Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৯ সোমবার, নভেম্বার ২০১৮ | ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

মীরসরাইয়ের ৮৪ মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজার প্রস্তুতি

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৪ অক্টোবর ২০১৮, ০৯:২৫ PM
আপডেট: ১৪ অক্টোবর ২০১৮, ০৯:২৫ PM

bdmorning Image Preview
সংগৃহীত


মীরসরাই প্রতিনিধি:

আকাশে সাদা মেঘের ভেলা, শুভ্র কাশফুল আর শিউলি ফুলের গন্ধে জানান দিচ্ছে শরতের আগমন। শরতে উদযাপিত হবে সনাতনি সম্প্রদায়ের সব চেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয়া দুর্গাপূজা। দুর্গোৎসবকে ঘিরে সনাতনি সম্প্রদায়ের ঘরে ঘরে আনন্দের বন্যা বইতে শুরু করেছে।

এরই মধ্যে প্রতিমা শিল্পীরা তুলির শেষ আছড়ে ও সাজপোশাকে মা-এর প্রতিমাকে দিচ্ছে পূর্ণ রূপ। প্রতিমা সাজানোকে ঘিরে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে শিল্পীরা। পূজামণ্ডপে ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে ডেকোরেটার্সলাইটিংয়ের চূড়ান্ত প্রস্তুতি।

পূজা উপলক্ষে প্রতিটি মন্দিরে বাড়তি আলোকসজ্জার আয়োজন করা হয়। এছাড়া থাকে বাড়তি নিরাপত্তা। প্রতিটি বাড়িতে তৈরি করা হয় নারিকেলের নাড়ুসহ বিভিন্ন মুখরোচক খাবার।

প্রতি বছরের মতো এবারও মীরসরাই উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভার ৮৪টি মণ্ডবে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে শারদীয়া দুর্গাপূজা উৎদযাপন করা হবে।

মীরসরাই পূজা কমিটি সূত্রে জানা গেছে, এবছর মীরসরাইয়ে ৮৪টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। ৭৯টি মণ্ডপে প্রতিমা ও ৫টি মণ্ডপে ঘট পূজা (প্রতীমাবিহীন) হবে। পূজা মণ্ডপগুলোতে ২ ভাগে ভাগ করা হয়েছে। দুটি থানার অধীনে পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

৮৪টি পূজামণ্ডপে মধ্যে ৪৬টি পূজামণ্ডপে নিরাপত্তার দায়িত্ব থাকবে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ। বাকিগুলোতে থাকবে মীরসরাই থানা পুলিশ।

দেওয়ানপুর শ্রী শ্রী রাধাকৃষ্ণ সেবাশ্রম শারদীয় পূজামণ্ডপে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত শিল্পী তাপস দে জানানইতোমধ্যে প্রতিমার মাটি ও রংয়ের কাজ শেষ হয়েছে। এরপর গহনা ও শাড়ির মাধ্যমে প্রতিমা পাবে মায়ের পূর্ণ রূপ।

রাজবাড়ী থেকে আসা প্রতিমা শিল্পী সুশান্ত পাল জানায়, প্রতিমা তৈরিতে ব্যবহৃত হয় মাটি, খড়, পাট, কাপড়, রং ইত্যাদি। ওরিয়েন্টাল ও পোশাক সাজানির মাধ্যমে দুইভাবে প্রতিমা কারিগরের প্রতিমা তৈরি করেন। সুনিপুণ হাতের কাজ প্রতিমাকে আরো বেশি উজ্জ্বল ও সুন্দর করে। তাই দুর্গাপূজা পরিচালনা পরিষদ সব সময় দক্ষ কারিগর খোঁজে থাকেন।

মীরসরাইয়ের জোরারগেঞ্জের দেওয়ানপুর গ্রামে সবচেয়ে বেশি দুটি ঘটপূজাসহ ১০টি পূজা হয়। জোরারগঞ্জ ইউনিয়ন পূজা কমিটির সভাপতি বাবুল সেন জানান১৪ অক্টোবর মহাপঞ্চমীতে দেবীর বোধনের মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের শুরু পরদিন মহাষষ্ঠী পূজা থেকে মণ্ডপে মণ্ডপে বেজে উঠবে ঢাকঢোল আর কাঁসার শব্দ। ১৯ অক্টোবর প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে সনাতনিদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় এই উৎসব। ইতোমধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

মীরসরাই পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সুভাষ সরকার ও সাধারণ সম্পাদক সজল শীল জানানএ বছর মীরসরাইয়ে ৮৪টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপনব হবে।

তবে এবার কোনো পূজামণ্ডপ ঝুঁকিপূর্ণ নয়। ইতোমধ্যে পূজা উদযাপনব পরিষদ প্রশাসন ও কমিটির সাথে কয়েকটি প্রস্তুতিমূলক সভা সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপির সাথেও পূজা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

জোরারগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইফতেখার হাসান জানান, জোরারগঞ্জ থানার অধীনে ৪৬টি পূজামণ্ডপে রয়েছে। দুর্গাপূজা উপলক্ষে ৩ স্তরের নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। পূজামণ্ডপের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মীরসরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাহিদুল কবির জানান, সনাতন ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব নির্বিঘ্নে পালন করতে সব মণ্ডপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

Bootstrap Image Preview