Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৯ বুধবার, ডিসেম্বার ২০১৮ | ৫ পৌষ ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

ছাত্রী উত্ত্যক্ত করা সংস্কৃতি, ছাত্র ন্যাড়া করা দুষ্কৃতি

আল আমিন হুসাইন
রিপোর্টার
প্রকাশিত: ০৬ অক্টোবর ২০১৮, ০৪:১২ PM
আপডেট: ০৬ অক্টোবর ২০১৮, ০৪:৩২ PM

bdmorning Image Preview
উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় পাঁচ ছাত্রকে ন্যাড়া করা হয়। ছবি: সংগৃহীত।


Don't ask your daughters not to go out, Ask your sons not to tease them. এটির অর্থ করলে দাড়ায়-আপনি আপনার কন্যা সন্তানকে বাইরে যেতে নিষেধ করবেন না বরং আপনি আপনার ছেলে সন্তানদের মেয়েদেরকে উত্ত্যক্ত করতে নিষেধ করবেন দেশে ইভটিজিং রোধে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিটি ছেলে-মেয়ের জন্য এমন শিক্ষা দেয়ার জন্য সবাইকে উদ্বুদ্ধ করা হয় ইভটিজিং রোধে সবাইকে প্রতিবাদী হওয়ার জন্য প্রতিষ্ঠানিক শিক্ষা বড় ভূমিকা রাখতে পারে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে একজন শিক্ষক যেমন তার ছাত্রীদেরকে সাহসের সাথে ইভটিজিং এর প্রতিবাদ উৎসাহ দিতে পারেন, তেমনি একজন ছাত্রকে তার মেয়ে সহপাঠি, ছোট বোন বা অন্য কোন মেয়েকে রাস্তা-ঘাটে উত্ত্যক্ত করা হলে  তার প্রতিরোধ করতেও উৎসাহ দিতে পারেন

ইভটিজিং প্রতিরোধে শিক্ষক, পরিবার থেকে শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ছেলে-মেয়েদের যখন এমন শিক্ষা দিচ্ছেন তখন উল্টো কাজ করে দেখালেন ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ঢোলারহাট ইউনিয়নের ব্যারিস্টার জমির উদ্দীন সরকার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শিক্ষক আব্দুল জব্বার

সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, গত রবিবার ভেলারহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির পাঁচ ছাত্র প্রাইভেট পড়া শেষ করে বাড়িতে ফিরছিল তাদের ফেরার পথে ব্যারিস্টার জমির উদ্দীন সরকার উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির এক ছাত্রীকে পথরোধ করে ইভটিজিং করছিল রুহিয়া পশ্চিম ইউনিয়নের মোন্নাপাড়া গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে লিটন (১৫) ওই ছাত্রীকে ইভটিজিং করা দেখে পাঁচ ছাত্রের প্রতিবাদের মুখে লিটন ওইখান থেকে চলে যায়

এরপর ওই ছাত্রী ইভটিজিং এর ঘটনাটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল জব্বারকে জানানপরদিন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল জব্বার ওই পাঁচ শিক্ষার্থীকে ডেকে বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে স্থানীয় প্রভাবশালীদের উপস্থিতিতে আগের দিনের ঘটনার সালিশ বিচার শুরু করেন সালিশে পাঁচজন ছাত্র ঘটনার বর্ণনা দেয় নিজেদের নিরপরাধ দাবি করলেও প্রধান শিক্ষকসহ অন্যরা তা মানেনি

সালিশের এক পর্যায়ে প্রধান শিক্ষক আব্দুল জব্বার ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের মারপিট করেন এবং স্থানীয় এক নরসুন্দরকে (নাপিত) বিদ্যালয়ে ডেকে এনে সবার উপস্থিতিতেই পাঁচ ছাত্রকে ন্যাড়া করার আদেশ দেন পরে সকলের উপস্থিতিতেই পাঁচজন ছাত্রের মস্তকমুণ্ডন করা হয়

এই ঘটনায় ভেলারহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের ভুক্তভোগী এক ছাত্র কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলে, ‘আমরা নিরপরাধ দাবি করে প্রধান শিক্ষক আব্দুল জব্বারসহ অন্যদের হাত-পা ধরে কান্নাকাটি করলেও তারা শোনেননি ঘটনার পর এলাকার মানুষ আমাদের নিয়ে নানা ধরনের কথা বলছে, এমনকি বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষার্থীরাও আমাদের নিয়ে কটুক্তি করছে এখন লজ্জায় মানুষকে মুখ দেখাতে পারছি না আত্মহত্যা করা ছাড়া উপায় নেই

