Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৯ বুধবার, ডিসেম্বার ২০১৮ | ৫ পৌষ ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটের আলোকে পূর্ণাঙ্গ সমীক্ষা করতে ‘ব্যর্থ’ বিশ্বব্যাংক

নুসরাত জেরিন নিশু
প্রকাশিত: ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৪:৫৪ PM
আপডেট: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৪:০৯ PM

bdmorning Image Preview
সংগৃহীত


সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ পরিবেশ সমীক্ষা ২০১৮। যেখানে পরিবেশ দূষণের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে শহর দূষণকে কিন্তু বাদ পরে গিয়েছে খাদ্য দূষণ, শব্দ দূষণ, ভূমি দূষণ এবং ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক দূষণের মত আরও অনেক বিষয়। সে কারনেই, বাংলাদেশের পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা সমীক্ষাটিকে বলছেন আংশিক এবং অপূর্ণাঙ্গ।

গত ১৬ সেপ্টেম্বর রবিবার বাংলাদেশ পরিবেশ সমীক্ষা ২০১৮ প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিস। যেখানে সমীক্ষার প্রধান সূচক নড়ছিল কেবল শহর দূষণ তথা শহরের বাতাসে ক্ষুদ্রকণা, ঘরের ভিতরের বায়ুদূষণের মাত্রা, পানিদূষণ, স্যানিটেশন ও কর্মক্ষেত্রে দূষণ প্রভৃতি বিষয়ের উপর কেন্দ্র করে। অথচ উল্লেখ নেই খাদ্য, শব্দ, ভূমি নদী,বন-জঙ্গল এবং ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক দূষণের মত অন্যান্য ক্ষতিকর দূষণগুলোর।

পরিবেশ দূষণের এই উল্টো চিত্রকে সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে গিয়েছে বিশ্বব্যাংক। এদিকে গ্রামাঞ্চলে এই সকল দূষণের কারণে জৈব খাদ্যচক্র, প্রাণ-প্রকৃতির সমন্বয়ে গড়ে ওঠা বাস্তুসংস্থান তন্ত্রে বা ইকোসিস্টেমে যে পরিবর্তন হচ্ছে তাতে বার্ড ফ্লু, সোয়াইন ফ্লু, ম্যাডকাউ, নিপা ভাইরাসের মত নতুন নতুন রোগ ও মহামারীর পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে।

এমতাবস্থায় আজ শুক্রবার সকাল ১১ টায় দেশ বরেণ্য বিশেষজ্ঞদের নিয়ে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন(পবা) এর নিজস্ব কার্যালয়ে “বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ পরিবেশ সমীক্ষা এবং আমাদের করনীয়” শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানটির সভাপতি এবং পবার চেয়ারম্যান আবু নাসের খান বলেন, বিশ্বব্যাংকের সমীক্ষাটিতে বাংলাদেশের জনজীবন, অর্থনীতি ও পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতির পরিসংখ্যান উঠে এসেছে যেগুলো নিয়ে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা)সহ বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠন এবং মিডিয়াগুলো দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে কিন্তু আমাদের কথা নেওয়া হয়নি আমলে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে পরিবেশ দূষণের অন্যতম প্রধান কারণ ইট ভাটার দূষণ। এখনো অনেক ইটভাটা পুরনো মডেলের, অননুমোদিত, নিম্ন প্রযুক্তির এবং তারা জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করছে কাঠ, টায়ার, প্লাস্টিক ও নিম্নমানের কয়লা। আমাদের মাথায় রাখতে হবে, উন্নয়ন শুধুমাত্র জিডিপির প্রবৃদ্ধির অংকে নয় পরিবেশসম্মত উন্নয়নে গুরুত্ব দিতে হবে।

বৈঠকটিতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পবা’র যুগ্ম সম্পাদক ড. লেলিন চৌধুরি। এছাড়াও অন্যান্যদের ভেতর বক্তব্য রাখেন পবার সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মোঃ আব্দুস সোবহান, পবার সম্পাদক এম এ ওয়াহেদ, সহসম্পাদক ব্যারিস্টার নিশাত মাহমুদ, স্ট্যামফোর্ড© বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান মজুমদার, নাসফ এর সাধারণ সম্পাদক মোঃ তৈয়ব আলী, সহ-সম্পাদক অলিভা পারভিন, বানিপা’র সভাপতি প্রকৌশলী মোঃ আনোয়ার হোসেন, সিটিজেন রাইটস মুভমেন্ট এর মহাসচিব তুষার রেহমান প্রমুখ।পরিশেষে তারা ১১ টি পরিবেশ নীতি সুপারিশ হিসেবে পেশ করেন।

তবে, সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আলোচকরা বলেন, সম্পূর্ণ ভাবে বিশ্বব্যাংকের সমীক্ষাটিকে বয়কট বা বাতিল করতে চান না তারা তবে সমীক্ষাটির কার্যোপযোগী হতে হলে প্রয়োজন এটির সংশোধন যেখানে উল্লেখ থাকবে পরিবেশ দূষণের নানা মাত্রিক চিত্র। তবেই পূর্ণাঙ্গ রুপে গ্রহণযোগ্য হবে সমীক্ষাটি।

পরবর্তীতে এ বিষয়ে জানতে চাইলে পবার সম্পাদক সম্পাদক এম এ ওয়াহেদ বিডিমর্নিং-কে জানান, পবা কেবল মাত্র একটি আন্দোলন। একটি পূর্ণাঙ্গ সমীক্ষা করতে যে ধরনের আর্থিক সহায়তা দরকার তা তাদের নেই কিন্তু তারপরও কিছু গুনগত সমীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে তারা। তবে মানগত সমীক্ষাগুলোর কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বব্যাংক এর মত প্রতিষ্ঠানগুলোই। সেক্ষেত্রে ভবিষ্যতে এই ধরনের আংশিক তথ্যের কারনে পিছিয়ে পড়তে পারে অনেক সামাজিক কার্যক্রম।

Bootstrap Image Preview