫০ PM
আপডেট: ০৭ নভেম্বর ২০১৮, ০৩:৫০ PM

bdmorning Image Preview


মীরসরাই উপজেলার বারইয়াহাট, জোরারগঞ্জ, বড়তাকিয়া বাজারসহ বিভিন্ন বাজারের কলার আড়তগুলোতে বিষাক্ত রাসায়নিক দিয়ে পাকানো হচ্ছে কলা। কখনো কখনো ভেজাল বিরোধী অভিযান হলেও ফলের হাটগুলোতে অভিযান পরিলক্ষনীয় নয়। তবে প্রশাসন বলছে এখন থেকে অভিযান হবে। 

সরেজমিনে পরিদর্শনকালে বড়তাকিয়া বাজারের কলার আড়তদার আক্তার হোসেন বললেন, আগের থেকে বিক্রি এখন অনেক কম, আগে বছরে ৪-৫ লাখ টাকার কলা বিক্রি করেছি। গেল দু'বছরে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকার চালান করাও মুশকিল হয়ে যাচ্ছে। এসব কচি ও কাঁচা কলা কি মেডিসিন দিয়ে পাকানো হয় তা তিনি কোন ভাবে স্বীকার করতে নারাজ। অথচ তখনো আড়তের এক পাশে ঠিকই কালো প্লাষ্টিক পলিথিন মোড়ানো অর্ধশতাধিক কলারছড়ি মেডিসিন দিয়ে মুড়িয়ে রাখা হয়েছে। অদূরেই মেডিসিন দেওয়ার বালতিসহ অন্যান্য সরঞ্জাম দেখা যাচ্ছিল। তবুও কোন মেডিসিনই দেওয়া হয়না বলে দাবি জানালেন অপর আড়তদারের পার্টনার মামুন মিয়া। 

কিন্তু সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, বিভিন্ন স্থান থেকে কাঁচা কলা সংগ্রহ করে আনে এইসব পাইকারীরা। মীরসরাই উপজেলার মীরসরাই সদর, বারইয়াহাট বাজার, মিঠাছরা, আবুতোরাবসহ গুরুত্বপূর্ণ সকল বাজারেই এই ভাবেই বিষাক্ত রাসায়নিক দিয়ে পাকানো হচ্ছে কলা।

পরে বাজার থেকে 'ইথিফন' নামে রাসায়নিক কিনে তা এক বালতি পানির সঙ্গে মিশিয়ে তাতে কলার ছড়াগুলো চুবিয়ে রাখেন। এরপর কলাগুলো প্লাস্টিকের ঝুড়িতে রেখে চটের বস্তা দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। দু'দিনেই কলাগুলো পেকে সুন্দর রঙ ধারণ করে ।

শুধু মীরসরাই নয় চট্টগ্রামের সর্বত্র ও সারাদেশেই অপরিপক্ক কলা পাকাতে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিকর এই রাসায়নিক ইথিফন ব্যবহার করছেন। এ রাসায়নিক থেকে স্বাস্থ্য ঝুঁকি রয়েছে বিষয়টি সম্পর্কে তারা অবগত নন।

জানা গেছে, বিভিন্ন ফল পাকাতে ইথিফন ব্যবহার হলেও এক্ষেত্রে কিছু নিয়ম অনুসরণ করতে হয়। কিন্তু অতি মুনাফার লোভে ব্যবসায়ীরা এসব নিয়ম মেনে চলছেন না। দ্রুত পাকাতে তারা ফলে সরাসরি ইথিফন প্রয়োগ করে থাকেন। এতে সংশিষ্ট ফলের পুষ্টিগুণ লোপ পায়। এছাড়া অ্যাসিডিটিসহ বিভিন্ন পরিপাক তন্ত্র-সংক্রান্ত্র রোগ এমনকি ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে।

এক্ষেত্রে স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতার অভাব রয়েছে। ফলে এ রাসায়নিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে কোনো মাত্রা নির্ধারণ করা হয়নি এখনো। অথচ শরীরের জন্য ক্ষতিকর হওয়ায় পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে কলায় ইথিফনের ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ফল পাড়ার পর তাতে সরাসরি ইথিফন প্রয়োগের কোনো সুযোগ নেই। এটি করা হলে রাসায়নিকটি ফলটিতে থেকে যায়। বিশেষ করে সরাসরি প্রয়োগের ফলে কলায় ইথিফন থেকে এক ধরনের অ্যালডিহাইড উৎপন্ন হয়। কলার মাধ্যমে এ রাসায়নিক শরীরে প্রবেশ করলে তা মানুষের মস্তিষ্কে অক্সিজেন পরিবহনে বিঘ্ন সৃষ্টি করে।

মীরসরাই উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা বুলবল আহমেদ বলেন, ইথিফন ফল পাকাতে ব্যবহার হয়ে থাকে। তবে ফল গাছে থাকা অবস্থায়ই স্প্রে'র মাধ্যমে তা প্রয়োগ করতে হয়। এরপর নির্দিষ্ট সময় পর ওই ফল গাছ থেকে পাড়তে হয়। এ নিয়ম কলার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। কিন্তু দেশের কিছু অসাধু ব্যবসায়ী দ্রুত মুনাফা লাভের আশায় অপরিণত কলা গাছ থেকে পেড়ে তাতে ইথিফন প্রয়োগ করছেন। এটি একেবারেই উচিত নয়। নির্দিষ্ট সময়ের আগে ইথিফন ব্যবহৃত ফল খেলে তা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতির কারণ হবে। ফলে মাত্রাতিরিক্ত ইথিফন ব্যবহার রোধে তেমন কোনো উদ্যোগ নেই। তবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর বর্তমানে ইথিফন বাজারজাতের লাইসেন্স প্রদান বন্ধ রেখেছে বলে জানা গেছে।

অধিদফতরের উইংয়ের তথ্যমতে, বর্তমানে নতুন করে কাউকে লাইসেন্স দেওয়া হচ্ছে না। কিন্তু এই নিয়ন্ত্রন কি হবে না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের সাথে আলোচনা করে এই বিষয়ে শীঘ্রই অভিযান পরিচালনা করবো।

Bootstrap Image Preview