Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৯ শুক্রবার, অক্টোবার ২০১৮ | ৪ কার্তিক ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

প্রেমিকের সঙ্গে ছাত্রীর ‘অন্তরঙ্গ’ ছবি হবু স্বামীর ফেসবুক ইনবক্সে, অতঃপর...

বিডিমর্নিং : এস এম রানা
প্রকাশিত: ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৩:৩২ PM
আপডেট: ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৩:৩২ PM

bdmorning Image Preview
সংগৃহীত


পাত্রী পছন্দ হল পাত্রের। তাই দুপক্ষের সিদ্ধান্তে বিয়ের সব আয়োজন প্রায় সম্পন্ন। দুই পরিবারে চলছিল বিয়ের জোর প্রস্তুতি। এরই মধ্যে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া কনের ‘অন্তরঙ্গ’ ছবি পৌঁছে গেল হবু স্বামীর ফেসবুক ইনবক্সে। এক পর্যায়ে এসব স্পর্শকাতর ছবির কারণেই ভেঙে গেল বিয়ের আয়োজন। উভয় পরিবারের কাছেই অসম্মানের হয়ে গেলেন ওই মেয়ে।

এমন ঘটনার শিকার হয়েছেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী জান্নাত ফেরদৌস (ছদ্মনাম)। এখন তিনি আর বিশ্ববিদ্যালয়ে যান না। কঠিন সময় পার করছেন বাসায় বসে। অথচ কয়েকদিন আগেও জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে তাঁর বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কয়েকটি ছবির কারণে বিয়ে তো ভাঙলই, সেই সঙ্গে গেল ব্যক্তিগত ও পারিবারিক মানসম্মান।

জান্নাত ফেরদৌস চট্টগ্রামের একজন স্বনামধন্য চিকিৎসকের শ্যালিকা। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ই প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে আদিল মাহমুদের (ছদ্মনাম) সঙ্গে। সহপাঠী আদিলের সঙ্গে প্রেম চলত মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে।

রাতে দুজনই মেসেঞ্জারে চ্যাটিং করতেন। কখনো কখনো চলত ভিডিও চ্যাটিং। সমস্যা বাঁধে সেখানেই। খোলামেলা চ্যাটিংয়ের কিছু দৃশ্য ধারণ করে রাখেন প্রেমিক ও সহপাঠী আদিল মাহমুদ। এছাড়া দুজনের শারীরিক সম্পর্কের একাধিক ছবি ছিল আদিলের মোবাইল ফোনে। ওই ছবিই কাল হয়ে দাঁড়ায় জান্নাত ফেরদৌসের জীবনে।

জান্নাতের বিয়ে ভেঙে যাওয়া এবং ছবির বিষয়ে অনুসন্ধান করে নগরের স্বনামধন্য ওই চিকিৎসক জানতে পারেন তাঁর শ্যালিকার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠী আদিল মাহমুদের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। দুজন শারীরিক সম্পর্কেও জড়িয়েছিলেন। তাঁরা ঘনিষ্ঠ সময়ের ছবিগুলো ধারণ করে মোবাইল ফোনে রেখেছিলেন। এসব বিষয়ে জানার পর গোয়েন্দা কার্যালয়ে গিয়ে অভিযোগ দেন চিকিৎসক দুলাভাই।

নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার (বন্দর) মোহাম্মদ শহীদুল্লাহর নির্দেশে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা আদিল মাহমুদকে ধরতে অভিযান শুরু করেন। অভিযানের একপর্যায়ে সন্দ্বীপ থেকে আদিল মাহমুদকে ধরে গোয়েন্দা কার্যালয়ে আনা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে আদিল মাহমুদ তাঁর প্রেমিকার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার তথ্য স্বীকার করেন। আদিল গোয়েন্দাদের প্রশ্নের জবাবে জানিয়েছেন, জান্নাত ফেরদৌস তাঁর সহপাঠী। তাঁদের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক। এরই মধ্যে জান্নাত ফেরদৌসের পরিবার অন্যত্র বিয়ে ঠিক করে। জান্নাতের সঙ্গে কথা বলে বিয়ে না করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন আদিল। কিন্তু জান্নাত নিজের বিয়ে ঠেকিয়ে রাখতে পারেননি। এই কারণে বিয়ে ভেঙে দিতে আদিল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আশ্রয় নেন।

আদিল মাহমুদ মনে করেন, নিজেদের অন্তরঙ্গ ছবি প্রকাশ করলে কেউ জান্নাতকে বিয়ে করবে না। 

ঘটনার বিষয়ে নগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার (বন্দর) আসিফ মহিউদ্দীন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘জান্নাত ফেরদৌস ও আদিল মাহমুদের সম্পর্কের তোলা অন্তরঙ্গ ছবি দিয়ে ব্ল্যাকমেইলিং করেন আদিল। তিনিই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জান্নাত ফেরদৌসের ছবি ছড়িয়ে দিয়েছেন।’

তিনি জানান, মেয়ের পরিবারের সদস্যরা সামাজিক মর্যাদার কথা বিবেচনা করে আদিলের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করতে রাজি হননি। তাই আদিলকে ছেড়ে দিতে হয়েছে। তবে ছাড়ার আগে আদিলের মোবাইল ফোনসহ অন্যান্য ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস থেকে অন্তরঙ্গ ছবিগুলো মুছে দেওয়া হয়েছে। যদি পুনরায় জান্নাতের সঙ্গে যোগাযোগ করে বা অন্য কোনো ভাবে ছবিগুলো ব্যবহার করে তবে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হবে।

তাঁর মতে, ‘ছাত্রজীবনে অনেকে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। কিন্তু শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন এবং বিশেষ মুহূর্তের ছবি ধারণ করা চরম ভুল। এই ধরনের ভুলের মাসুল পরবর্তীতে সারাজীবন দিতে হয়। তাই প্রত্যেকের উচিত, সময় থাকতেই সচেতন হওয়া। কখনো কখনো প্রেমিকরাও বিক্ষুব্ধ হয়ে ঘাতকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে পারে।’

Bootstrap Image Preview