Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৫ শনিবার, ডিসেম্বার ২০১৮ | ১ পৌষ ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

রক্তমাখা মেঝেতে নূপুর ও রাজহাঁসের বুকের মাংস পাওয়া গেলেও নেই মরিয়ম

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৫:০৫ PM
আপডেট: ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৫:০৫ PM

bdmorning Image Preview
সংগৃহীত


কুয়াকাটায় ৯ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী মরিয়ম আক্তারের (১৫) শয়নকক্ষের মেঝের রক্ত, পায়ের নূপুর, দুই টুকরো মাংস, রক্তমাখা দুটি ছুরি এবং একটি জবাই করা রাজহাঁস উদ্ধার করে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছে পুলিশ।

মরিয়ম আক্তারের মা নুরজাহান (৪০), বড় বোন রেশমা (১৯) এবং তার স্বামী মাঈনুল ইসলামকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ বৃহস্পতিবার মহিপুর থানায় নিয়ে যায়। রাতভর তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এরপর মা নুরজাহান বেগম বাদি হয়ে অজ্ঞাত আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে মহিপুর থানায়। মরিয়মের বাসায় বুধবার থেকে পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে।

মহিপুর থানার কুয়াকাটা খানাবাদ কলেজ সংলগ্ন মৃত বাবুল মল্লিকের বাড়িতে বুধবার ভোররাতে মরিয়ম আক্তারের (১৫) শোবারঘরের মেঝেতে রক্ত, পায়ের নূপুর, দুই টুকরো মাংস, রক্তমাখা দু’টি ছুরি পরিত্যাক্ত অবস্থায় পেলেও মরিয়মকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এ ঘটনার পর বুধবার ভোরে মহিপুর থানা পুলিশ, পটুয়াখালী জেলা পুলিশ, সিআইডি, র্যা বসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন পদ্ধতিতে পর্যবেক্ষণ এবং তদন্ত শুরু করেন।

এব্যাপারে মহিপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক (তদন্ত) মাহবুবুর রহমান বলেন, মরিয়ম আক্তারের কোন সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি। তবে তার ঘর থেকে রক্ত, ছুরি, নূপুর এবং একটি জবেহ করা রাজহাঁসসহ অন্যান্য আলামত উদ্ধার করে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর নিশ্চিত হয়েই আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করব।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার রাতের খাবার খেয়ে মৃত বাবুল মল্লিকের স্ত্রী নুরজাহান (৪০) তার শিশুপুত্র হামিম (৩) এবং কন্যা মহিপুর হাই স্কুলের ৯ম শ্রেণির ছাত্রী মরিয়ম (১৫) একখাটে ঘুমায়। ওই ঘরের দোতলায় নুরজাহানের বড় মেয়ে রেশমা (১৯) তার স্বামী মাঈনুল ইসলামকে নিয়ে ঘুমিয়ে ছিল। রাত তিনটার দিকে রেশমা প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘর থেকে বাইরে নেমে আবার ঘরে ওঠার সময়ও বোন মরিয়মের সাথে কথা বলে ঘুমাতে যায়। এরপর ভোরে মরিয়মকে না পাওয়া এবং ঘরের বিভিন্ন জায়গা রক্ত দেখে মা নুরজাহান বেগমের ডাকচিৎকারে ঘরের সবার ঘুম ভেঙ্গে যায়।

এব্যাপারে লতাচাপলী ইউপি চেয়ারম্যান আনসার মোল্লা জানান, এখন পর্যন্ত মরিয়ম আক্তারের কোন সন্ধান পায়া যায়নি। তবে একটি রাজহাঁস জবাই করা অবস্থায় রহিম জোমাদ্দারের একটি ঘাসের জালাশায় থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। শিক্ষার্থী নিখোঁজ এবং জবাই করা রাজহাঁসের বুক থেকে খুঁচিয়ে মাংস নেওয়া ও অন্যান্য আলামত দেখে নানা সন্দেহ এবং রহস্যাবৃত বলে মনে হচ্ছে।

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, প্রেমঘটিত কোন কারণে পালিয়ে যাওয়াকে নিরাপদ করার জন্য রাজহাঁস জবাই করে এর রক্ত ঘরের বিভিন্ন স্থানে ছিটিয়ে এবং মাথার চুল, পায়ের নূপুর ইত্যাদি দেখিয়ে প্রকৃত ঘটনা আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, প্রকৃত ঘটনা আড়াল করতে বিভ্রান্ত করার জন্য রাজহাঁস জবাই করে রাখা হয়েছে কি না সেটিও খতিয়ে দেখা দরকার মনে করছেন কেউ কেউ।

Bootstrap Image Preview