Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৫ বৃহস্পতিবার, নভেম্বার ২০১৮ | ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

সন্তানদের নিয়ে বর-বধূ সেজে রাস্তায় ঘুরে দম্পতির বিয়ে বার্ষিকী উদযাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৫ অক্টোবর ২০১৮, ১০:৪২ PM
আপডেট: ১৫ অক্টোবর ২০১৮, ১০:৪২ PM

bdmorning Image Preview


এবার ব্যতিক্রম বিয়ে বার্ষিকী উদযাপন করতে দেখা গেল এক দম্পতিকে। বিয়ে বার্ষিকী উদযাপন করতে ব্যতিক্রমী শোডাউন করেছেন রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার সারাই ইউনিয়নের ভেতরকুটি গ্রামের অটোচালক শহিদুল ইসলাম (৪৮) ও গৃহিণী আঙ্গুরা বেগম। এই উদযাপনে শুধু তারা দুইজনই ছিলেন না বরং তাদের সঙ্গে ছিলেন চার ছেলেও।

সোমবার বিকেলে ১৮ বছর আগের বিয়ের দিনের সেই বর ও বধূর সাজে সজ্জিত হয়ে এই দম্পতি ঘুরে রেরিয়েছেন হারাগাছ পৌর এলাকার বিভিন্ন সড়কে।

এ সময় অনেকে তাদের বকশিশ দিয়েছেন। এমনকি খাবার, চা-পানের পর তাদের কাছ থেকে বিলও নেননি স্থানীয় দোকানদাররা। বিয়ে বার্ষিকীর উপহার হিসেবে স্ত্রীকে একটি ভ্যানিটি ব্যাগ কিনে দিয়েছেন স্বামী শহিদুল। এরপর বিকেলে চার ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে নিজের অটোরিকশায় করে বাড়ি থেকে হারাগাছ পৌর এলাকায় আসেন শহিদুল। অটোরিকশা পার্কিং করে বিভিন্ন মার্কেট ও সড়কে ঘোরাঘুরি করেন তারা। উৎসুক মানুষ তাদের সঙ্গে কথা বলেন। জানতে চান এসবের কারণ। অনেকেই ছবিও তোলেন। এ সময় শহিদুল ইসলাম সপরিবারে একটি চায়ের দোকানে ঢুকে চা খান। তাদের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে এ সময় চায়ের বিল নেননি ওই দোকানের মালিক বাদশা আলম। খাবার এবং পান খেতে গেলেও তাদের কাছ থেকে বিল নেননি দোকানদাররা।

মান-অভিমান ছিল তবে ভালোবাসার কমিত ছিল না- জানিয়ে স্ত্রী আঙ্গুরা বেগম বলেন, স্বামীর সংসারে এসে ১৮ বছর পার করলাম। আরও যুগযুগ তার হাত ধরেই চলতে চাই। এ জন্য সবার দোয়া চাই।

এদিকে, বিবাহ বার্ষিকী উপলক্ষে তাদের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন অনেকেই। ওই এলাকার মওদুদ আহমেদ ডালিম বলেন, প্রতিনিয়ত খবরের কাগজে দেখছি যৌতুকের কারণে নির্যাতন, হত্যার খবর। সেখানে অটোচালক দম্পতির ভালোবাসা সত্যিই মুগ্ধ করার মতো।

বিবাহিত জীবনের ঝগড়া-বিবাদ, নির্যাতন, হত্যা, অশান্তি দূরে ফেলে যৌতুকমুক্ত একটি সমাজ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে শহিদুল ইসলাম বলেন, বর্তমান সমাজে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ লেগেই থাকে। অনেকেই যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে হত্যাও করছেন। সবকিছুর ঊর্ধ্বে ভালোবাসা। ভালোবাসা ছাড়া কিছু নেই। আমরা বিয়ের ১৮ বছর পার করেছি। আমাদের ভালোবাসা এখনো অটুট। অন্যরা যেন আমাদের দেখে উদ্বুদ্ধ হন সেজন্যই এই আয়োজন।

হারাগাছের মহব্বত খাঁ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোস্তফা কামাল বলেন, মানুষের ভালোবাসা যে এখনো আছে তা এদের দেখলে বোঝা যায়। সাংসারিক জীবনে আমরা সবাই যেন শহিদুলের মতো হতে পারি সে কামনা করছি।

Bootstrap Image Preview