Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৯ শুক্রবার, অক্টোবার ২০১৮ | ৪ কার্তিক ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বার্ষিক জরিপ-২০১৮ এর খসড়া তথ্য চূড়ান্ত

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৫:৪৬ PM
আপডেট: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৯:১৩ AM

bdmorning Image Preview


নিজস্ব প্রতিবেদক

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইনের উপস্থিতিতে ও ব্যানবেইসের উদ্যোগে বার্ষিক 'শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জরিপ ২০১৮ এর খসড়ার তথ্য চূড়ান্ত করেছে দেশ বরেণ্য শিক্ষকবৃন্দ এবং বিশেষজ্ঞরা।

আজ মঙ্গলবার (১৮ই সেপ্টেম্বর) বিকাল ৩ টায় বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) সম্মেলন কক্ষে বার্ষিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জরিপ (এইএস) ২০১৮ এর জন্য প্রস্তুতকৃত খসড়া তথ্য চূড়ান্তকরণের নিমিত্তে একটি কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানটিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. অরুণা বিশ্বাস, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব একে. এম. জাকির হোসেন ভুঞা এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোঃ মাহবুবুর রহমান।

প্রতি বছর কয়েকটি ধাপে ব্যানবেইস এই জরিপটি করে থাকে। প্রথমে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিষ্ঠান প্রধান এবং স্টেকহোল্ডারদের অংশগ্রহণ ও মতামতের ভিত্তিতে জরিপের প্রশ্নমালা চূড়ান্ত করা হয়। জরিপের আওতাভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রশ্নমালা পূরণের মাধ্যমে জরিপে অংশগ্রহণ করতে বলা হয়। পরবর্তীতে, ট্যাবুলেসন পরিকল্পনার মাধ্যমে ডাটাগুলো উপস্থাপন করা হয়। তারপর আরেকটি কর্মশালার মাধ্যমে প্রাপ্ত মতামতের ভিত্তিতে খসড়া প্রতিবেদনে নানাবিধ সংযোজন ও সংশোধন করা হয়। সর্বশেষে, চূড়ান্ত প্রতিবেদনটি মুদ্রণ করে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহ, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং জেলা ও উপজেলা শিক্ষা অফিসগুলোতে প্রেরণ করা হয়। এই বছর পোস্ট-প্রাইমারি স্তরের ৪১৩১৪ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে জরিপের আওতাভুক্ত করা হয়।

প্রধান অতিথি সোহরাব হোসাইন বলেন, ব্যানবেইসের কাজ শুধুমাত্র শিক্ষা জরিপ করা। সকল ধরনের জরিপ সংগ্রহ করা আমাদের কাজ নয়। তার জন্য আরও অনেক মন্ত্রণালয় আছে। প্রায়ই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের বদনামের ভয়ে সততার সাথে জরিপটি যাচাই-বাচাই করে না। তাই এবার, জরিপের সত্যতা যাচাই করতে ব্যানবেইসের বহিরাগত বিশেষজ্ঞদের নিয়ে আলাদা একটি কমিটি গঠন করা হবে।

তিনি আরও বলেন, সারা বিশ্বে এখন তথ্যকেন্দ্রিক সিদ্ধান্ত প্রচলিত। তাই বিশ্ব দরবারে ব্যানবেইসের বিশ্বস্ততা বজায় রাখা বাঞ্ছনীয়। কাজেই, আপনাদের মন্তব্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ, আমার বক্তব্য নয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. অরুণা বিশ্বাস বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেন, আমরা যখনই কোন আন্তর্জাতিক মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে যাই তখনই ব্যানবেইসের করা জরিপের উপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু দুঃখজনক হচ্ছে, প্রায়ই আমরা সকল বিষয়ভিত্তিক তথ্য এখানে পাই না। তাই বাধ্য হয়ে বিভিন্ন বিদেশী অথবা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের করা জরিপের সাহায্য নিতে হয় আমাদের

তিনি আরও বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের বাৎসরিক আয়ের উৎস কখনই দেখাতে চায় না। এমনকি অনেক প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীর অনুপাতও তাদের অজানা।

এই বছর ব্যানবেইসের মহাপরিচালক মোঃ ফসিউল্লাহ'র সভাপতিত্বে প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক শিক্ষা, নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ-মাধ্যমিক, টেকনিক্যাল, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ এবং বিভিন্ন বেসরকারি সমাজকল্যাণ সংস্থার প্রতিনিধিরা তাদের মতামত এবং সংশোধনি তুলে ধরেছেন। এবারের জরিপে এসডিজি-৪ লক্ষ্যমাত্রা মাথায় রেখে উন্নয়নের জন্য যে সকল শিক্ষাতথ্য জরিপে থাকা অত্যাবশ্যক সে ব্যপারে মন্তব্য করেন উপস্থিত বিশেষজ্ঞেরা।

টিচার্স ট্রেনিং কলেজের সাবা জানিয়েছেন, তাদের জন্য আলাদা কোন কলাম জরিপটিতে উল্লেখ করা হয়নি এবং তাদের সকল বিষয় ও নথিভুক্ত নেই এতে।

অন্যদিকে, মোট ১২ ধরনের প্রতিবন্ধী শিশুদের জরিপটি করার আগে বাংলাদেশ অটিজম সেল এর সাথে মিলিয়ে নিতে হবে যেন পরিসংখ্যানটি যথার্থ হয়।

গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাই স্কুলের বড় শিক্ষক আব্দুল খালেক বলেছেন, শিক্ষকদের পি ডি এস নম্বর এবং বিভিন্ন কার্যক্রমের জন্য বিদ্যালয়গুলো পৌরসভায় কত টাকা খরচ করছে সেই বিষয়ে জরিপে উল্লেখ করা থাকতে হবে।

ঢাকা ইউনিভার্সিটির প্রফেসর ড. এস এম হাফিজুর রাহমান তার মতামতে বলেছেন, ইউনিভার্সিটি র‌্যাংকিং এর ক্ষেত্রে যেই ক্রাইটেরিয়াগুলো আছে তার সাথে সামাঞ্জস্য রেখে জরিপটি করলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিজস্ব অবস্থান এবং তার কারন হিসেবে পূর্ণ ধারণা থাকবে।

এছাড়াও তিনি বলেন, শিক্ষকদের গবেষণা খাতে কোন প্রতিষ্ঠান ঠিক কত টাকা ব্যয় করছে সেটাও জানা দরকার। পাশাপাশি, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সান্ধ্যকালীন বিষয়গুলোতে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীর সংখ্যাও জরিপে থাকতে হবে।

অশোক কুমার বিশ্বাস বলেন, নানাবিধ জরিপের পাশাপাশি একটি প্রতিষ্ঠানের মাদকমুক্ততা, পর্যাপ্ত পরিমাণে বৃক্ষ রোপণ, নবপ্রবর্তন মেলা, দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণ, সাংস্কৃতিক চর্চার হার প্রভৃতি সম্পর্কিত তথ্য এখানে অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে। এগুলোই প্রকৃত পক্ষে একটি জাতির উন্নয়ন চিহ্নিত করে বলে মনে করছেন তিনি।

উল্লেখ্য মোঃ ফসিউল্লাহ জানান, শীঘ্রই এই জরিপটি যেন সকল শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীর জন্য সহজলভ্য হয় সেই স্বার্থে অন লাইনে ডাটাবেস এবং আলাদা আইডি তৈরি করে এটি সকলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। অক্টোবরের ১ থেকে ১০ তারিখ পর্যন্ত এই জরিপের তথ্য সংগ্রহের কাজ চলবে।

Bootstrap Image Preview