Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৯ শুক্রবার, অক্টোবার ২০১৮ | ৪ কার্তিক ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

বেনাপোল সীমান্ত স্বর্ণ চালানের নিরাপদ রুট!

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০২:৫৩ PM
আপডেট: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০২:৫৩ PM

bdmorning Image Preview


শহিদুল ইসলাম, বেনাপোল প্রতিনিধি।।

দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল এখন চোরাকারবারীরা স্বর্ণ পাচারের নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার করছে। বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে ইমিগ্রেশন কাস্টম এর অনিয়ম ও দুর্নীতিকে কাজে লাগিয়ে পাসপোর্ট যাত্রীরা সীমান্ত পথে ভারতে পাচার করছে স্বর্ণের বড় চালান।

জানা যায়, গত এক বছরে ভারতে পাচারের সময় বেনাপোল চেকপোস্ট ও সীমান্ত এলাকা থেকে ১১৮ কেজি স্বর্ণ আটক করেছে কাস্টম শুল্ক গোয়েন্দা ও বিজিবি সদস্যরা।

চোরাকারবারীরা এখন স্বর্ণ পাচারের নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার করছে বেনাপোল চেকপোস্ট ও সীমান্ত পথ। এ পথে ভারতের সাথে ৭০ কিলোামিটার সীমান্ত এলাকা রয়েছে। এর মধ্যে পুটখালী, দৌলতপুর, সাদিপুর, গাতিপাড়া ও রঘুনাথপুর,শিকার পুর শিকড়ী সীমান্ত দিয়ে স্বর্ণ ভারতে পাচার হয়ে থাকে।

গত ১ বছরে এ সীমান্ত পথে ভারতে পাচার হওয়ার সময় ৪৯ বিজিবি সদস্যরা ৯৩ কেজি ৫০০ গ্রাম স্বর্ণসহ ১১ জন চোরাকারবারীকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে। যার মূল্য ৪৫ কোটি টাকা বলে বিজিবি জানান। এ সময়ে ২১ বিজিবি সদস্যরা তাদের আওতাভুক্ত তিনটি সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২৫ কেজি স্বর্ণসহ চারজন চোরাকারবারী আটক করলেও প্রকৃত ব্যবসায়ীরা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। আর এসব কারণে এ সীমান্ত পথে বন্ধ হচ্ছে না স্বর্ণ চোরাচালান।

বেনাপোল থেকে কলকাতার দূরত্ব ৮৪ কিলোমিটার। কম সময়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাওয়া যায় বলে চোরাকারবারীরা স্বর্ণ নিয়ে পাসপোর্ট যাত্রী হিসেবে ভারতে যাচ্ছে। এ চেকপোস্টে পাসপোর্ট যাত্রীর ল্যাগেজ তল্লাশির গত এক বছরে বেনাপোল চেকপোস্ট থেকে ভারতে স্বর্ণ পাচারের সময় বেনাপোল কাস্টম শুল্ক গোয়েন্দা সদস্য ৮ কেজি ২০০ গ্রাম স্বর্ণ আটক করেছেন। তবে যারা আটক হচ্ছেন তারা স্বর্ণ বহনকারী। প্রকৃত চোরাকারবারীরা আটক না হওয়ায় চোরাকারবারীরা তাদের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। কম সময়ে অধিক লাভবান হওয়ায় বিভিন্ন পেশার মানুষেরা এ ব্যবসার সাথে জড়িয়ে পড়ছে। মাঝে মাঝে প্রশাসনের হাতে ধরা পড়লেও মূল ব্যবসায়ীরা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

যশোর ৪৯ বিজিবির কমান্ডিং অফিসার লেঃ কর্নেল আরিফুল হক বলেন, সীমান্ত চোরাচালান বন্ধ করার জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। বেনাপোল চেকপোস্ট এলাকায় নজরদারী বাড়ানো হয়েছে।

খুলনা ২১ বিজিবির ভারপ্রাপ্ত কমান্ডিং মেজর সৈয়দ মোঃ সোহেল আহম্মেদ বলেন, অফিসার নানা সীমাবদ্ধতা থাকলেও সীমান্তে চোরাচালান বন্ধ করার জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। পুটখালী সীমান্তে ৮ কিলোমিটার ক্রাইম ফ্রি জোন ঘোষণা করা হয়েছে। গত ১ বছরে ভারতে পাচারের সময় পুটখালী সীমান্ত থেকে ২৫ কেজি সোনাসহ চারজনকে আটক করা হয়ছে।

Bootstrap Image Preview