দেশে যখন স্কুল-কলেজে যাওয়ার পথে, ঘর থেকে বের হলেই মেয়েদেরকে উত্ত্যক্ত করা এক ধরনের সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। যখন ইভটিজিং প্রতিরোধ করে এই শিক্ষার্থীদের বাহ বাহ পাওয়ার কথা ছিল তখন একজন প্রধান শিক্ষক হয়ে উল্টো ইভটিজিংকে প্রশ্রয় দিয়ে প্রতিরোধ করা শিক্ষার্থীদেরকে ন্যাড়া করে দিয়ে একজন দুষ্কৃতিকারী এবং ইভটিজিং এর উৎসাহীদাতা হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করলেন যা শিক্ষক সমাজ, শিক্ষার্থীদের জন্য অবমাননাকর

অন্যদিকে, যে ছাত্রীকে উত্যক্ত করা নিয়ে এত কিছু সেই ছাত্রীর কোন কথাই সালিশ বিচারে শোনা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে ছাত্রী বলেছে লিটন তার পথরোধ করে ইভটিজিং করে এসময় ওই পাঁচ ছাত্র এর প্রতিবাদ করে সালিশ বৈঠকে লিটনের বিচার না করে নিরপরাধ পাঁচজন ছাত্রকে ন্যাড়া করে দেয়া হয় আর উত্ত্যক্তকারী লিটনকে অসুস্থ বলে ছেড়ে দেওয়া হয় ওই ছাত্রী ইভটিজিং করা লিটনের শাস্তি দাবি করেছে এমনকি, ছাত্রীর মাও একই অভিযোগ করে বলেছেন, ‘ইভটিজিং করেছে লিটন, শাস্তি দেয়া হয়েছে নিরপরাধ ছাত্রদের

একজন প্রধান শিক্ষক একটি স্কুলের অভিভাবক সকল কিছুর ন্যায় বিচারের জন্য তার কাছেই অভিযোগ করে শিক্ষার্থীরা। তিনিই অন্যায় হলে প্রতিবাদ করবেন, শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ করতে উৎসাহ দিবেন এটাই হওয়ার কথা ছিল কিন্তু শিক্ষকসুলভ আচরণ না করে দুষ্কৃতির আশ্রয় নিয়েছেন তিনি

ওই শিক্ষক ন্যায় বিচার না করে প্রতিশোধ নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ওই পাঁচ ছাত্রের স্কুল ভেলারহাট উচ্চবিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি রুকশেদুল হক চৌধুরিতিনি জানিয়েছেন, কয়েকদিন আগে ব্যারিস্টার জমির উদ্দীন সরকার উচ্চ বিদ্যালয়ের দুই ছাত্র ভেলারহাট উচ্চবিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করায় প্রধান শিক্ষককে আবদুল জব্বারকে ডেকে তার সামনেই উত্ত্যক্তকারী দুই ছাত্রকে শাস্তি দেয়া হয় এই ঘটনার জেরেই প্রতিশোধ নিতে ওই পাঁচ ছাত্রকে ন্যাড়া করে দেওয়া হয়েছে

এই অভিযোগ সত্য হলে সেটা হবে আরও বেশি দুষ্কর্ম সমাজে যেখানে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করার, প্রতিহিংসা পরায়ণ না হওয়ার জন্য শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দিবেন সেখানে একজন প্রধান শিক্ষক ইভটিজিং এর মতো অন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে

এমন দুষ্কমের বিচার চেয়ে মামলা করেছেন অন্যায় বিচার পাওয়া এক শিক্ষার্থীর বাবা সেই মামলায় অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষককে গ্রেফতার করা হয়েছে

বাংলাদেশে ইভটিজিং যেন এক সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে৷ দিনে দিনে ইভটিজারারা হয়ে উঠছে বেপরোয়া৷ রাস্তায় একা কোন মেয়ে দেখলেই তাকে ইভটিজিং করা এখন সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে গ্রাম অঞ্চলে এই অবস্থা আরও ভয়াবহ এক সময় গ্রামের অনেক বাবা-মা মেয়েদের ইভটিজিং থেকে রোধ করতে স্কুল-কলেজে যাওয়া বন্ধ করে দিতেন। যদিও সেই সংখ্যাটা কমে এসেছে অনেক। তবে এমন ঘটনা এখনও অহরহ ঘটছে।

