Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৯ সোমবার, নভেম্বার ২০১৮ | ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

হরিজন শিশুদের জন্য “শুনতে কি পাও?” এর বইঘর

নুসরাত জেরিন নিশু
প্রকাশিত: ১৬ অক্টোবর ২০১৮, ১১:০৯ PM
আপডেট: ১৬ অক্টোবর ২০১৮, ১১:০৯ PM

bdmorning Image Preview


একটি ছোটো পদক্ষেপ কিভাবে কিছু মানুষের জীবন পাল্টে দিতে পারে তা খুব ভালভাবেই জানে “শুনতে কি পাও?” সংগঠন। এই পূজায় নাটোরের হরিজন কলোনীর “আলোকিত শিশু স্কুলে” বইঘর তৈরির মাধ্যমে আরেকবার মানবতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল তারা। 

গত ১৪ তারিখ, বইঘরটির সার্বিক কাজ শেষ করেন তারা এবং তার পরপরই  সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় বইঘরটি।

নাটরের পিলখানা রোড সংলগ্ন হরিজন কলোনীর উক্ত স্কুলটির ৪৩জন বাচ্চার মাঝে ৩৩ জনই হিন্দু সম্প্রদায়ের। দুইটি ক্লাসরুমে শিফট করে পড়ানো হয় শিশু থেকে ক্লাস টু এর বাচ্চাদের। এর ভেতর একটি ক্লাসরুমের পিছনে থাকা ১২ বা সাড়ে পাচ ফিটের স্টোর রুমটি ছিল বেহাল অবস্থায়।

তাই ২০১৮ সালে পূজার আগে প্রতিবারের মতো জামাকাপড় বিতরন না করে তারা নিয়েছেন একটু ভিন্ন প্রয়াস। স্টোর রুমটির ফুটা হয়ে যাওয়া টিনের চালগুলো পরিবর্তন করে, রুমটি পরিষ্কার করে সেখানে চার তাকের একটি সেলফ, একটি প্লাস্টিকের টেবিল এবং কিছু মোড়া বসিয়ে দিব্বি ভাল লাগার একটি লাইব্রেরী বানিয়ে ফেলেন তারা। বাচ্চাদের পানি খাওয়ার সুবিধার জন্য দেওয়া হয় একটি পানির ট্যাংক এবং গ্লাস।

সেলফটিতে বাচ্চাদের জন্য সাজানো হয়েছে ছড়া, কমিক্স, ঈশপের গল্প, মীনা-রাজুর গল্প-ভূতের গল্প, সাধারণ জ্ঞান, গণিত, বাংলা আর ইংরেজি শিক্ষার প্রায় ৪২৭টি বই। এরমাঝে ৩০৩টি বই কিনা হয় প্রায় ১২হাজার টাকা দিয়ে। বাচ্চাদের জন্য দেওয়া হয় ৫০টি রঙ এর বই এবং বিভিন্ন ধরণের রঙ। বাচ্চাদের মাঝে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে দেওয়া হয় গিফটও।

“শুনতে কি পাও?” সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান জানান, সূচনালগ্ন থেকে অসম্প্রদায়িক থাকার মনোভাব নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে শুনতে কি পাও?? যারই অংশ হিসেবে ঈদের পাশাপাশি পূজার সময় হরিজন বাচ্চাদের জন্য কিছু না কিছু করার ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা থাকে সবসময়ই। ২০১৬ সাল থেকেই এই স্কুলে বাচ্চাদের পূজার নতুন কাপড় বিতরন করতেন তারা।

তিনি আরও জানান, “শেলফ এবং নানা সামগ্রী কিনতে তাদের খরচ হয় প্রায় ১০হাজার টাকা। আর পূজার এই ইভেন্ট নামানোর জন্য তাদের মোট খরচ ছিল প্রায় ৪০হাজার। যার মাঝে ১৫হাজার এসেছে আমাদের শুভাকাংক্ষীদের থেকে। এবং বাকি খরচ বহন করেছে তাদের ৬০জন সদস্যরাই”।

উল্লেখ্য, “শুনতে কি পাও?” সংগঠনের যাত্রা শুরু ২০১৩ সালে। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে থাকার প্রত্যয় নিয়েই তাদের পথচলা। রক্তদানে উৎসাহিত করা এবং ডাটাবেইজ তৈরির কাজও করছেন তারা। এখন পর্যন্ত ঢাকা মহানগরীর প্রায় ৩০০০+ ডাটাবেইজ আছে তাদের হাতে। মেডিকেল ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে ব্লাড গ্রুপিং, ডায়বেটিকস এবং রক্তচাপ পরীক্ষার সেবা প্রদান করা হয়েছে প্রায় ১০০০+ মানুষকে। প্রতিবছর আমরা প্রায় ১০০০বাচ্চার কাছে তারা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেন শিক্ষা উপকরণ। সুবিধাবঞ্চিত বাচ্চাদের পড়ালেখায় উৎসাহিত করার জন্য আয়োজন করেন চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এছাড়া প্রতিবন্ধী মানুষ ও পিছিয়ে পড়া দরিদ্র নারীদের জন্য তাদের প্রণীত সেলাই ট্রেনিং সেন্টারের আওতায় এখন পর্যন্ত ট্রেনিং পেয়েছে প্রায় ৫০জন। মোট ১৭জন শ্রবণ প্রতিবন্ধী পেয়েছে হেয়ারিং এইড আর মেডিকেল সেবা পেয়েছে প্রায় ৫০০মানুষ। কুষ্টিয়ার ‘উদয় মা ও শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র’র মা’দের জন্য তাদের কিনে দেওয়া তিনটি অটো রিকশা থেকে প্রতিমাসে মা’দের মাসিক খরচ আসছে প্রায় ২০হাজার টাকা। এছাড়া গত দুইবছর বন্যার পর বীজ এবং সার দিয়ে প্রায় ১৬০জন কৃষকের পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন তারা।

সদস্যরা জানান, সামনে জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে বান্দরবানের থানচিতে একটি বইঘর করার ইচ্ছে আছে তাদের। ‘মানবিকতার তাগিদে, মানুষের পাশে’ থাকার প্রত্যয় নিয়ে সর্বদাই সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য প্রত্যয়ী তারা।   

 

Bootstrap Image Preview