Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৫ শনিবার, ডিসেম্বার ২০১৮ | ১ পৌষ ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

ইপিএসকর্মীরা বাংলাদেশের সম্মানিত প্রতিনিধি: রাষ্ট্রদূত

ফারুক আহমাদ আরিফ
হেড অফ নিউজ
প্রকাশিত: ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৫:০০ PM
আপডেট: ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৫:০০ PM

bdmorning Image Preview
মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখছেন দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আবিদা ইসলাম


কূটনৈতিক প্রতিবেদক

ইপিএসকর্মীদের বাংলাদেশের এক একজন সম্মানিত প্রতিনিধি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন দক্ষিণ কোরিয়ায় দায়িত্বরত রাষ্ট্রদূত আবিদা ইসলাম।

আজ ২২ সেপ্টেম্বর দূতাবাস ইপিএসকর্মীদের সাথে মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মরত ইপিএসকর্মীদের সার্বিক কল্যাণ ও তাদের সমস্যাদি নিয়ে আলোচনার লক্ষ্যে বাংলাদেশ দূতাবাসে  ত্রৈমাসিকভিত্তিক মতবিনিময় সভার আয়োজন করে। আজকের আয়োজনটি ছিল এ বছরে দ্বিতীয়বার।

রাষ্ট্রদূত আবিদা ইসলামের সভাপতিতে অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় সভায় প্রায় ১২০ জনের মত বাংলাদেশী ইপিএসকর্মী অংশগ্রহণ করেন।

রাষ্ট্রদূত তাঁর সূচনা বক্তব্যে বাংলাদেশের উন্নয়নে প্রবাসীদের বিশেষ করে কোরিয়ায় কর্মরত ইপিএসকর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

সভায় তিনি প্রবাসী ইপিএসকর্মী ও তাদের পরিবারের আর্থ-সামাজিক কল্যাণে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেন।

তিনি এদেশে কর্মরত ইপিএসকর্মীদের বাংলাদেশের এক একজন সম্মানিত প্রতিনিধি হিসেবে আখ্যায়িত করে তাদের আচার-আচরণ ও কর্মস্থলে যথাযথ দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে কোরিয়ান মালিক পক্ষের নিকট বাংলাদেশ সম্পর্কে একটি ইতিবাচক উন্নত ধারণা তৈরির প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানান।

একই সভায় তিনি বৈধ পথে দেশে রেমিট্যান্স প্রেরণ করে দেশ ও জাতির কল্যাণে ইতিবাচক ভূমিকা পালনের অনুরোধ করেন।

তিনি উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশি প্রবাসীকর্মীদের নিষ্ঠা এবং উন্নত আচরণ এখানকার মালিকদেরকে বাংলাদেশ থেকে আরো শ্রমিক আনায়নের ব্যাপারে উৎসাহিত করবে।

তিনি যেকোন প্রয়োজনে শ্রমিকদের জন্য দূতাবাস পাশে আছে বলে উল্লেখ করে দূতাবাসের সেবা গ্রহণের অনুরোধ জানান।

মতবিনিময় সভায় প্রথম সচিব (শ্রম) শ্রমিকদের কল্যাণে চলমান কার্যক্রম এবং ভবিষ্যতে আরো অধিকতর কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য করণীয় বিভিন্ন বিষয় পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে উপস্থাপন করেন।

পরবর্তীতে উম্মুক্ত আলোচনা পর্বে ইপিএস ডাটা বেইজ তৈরি, বৈধ পন্থায় রেমিট্যান্স প্রেরণ, বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে কারিগরী প্রশিক্ষণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন অনলাইন শিক্ষা কোর্স চালু করণ, ওয়েল ফেয়ার ফান্ড গঠন, স্বাস্থ্য বীমাসহ বিভিন্ন ধরণের বীমা পদ্ধতি চালু করণ, ইপিএসকর্মীদের কাজের যোগ্যতার ভিত্তিতে উদ্যোক্তা তৈরির জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কোর্স চালু করাসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ে দূতাবাসের পক্ষ থেকে তাদের মতামত জানতে চাওয়া হয় এবং সেই সাথে এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য তাদের সহযোগিতা কামনা করা হয়।

উপস্থিত ইপিএসকর্মীরা এতদসংক্রান্ত বিষয়ে তাদের মতামতসহ বিভিন্ন সুপারিশ উপস্থাপন করেন।

রাষ্ট্রদূত উপস্থিত সকলের মতামত অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনাপূর্বক প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস প্রদান করেন।

উপস্থিত ইপিএসকর্মীরা দূতাবাসের চলমান কল্যাণধর্মী কার্যক্রমের প্রশংসা করে ভবিষ্যতে তাদের নিজ নিজ দায়িত্ব আরো সুচারুরূপে পালন করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সেই সাথে ইপিএসকর্মীদের কল্যাণে এধরণের মতবিনিময় সভা এদেশে তাদের কর্তব্য পালন ও বাংলাদেশের কল্যাণে অধিকতর ভূমিকা রাখতে উৎসাহ যোগাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

উন্মুক্ত আলোচনার পরে ইপিএসকর্মীদের অংশগ্রহণে একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়; যা উপস্থিত সকলে আনন্দের সাথে উপভোগ করেন।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে বাংলাদেশী ঐতিহ্যবাহী  খাবার দিয়ে উপস্থিত সকলকে আপ্যায়ন করা হয়।

Bootstrap Image Preview