দেশে যখন নারী শিক্ষার জন্য সরকার উদ্যোগ নিচ্ছে  তখনও গ্রাম কী শহর ছাত্রীদের স্কুল কলেজে যাওয়ার পথে প্রতিনিয়ত বখাটের উত্ত্যক্তের শিকার হতে হচ্ছেগ্রামাঞ্চলে হতদরিদ্র পরিবারের কোন বাবা-মা তার কন্যা সন্তানকে নিয়ে হয়তো এক সময় অনেক বড় স্বপ্ন দেখতেন স্বপ্ন দেখতেন মেয়েকে পড়াশোনা শিখিয়ে এক সময় অনেক বড় করবেন কিন্তু স্কুল কলেজে যাওয়ার পথে হয়তো প্রতিনিয়ত ইভটিজিং এর শিকার হচ্ছেন

উত্ত্যক্তকারীরা প্রভাবশালী হওয়ায় অনেক সময় তাদের বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয় নিতে পারে না আবার গ্রাম্য সালিশে অনেক সময় প্রভাবশালী হওয়ায় ইভটিজিং করার জন্য দায়ী করা হয় ওই মেয়েকে গ্রাম্য সালিশে অধিকাংশ সময় বিচার যায় মেয়ের বিপক্ষে এসব কারণেও  অভিভাবকরা হয়তো গ্রাম্য সালিশে বিচার দেয় না

বরং সময় সুযোগ বুঝে, গ্রাম্য মাতব্বর ধরে লুকিয়ে নিজের মেয়েকে বাল্যবিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন নিজের বয়স্ক মেয়েকে এখন দূরের স্কুল কলেজে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন অভিভাবকরা এসব কারণে গ্রামের মেয়েদের এখন স্কুল-কলেজ পর্যন্ত পার করলেও উচ্চ শিক্ষার আগেই বিয়ে দিয়ে দিচ্ছেন পরিবার অনেক সময় সেটা স্কুলের গণ্ডি পেরোনোর আগেই বিয়ের পিড়িতে বসতে বাধ্য হচ্ছে শুধু উত্ত্যক্ত হওয়া বাঁচতে

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ গত বছরের নারী কন্যা শিশু নির্যাতনের যে পরিসংখ্যান দিয়েছে তাতে দেখা যায়, গত বছর সারাদেশে উত্ত্যক্ত করার ঘটনা ঘটেছে ২৩০টি আর উত্ত্যক্তের শিকার হয়ে আত্মহত্যা করেছে ৩৪ জন তরুণী বাল্যবিয়ে দেয়া হয়েছে ১৯৭টি আর বাল্য বিয়ের চেষ্টা করা হয়েছে ২৪৭টি মহিলা পরিষদ মূলত ১৪টি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য সংগ্রহ করে সেই হিসাবে এই সংখ্যাটা যে আরও বেশি সেটা সহজে অনুমেয়

সারাদেশে প্রতিদিন কত ছাত্রী উত্ত্যক্ত করার ঘটনা ঘটছে সেটা সব সংবাদপত্রে আসে না অনেক অভিভাবক মেয়ে উত্ত্যক্ত হচ্ছে জেনেও সামাজিক মর্যাদার কথা ভেবে অভিযোগও করেন না ফলে সেটা জানার সুযোগ হয় না একই সাথে এসব অভিভাবকরা সামাজিক মর্যাদার কথা ভেবেই বাল্যবিয়ে দিয়ে দেন গ্রাম এলাকায় এমন ঘটনা অহরহ ঘটে যেটা মহিলা পরিষদের পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়। এছাড়া বিভিন্ন সময় পরিবারের সদস্যরাও মেয়েদের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কার কথা জানিয়ে থাকে। মেয়ের নিরাপত্তার কথা ভেবেই উত্ত্যক্ত হওয়া থেকে রক্ষা পেতে বাল্যবিয়ে দিয়ে দিচ্ছেন তারা

তবে ইভিটিজিং কেবল স্কুল কলেজগামী ছাত্রীদের সাথেই করায় হয় না বরং এর পরিব্যপ্তি সমাজের সর্বস্তরে কর্মক্ষেত্রে নারী ইভটিজিং এর শিকার হন অফিসের বস, সহকর্মীদের দ্বারাও প্রতিনিয়ত ইভটিজিং এর শিকার হচ্ছেন নারীরা হয়তো চাকরি হারানোর ভয়ে, সামাজিক মর্যাদার কথা চিন্তা করেই এসব চাকরিজীবীরা নারীরা মুখ খুলেন না এতে করে এসব নারীদের কর্মস্পৃহা হারিয়ে যায়, হতাশ হয়ে তাদের মনোসংযোগে ঘাটতি দেখা দেয় মানসিক শারীরিকভাবে ভেঙে পড়ে এক সময় তাদের প্রডাক্টিভিটি কমে যায়৷

