Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৫ শনিবার, ডিসেম্বার ২০১৮ | ১ পৌষ ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

নিরাপদ খাদ্যপ্রাপ্তি জনগণের সাংবিধানিক অধিকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১:১০ AM
আপডেট: ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১:২৭ AM

bdmorning Image Preview
সংগৃহীত


খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেছেন, নিরাপদ খাদ্যপ্রাপ্তি জনগণের সাংবিধানিক অধিকার। এটা নিয়ে এর আগে কোনো সরকার কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। বর্তমান সরকার জনগনের নিরাপদ খাদ্যপ্রাপ্তির জন্য আইন করেছে। আর এ সরকার জননগণের নিরাপদ খাদ্য প্রদানে সক্ষম হয়েছে।

আজ প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে আয়োজিত খাদ্যে ভেজাল বিরোধী অভিযান' প্রাতিষ্ঠানিক সংকট মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম এসব কথা বলেন। বৈঠকের শুরুতে অনুষ্ঠানের মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন বৈঠকের সভাপতি দেশইনফো.কম.বিডির সম্পাদক রাশেদ চৌধুরী।

মন্ত্রী আরো বলেন, বাংলাদেশ খাদ্য ঘাটতির দেশ ছিল। সেই জায়গা থেকে সরে এসে আজ আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পুর্ণ একটি দেশ। শুধু খাদ্যে ভেজাল করলে হবে না বরং খাদ্য ভেজাল থেকে কীভাবে রক্ষা পাওয়া যায় আমাদের সেই পন্থা অবলম্বন করতে হবে।

তিনি বলেন, এর জন্য আমাদের নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ নানা ধরণের প্রচারণা ও সচেতনতামূলক প্রামাণ্যচিত্র বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার করে থাকে শুধুমাত্র এই ভিডিওগুলো দেখলেও মানুষ অনেক বেশি সচেতন হতে পারবে। আমরা একেবারে উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ থেকে শুরু করে কীভাবে মানুষের খাবারের টেবিল পর্যন্ত নিরাপদ খাদ্য পৌছানো যায় সে ব্যাপারে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের দেশের বাইরে বিভিন্ন উন্নত দেশে মানুষ স্ট্রিট ফুড গ্রহণ করছে নির্ধিদ্বায়। আমাদের দেশেও খাবারের মান ওই পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমারা কাজ যাতে করে আমাদের দেশের মানুষও রাস্তার খাবার নির্ভয়ে খেতে পারে।

এ বিষয়ে বিএসটিআইয়ের সহকারি পরিচালক সিরাজুল হক বলেন, বিএসটিআই দেশের বিভিন্ন জেলায় ভেজাল সামগ্রী পেলেই অভিযান পরিচালনা করে থাকে।

তিনি বলেন, আমারা দেশের বিভিন্ন জায়গায় অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে সরাসরি কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারি না। আমাদের উক্ত জেলার ম্যাজিস্ট্রেটকে অভিযানের ব্যাপারে অভহিত করতে হয় এবং ম্যাজিস্ট্রেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তীতে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

তিনি আরো বলেন, বিএসটিআই ভেজাল খাদ্যদ্রব্যের ছোবল থেকে জনগণকে বাঁচাতে সব সময় সচেষ্ট রয়েছে।

নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাহফুজুল ইসলাম বলেন, আমাদের একার পক্ষে এই বিশাল সমস্যা সমাধান করা সম্ভব না। কেবল দেশের সকল মানুষ যখন আমাদের কাজের সাথে একত্বতা প্রকাশ করবে ও হাতে হাতে হাত রেখে কাজ করার জন্য বদ্ধ পরিকর থাকবে কেবল তখনই নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা সম্ভব। 

আর এই দূষণ রুখতে আমরা একটি পরীক্ষামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করেছি যেখানে তিনটি ক্যাটাগরিতে রেস্তোরাঁগুলোকে বিভক্ত করা হবে।যে রেস্তোরাঁগুলো সম্পুর্ণ নিরাপদ তাদের গায়ে সবুজ চিহ্ন দেওয়া হবে। যারা অপেক্ষাকৃত অনিরাপদ তাদের গায়ে হলুদ চিহ্ন দেওয়া হবে। আর যারা সম্পুর্ণ অনিরাপদ তাদের গায়ে লাল চিহ্ন দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, লাল ও হলুদ চিহ্ন দেওয়া রেস্তোরাঁগুলোকে সময় বেধে দেওয়া হবে। তারা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উন্নতি না করতে পারলে তাদের রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দেওয়া হবে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক খালেদা ইসলাম বলেন  ঢালাওভাবে খাদ্য ভেজাল বলে মানুষকে খাদ্য থেকে দূরে রাখা উচিত না। যেকোনো ফলমূল বা শাক-সবজি খাবারের ৩০ মিনিট পূর্বে ভালোভাবে লবণ পানি কিংবা সিরকায় ভিজিয়ে রাখলে খাদ্যে কোনো প্রকারের রাসায়নিকের উপস্থিতি থাকবে না।

তিনি আরও বলেন, বিএসটিআই এর জনবল বাড়াতে হবে। এই স্বল্প জনবল দিয়ে জনগণকে ভেজালমুক্ত খাবারের নিশ্চয়তা দেওয়া সম্ভব না।

Bootstrap Image Preview