Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৮ বৃহস্পতিবার, অক্টোবার ২০১৮ | ২ কার্তিক ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

শিক্ষার্থীদের জন্য কতটুকু কার্যকর ইন্টারেক্টিভ ডিজিটাল টেক্সটবুক?

বিডিমর্নিং : নুসরাত জেরিন নিশু
প্রকাশিত: ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৪:২৯ PM
আপডেট: ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১০:৪১ AM

bdmorning Image Preview


শিক্ষা ব্যবস্থা ডিজিটাল করতে প্রতিনিয়তই কাজ করে যাচ্ছে টিকিউআই, এনসিটিবি, এপিডি এবং  শিক্ষা মন্ত্রণালয় কিন্তু তারপরও অনেক ছাত্ররাই অবগত নয় তাদের গ্রহণকৃত কর্মসূচির ব্যাপার।

২০০৯ সাল থেকে সরকার বিনামূল্যে শিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য নানা ধরণের পদক্ষেপ নিয়ে যাচ্ছে। এর ভেতর ছিল শিক্ষার্থীদের হাতে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক তুলে দেওয়া, ডিজিটাল ক্লাসরুম, পাঠ্যক্রমে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বাধ্যতামূলককরণ, ডিজিটাল পাঠ্যপুস্তক তৈরি করা ইত্যাদি।

বর্তমানে ভিশন-২০২১ মাথায় রেখে সর্বশেষ নেয়া তাদের পদক্ষেপটি ছিল শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের উদ্যোগে, টিচিং কোয়ালিটি ইমপ্রুভমেন্ট(টিকিউআই) এবং এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের যৌথ অর্থায়নে এবং ব্র্যাক এর কারিগরি সহায়তায় এনসিটিবি এর পাঠ্যপুস্তকসমূহকে ইন্টারেক্টিভ ডিজিটাল টেক্সটবুকে রুপান্তরিতকরণ।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইন্সিটিউট মিলনায়তনে ষষ্ঠ শ্রেণির ১৬টি পাঠ্যপুস্তকের ইন্টারেক্টিভ ডিজিটাল টেক্সটবুক উদ্বোধন করেছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম। এর আগে ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে মাদ্রাসা বোর্ডের ষষ্ঠ শ্রেণির ৪ টি বই দিয়ে শুরু হয়েছিল এই কার্যক্রমটি।

এদিকে ২০১৩ সাল থেকেই এনসিটিবির ওয়েবসাইটে প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের সবকয়টি বইয়ের ডিজিটাল কপি সর্বসাধারণের জন্যে উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। এছাড়াও আছে শিক্ষক সহায়িকা  এবং প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের ই-লার্নিং ম্যাটেরিয়াল যাতে অভিভাবকরাও সাহায্য করতে পারে তাদের সন্তানদের। তাছাড়া বর্তমানে সপ্তম, অষ্টম ও নবম শ্রেণিরও ই-লার্নিং ম্যাটেরিয়াল তৈরির কাজ চলছে। কাজেই, এসডিজি-৪ এর লক্ষ্যমাত্রা মোতাবেক, একীভূত ও সামাঞ্জস্যপূর্ণ শিক্ষা নিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপটি পালন করবে অভূতপূর্ব ভুমিকা।

ডিজিটাল এবং ইন্টারেক্টিভ ডিজিটাল টেক্সটবুকের মূল পার্থক্য হচ্ছে, ডিজিটাল টেক্সটবুক শুধুমাত্র পাঠ্যপুস্তকের পিডিএফ সংস্করন কিন্তু ইন্টারেক্টিভ ডিজিটাল টেক্সটবুকে অডিও, ভিডিও, টেক্সট, রঙিন চিত্র এবং এনিমেশন ব্যবহার করে একটি পরিপূর্ণ অ্যাপ তৈরি করা হয়েছে যার মাধ্যমে কঠিন বিষয়গুলো  অনেক সহজেই বুঝতে পারবে শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে দিতে পারবে সাড়াও।

এক্ষেত্রে বাসায় বসেই তারা স্বশিক্ষা নিশ্চিত করতে পারবে। রয়েছে আরও অনেক সুবিধা। প্রত্যেকটি কঠিন ও দুর্বোধ্য বিষয়ের জন্য দেওয়া আছে হাইপার লিংক যেগুলোতে ব্যাখ্যা করা আছে শব্দগুলোর অন্তর্নিহিত উৎস এবং অর্থ। এছাড়াও, কেউ যদি তার পাঠ্যক্রমটি হারিয়ে ফেলে তবে সহজেই আবার ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করতে পারবে। সুতরাং, শিক্ষার পথে থাকছে না আর কোন বাধা।

কিন্তু এই পুরোটা চেষ্টাই বৃথা যাবে যদি শিক্ষার্থীরা সঠিক উপায়ে এই ম্যাটেরিয়ালগুলো কাজে লাগাতে না পারে। এখনও খুব কম শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরাই আছে যারা এই ব্যাপারে অবগত। ফলস্বরূপ এখনো কোচিং, গাইড, সাজেশনের কাছেই জিম্মি হয়ে আছে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা।

গত দুই বছরে কিছু অনলাইনে শিক্ষাতথ্যমূলক ভিডিওগুলোর দিকেও শিক্ষার্থীদের ঝোঁক বেড়েছে তবে সেগুলোতে দেওয়া তথ্যের যাচাই-বাচাই এবং প্রতিপাদনের ছিলনা কোন পথ। এখন পাঠ্যবইয়ের ভেতরেই সব উল্লেখ থাকায় এবং এর ইন্টারেক্টিভকরণের কারণে কোন উৎসটি বেশি নির্ভরযোগ্য তা বুঝতে পারবে শিক্ষার্থীরা।

এ বিষয়ে টিকিউআই এর সহকারি প্রোজেক্ট ডিরেক্টর ড. সুধাংশু রঞ্জন রায় বলেন, টিকিউআই-২ প্রকল্পটি শুরু হয় জুলাই ২০১২ সালে এবং এটি শেষ হবে ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮। প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পরপরই গণমাধ্যম এবং শ্রেণিশিক্ষকদের সহায়তায় শিক্ষার্থীদের ইন্টারেক্টিভ ডিজিটাল টেক্সটবুক সম্পর্কে অবগত করে দেওয়া হবে যাতে ছাত্ররা আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করতে পারে।

 

Bootstrap Image Preview