বর্তমানে নারীদের উত্ত্যক্ত করার অন্য একটি বড়মাধ্যম স্যোশাল মিডিয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত-অপরিচিত আইডি থেকে নারীদেরকে উত্ত্যক্ত করার ঘটনা ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পেয়েছেনারীরা ইভটিজিং এর শিকার হচ্ছে গণপরিবহনেও

তবে শুধু ইভটিজিং করেই ক্ষান্ত হয় না এসব উত্ত্যক্তকারীরা উত্ত্যক্ত করা থেকে শুরু করে এক সময় সেটা হত্যা, ধর্ষণের পর্যায়ে পৌঁছে যায় ২০১৬ সালে ইভটিজারের হাতে হত্যার শিকার হওয়া ঢাকার উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী সুরাইয়া আক্তার রিশা তার প্রমাণ এছাড়া প্রতিদিন ইভটিজিং এর শিকার হয়ে অনেক মেয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছেন এমন খবর পাওয়া যায়

ইভটিজিং প্রতিরোধে বাংলাদেশে আইনের শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে দণ্ডবিধির আইনের ২৯৪ ধারায় বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি অন্যদের বিরক্তি সৃষ্টি করে, কোনো প্রকাশ্য স্থানের কাছাকাছি কোনো অশ্লীল কাজ করে অথবা কোনো প্রকাশ্য স্থানে কোনো অশ্লীল গান, গাথা সংগীত বা পদাবলি গায়, আবৃত্তি করে বা উচ্চারণ করে; সেই ব্যক্তি তিন মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ডে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হবে

দণ্ডবিধির ৫০৯ ধারায় বিষয়ে স্পষ্ট বিধান আছে ধারায় বলা আছে, যদি কেউ কোনো নারীর শ্লীলতাহানির উদ্দেশ্যে কথা, অঙ্গভঙ্গি বা কোনো কাজ করে, তাহলে দায়ী ব্যক্তিকে এক বছর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের সাজা বা অর্থদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে হবে

এছাড়া ২০০৯ সালের নারীর প্রতি নিপীড়ন বিষয়ে হাইকোর্টে একটি পূর্ণাঙ্গ রায় দেন এতে বলা ছিল, প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকুরিক্ষেত্রে নারীদের হয়রানির অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য আলাদা সেল খোলা হবে৷ তবে এর প্রয়োগ এবং সর্ম্পকে কমই জানে সাধারণ মানুষ

তবে এত কিছুর পরও ইভ টিজিং কমছে না জন্য ব্যাপকভাবে আইনের প্রয়োগ করতে হবে প্রতিরোধে আইন আরো কঠোর হওয়া প্রয়োজন৷ আর প্রয়োজন ব্যাপক সামাজিক সচেতনতা৷ ইভটিজিং প্রতিরোধে সামাজিক, পারিবারিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দায়বদ্ধতা রয়েছে পাঠ্যপুস্তকে, গণমাধ্যমে, মসজিদে, খেলার মাঠে, ঘরে বাবা-মায়েদের মধ্যে ইভটিজিং বিষয়ে আলোচনা হতে হবে

কাজী নজরুল ইসলাম বলেছেন, আমরা যদি না জাগি মা কেমনে সকাল হবে? তোমার ছেলে উঠলে গো মা রাত পোহাবে তবে!' ইভটিজিং এর মতো সামাজিক ব্যাধি মোকাবেলায় কেবলমাত্র আইন করে, ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে এটি কমানো সম্ভব আমাদের প্রত্যেককে উচিত নারীদেরকে সম্মানের চোখে দেখাপরিবারের দায়িত্ব হলো নিজেদের ছেলে-মেয়েদেরকে ইভটিজিং বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করাএই ক্ষেত্রে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব অনেক

ছাত্রীদেরকে ইভটিজিং এর বিরুদ্ধে সরব হতে উৎসাহিত করবেন শিক্ষকরা ছাত্রদেরকে সহপাঠী, বোন বা অন্য কাউকে ইভটিজিং এর শিকার হলে তার প্রতিরোধ, প্রতিবাদ করার উৎসাহ দিতে হবে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করার কারণে শিক্ষার্থীদের ন্যাড়া করে দেওয়ার মতো ঘটনা কখনও ইভটিজিং কমাবে না বরং এটা ইভটিজারদের যেমন উৎসাহিত করবে তেমনি শিক্ষার্থীরাও প্রতিবাদ করার সাহস হারিয়ে ফেলবে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি কখনই কাম্য নয়

Bootstrap Image Preview