Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৮ বৃহস্পতিবার, অক্টোবার ২০১৮ | ২ কার্তিক ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

ঢাকার রাস্তায় সুশৃঙ্খল হয়নি মোটরসাইকেল

আসাদুল্লা লায়ন
রিপোর্টার
প্রকাশিত: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৩:০২ PM
আপডেট: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৩:১৭ PM

bdmorning Image Preview
রাজধানীর বাংলামটর মোড় এলাকার মঙ্গলবার বিকেলের ছবি : বিডিমর্নিং


একটু ফাঁকা পেলেই হুঁট করে দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। সিগনাল, লেন, কিংবা সরু পথে কমতি নেই বেপরোয়া গতির। গলি থেকে মহাসড়ক কোথাও নেই তাদের সুশৃঙ্খল যাতায়াত। ঢাকার রাস্তায় মোটরসাইকেলের শৃঙ্খলা এখনো ফেরেনি।

রাজধানীতে নিরাপদ সড়কের দাবিতে ছাত্রদের আন্দোলনের পর থেকে সবধরণের পরিবহনগুলো কে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছে পুলিশ। তবে এখনো মোটরসাইকেল চালকদের শতভাগ নিয়ন্ত্রনে আনতে না পারার কারণ হিসেবে তাদের অসচেতনতাকেই দায়ি করছে পুলিশ। তবে চালকদের মতে তারা আগের চাইতে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে।

মঙ্গলবার(১৮ সেপ্টেম্বর) বেলা ৩টায় রাজধানীর গুরুত্বপুর্ন এলাকা ঘুরে মোটর সাইকেল চলাচলের এমন চিত্র লক্ষ্য করা গেছে। তবে পুলিশের ব্যাপক সক্রিয়তাও লক্ষ করা গেছে। সাথে মাসব্যাপী স্বেচ্ছাসেবকদেরও তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা আনতে পুলিশের ট্রাফিক কর্মসূচিতে যুক্ত রয়েছে স্কাউট, গার্লস গাইড, বিএনসিসি ও রেডক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবীরা।

এসব শিক্ষার্থী রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি ট্রাফিক নিয়ম-কানুন সম্পর্কে পথচারীদের সচেতন করছে। পাশাপাশি মোটরসাইকেল চালকদেরও ব্যপকভাবে নিয়ম মানতে সচেতন করে যাচ্ছে তারা। তবে তারা বলছেন ট্রাফিক আইন না মানা যেন মানুষের স্বভাবসুলভ আচরণ হয়ে গেছে।

দুপুর ২টা বেজে ১০ মিনিট, রাজধানীর বাংলামটর এলাকার মোড়ে কঠোরভাবেই চলেছিলো ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের কাজ। শাহবাগমুখী পরিবহনগুলোকে সংকেত দেওয়ার পরই তারা জেব্রাক্রসিং এর পাশে থেমে যায়। তবে একাধিক মোটরসাইকেল ট্রাফিক সিগনাল অমান্য করেই দ্রুত গতিতে চলতে থাকে, ট্রাফিক কনস্টেবলের ইশারাও তারা মনলো না। বাকি মোটরসাইকেলগুলো জেব্রা ক্রসিং ওভারটেক করে একেবারে সামনে গিয়ে দাঁড়ালো। উল্টো দিক থেকে আসা গাড়িগুলো রাস্তা পার হচ্ছিলো সাথে মোটরসাইকেল চালকরা একটু ফাঁক পেয়েই দলবেঁধে এগিয়ে গেলো। তবে পুলিশ কনস্টেবল দর্শকের ভুমিকায় দেখেই যাচ্ছিলো এমন সব বেপরোয়া চিত্র।

শুধু বাংলামটর এলাকায় নয় শাহবাগ, কারওয়ানবাজার, ফার্মগেট, বিজয় সরণিসহ রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন পয়েন্ট গুলোতে আজ বিকেল পর্যন্ত ঘুরে এমন চিত্র লক্ষ করা গেছে। তবে আগের তুলনায় অনেকটা নিয়ন্ত্রণে চলে আসছে বেপরোয়াভাবে ও নিয়ম না মেনে মোটরসাইকেল চালানো।

বর্তমানে ৬০/৭০ ভাগ মোটরসাইকেলের উভয় আরোহী হেলমেট ব্যাবহার করছে। এছাড়া লাইসেন্স ছাড়া মোটরসাইকেল চালকের সংখ্যা কমে এসেছে শতকরা ১০ ভাগে। তবে ৫০ ভাগ মোটর সাইকেল আরোহী ট্রাফিক নিয়ম মানছে না এখনো বলে ট্রাফিক সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।

দায়িত্বরত এক পুলিশ কনস্টেবল বিডিমর্নিংকে বলেন, তাদেরকে (মোটরসাইকেল চালক) কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হচ্ছে না। সিগনাল মানতেই চায় না। আটক করলে বলে প্রথমবার এর পর আর হবে না, কিন্ত এভাবে আর তাদের নিয়ম ভঙ্গ চলতেই থাকে। আমাদের প্রচেষ্টায় আগের চেয়ে অনেকটা মানতে বাধ্য হচ্ছে তারা।

পুলিশের এমন বক্তব্য অস্বীকার করে মোবাইল এ্যাপস ভিত্তিক (উবার) মোটরসাইকেল চালক রিয়াজ উদ্দিন হানিফ বিডিমর্নিংকে বলেন, আমরা শতভাগ ট্রাফিক নিয়ম মেনেই মোটরসাইকেল চালাই। নিয়ম ভঙ্গ করার কোনো সুযোগ নেই। একটু ভুল করলেই মামলা দেওয়া হচ্ছে। আর আগে হেলমেট চালকেই সীমাবদ্ধ ছিলো কিন্ত বর্তমানে উভয়েই হেলমেট ব্যাবহার করে থাকি।

ওভাই নামক এ্যাপস ভিক্তিক মোটরসাইকেল চালক রাজু বলেন, আমি নিয়ম মেনেই চালাই তবে কিছু চালক খুব দ্রুত গতিতে চালিয়ে থাকে। আগে আমাদের মধ্যে একটু নিয়ম না মানার হিড়িক থাকলে বর্তমানে তা কমে এসেছে। এছাড়া আমরা বেপরোয়া গতিতে চালাই না।

ট্রাফিক দক্ষিন বিভাগে কর্মরত সার্জেন্ট মো: ফরহাদ আহমেদ বিডিমর্নিংকে বলেন, মোটরসাইকেল চালকরা আগের চাইতে অনেকটা সুশৃঙ্খল। তবে এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি পুলিশের চাপেই অনেকটা বাধ্য হয়ে যতটুকু মানছে, তবে সচেতনতা ফেরেনি তাদের মাঝে। বড় পরিবহনগুলো আমাদের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে চলে আসলেও মোটরসাইকেল চালকদের এখনো শতভাগ নিয়ন্ত্রণে আসেনি।

তিনি বলেন, আমরা প্রতিটি গাড়ি জেব্রাক্রসিং পর্যন্ত রাখি কিন্ত মোটর সাইকেল চালকরা এটা মানছে না। আমরা তাদেরকে প্রতিনিয়ত তাগাদ দিয়েই যাচ্ছি, আইনগত ব্যাবস্থাও নিয়ে যাচ্ছি কিন্ত তারা মানছে না।  এছাড়া বেপরোয়াাভাবে তো চলছেই। ট্রাফিক নিয়ম নিয়ে তাদের নিজেদের সচেতন হতে হবে সবার আগে।

Bootstrap Image Preview